শহীদনূর আহমেদ ::
বোরো মৌসুমের শুরুতেই সেচের অভাবে ফেটে চৌচির সুনামগঞ্জের খরচার হাওরের উজান এলাকার ফসলি জমি। রাতের আঁধারে সেচ পাম্প বসিয়ে খাল শুকিয়ে মাছ ধরছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অসময়ে হাওরের প্রাকৃতিক পানির উৎস শুকিয়ে ফেলায় বিপাকে পড়েছেন খরচার হাওরপাড়ের কৃষকরা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবৈধভাবে খাল শুকানো বন্ধ না হলে কৃত্রিম সেচ সংকটের কারণে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় চাষীরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বোরো ফসলের ভা-ার হিসেবে পরিচিত খরচার হাওর। এই হাওরে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষবাদ হয়। হাওরের উজান এলাকায় বৃহৎ অংশের জমির চাষাবাদের জন্য খরচার খালের পানিই একমাত্র প্রাকৃতিক উৎস। সম্প্রতি একটি অসাধু চক্র খরচার খালে তাদের কালো থাবা বসিয়েছে। প্রতি রাতে সেচ পা¤প বসিয়ে লুট করে নিচ্ছে খালের মাছ। ইতোমধ্যেই খালের প্রায় ১ কিলোমিটারের বেশি এলাকা শুকিয়ে ফেলা হয়েছে। খালের অবশিষ্ট অংশ শুকিয়ে ফেলার পাঁয়তারা করছে চক্রটি। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খরচার খাল স্থানীয় রঙ্গলাল মৎস্যজীবী সমিতি ইজারা নিয়ে বৈধ পন্থায় নীতিমালা অনুযায়ী ভোগ করে আসলেও চলতি বছরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ফসলি জমিতে পানি দেয়ার নাম করে খালটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। সম্প্রতি হাওরের কৃষক চাষাবাদে ব্যস্ত থাকায় রাতের আঁধারে শত শত উশৃঙ্খল লোক দিয়ে খাল শুকিয়ে মাছ লুট করে নিচ্ছে। খাল শুকানো ও মাছ লুটের নেতৃত্বে জগাইরগাঁওয়ের আবুল কাশেম, জাহিদ হোসেন, আলী আকবর, মোহাম্মদ হোসেন, কামারটুক গ্রামের ইকবাল, রুয়েল, আজিজ, শাহজাহান, বড়ঘাট গ্রামের রিজভি, জসীম উদ্দিন জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে খাল শুকিয়ে ফেলায় হাওরের উজান এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। অসময়ে খাল শুকিয়ে ফেলায় পানির অভাবে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে শত শত বিঘা ফসলি জমি। সেচের সংস্থান না হওয়ায় মহাবিপাকে কৃষকরা।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, বিগত বছরগুলোতে ফালগুন মাস পর্যন্ত খরচার খালের পানি সেচের কাজে ব্যবহার করতে পারতেন তারা। এবার মৌসুমের শুরুতেই খালের পানি সেচ পাম্প দিয়ে শুকিয়ে ফেলা হয়েছে। হাওরের তীরবর্তী কামারটুক, বড়ঘাট ও জগাইরগাঁও এলাকার একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে পানি শুকিয়ে মাছ লুট করার পাশাপাশি এলাকায় নৈরাজ্য চালাচ্ছে। অবৈধ পন্থায় মাছ লুট ও খাল শুকিয়ে ফেলায় উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা। শনিবার সরেজমিনে খরচার খালে গিয়ে দেখাযায়, একাধিক সেচপাম্প স্থাপন করা হয়েছে খালে। খালের এক তৃতীয়াংশ শুকিয়ে ফেলা হয়েছে। অবশিষ্ট খালের অংশ শুকাতে ভসানো হয়েছে খাটিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী এক মৎস্যজীবী জানান, সন্ধ্যার পর পর সেচ পাম্প বসিয়ে খালের পানি অপসারণ করা হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ খাল শুকানোর পর রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে মশাল জ্বালিয়ে মাছ ধরা হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই খাল এলাকা থেকে সটকে পড়েন মাছ লুট চক্রের সদস্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে অবৈধ পন্থায় খাল শুকানো প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। তিনি বলেন, সেচ পাম্প বসিয়ে খাল শুকানোর সুযোগ নেই। আমরা জানতে পেরেছি খরচার হাওরের কিছু লোক রাতের আঁধারে খাল শুকিয়ে মাছ লুট করছে। বিষয়টি শোনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি সরেজমিনে গিয়ে সেচপাম্প জব্দ করার জন্য। প্রয়োজনে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
পানির অভাবে ফসলি জমি ফেটে চৌচির
খরচার হাওরে খাল সেচে মাছ লুট
- আপলোড সময় : ২৫-০১-২০২৬ ০৮:৫৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০১-২০২৬ ০৮:৫৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ