শান্তিগঞ্জে রাধামাধবের আখড়া
অবহেলায় পড়ে আছে তিনশ বছরের পুরনো স্থাপনা
- আপলোড সময় : ২৬-০১-২০২৬ ০৯:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০১-২০২৬ ০৯:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি ::
নানা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ শান্তিগঞ্জ উপজেলা। নয়নাভিরাম হাওরের দৃশ্য, প্রাচীন স্থাপনা ও মোঘল আমলের নিদর্শনের কারণে এই উপজেলার ঐতিহ্য দেশব্যাপী পরিচিত। অথচ দুঃখজনকভাবে শান্তিগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা- ‘রাধামাধবের আখড়া’ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অযতেœ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের তালুকগাঁও গ্রামে অবস্থিত প্রায় তিনশ বছরের পুরনো এই উপাসনালয়টি স্থানীয়ভাবে রাধামাধবের আখড়া এবং ইসকন মন্দির নামে পরিচিত। একসময় যেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের তালে কীর্তনের আয়োজন হতো, আজ সেখানে বিরাজ করছে নীরবতা ও পরিত্যক্ত অবস্থা।
সংস্কারের অভাবে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দিন দিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের একাধিক ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। একসময় মন্দিরের ভেতরে রাধামাধবের মূর্তিসহ বহু মূল্যবান ধর্মীয় সামগ্রী থাকলেও ক্ষতির আশঙ্কায় সেগুলো বর্তমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরে পূজা, অর্চনা কিংবা কীর্তন বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আখড়াটির দেখভাল বর্তমানে ইসকন সম্প্রদায়ের দায়িত্বে থাকলেও প্রয়োজনীয় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রায় তিনশ বছরের পুরনো এই স্থাপনাটি প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন হওয়ার যোগ্য হলেও এখনো সরকারের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের নজরে আসেনি।
রাধামাধব আখড়ার দায়িত্বরত ও ভক্ত অনুরাগীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখনই যদি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে অচিরেই এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা অবিলম্বে মন্দিরটিকে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, পাথারিয়ার রাধামাধবের আখড়া শুধু একটি উপাসনালয় নয়, এটি শান্তিগঞ্জ উপজেলা তথা সুনামগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হলে এটি ধর্মীয় ও পর্যটন - উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শুধু রাধামাধবের আখড়াই নয়, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এ ধরনের আরও বহু প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে, যেগুলোর কোনো যথাযথ মূল্যায়ন বা সংরক্ষণ নেই। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগুলো। সংশ্লিষ্ট মহলের উদাসীনতা কাটিয়ে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সক্রিয় উদ্যোগই পারে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে - এমনটাই মনে করছেন সচেতনমহল।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি