সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি

হাওরে পরিযায়ী পাখির দেখা নেই

  • আপলোড সময় : ২৪-০১-২০২৬ ০৯:০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০১-২০২৬ ০৯:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
হাওরে পরিযায়ী পাখির দেখা নেই
মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ ::
নলখাগড়া, চাইল্যা বন, হিজল-করচসহ নানা প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, মাছ ও পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাত বিশ্ব রামসার হেরিটেজ সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হিসেবে পরিচিত তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার আংশিক এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই হাওরে শীত এলেও এবার দেখা মিলছে না পরিযায়ী পাখির। সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরুতেই ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত হয়ে উঠত টাঙ্গুয়ার হাওর। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আশানুরূপভাবে পরিযায়ী পাখির দেখা মিলছে না। এবছর শীত মৌসুমেও পাখির উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য। ফলে পাখির কলরবে মুখরিত হওয়ার পরিবর্তে নীরব ও ফাঁকা পড়ে আছে হাওরপাড়। সচেতন ব্যক্তিদের মতে, অতীতে নির্বিচারে পাখি শিকারই পরিযায়ী পাখি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই বছর ধরে পাখি শিকার অনেকাংশেই বন্ধ হয়েছে। সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিশেষ নজর দেন। তাঁর নির্দেশনায় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদ- প্রদান করা হয়। ফলে বর্তমানে টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখি শিকার নেই বললেই চলে। স্থানীয়রা আরও জানান, কয়েক বছর আগেও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও জেলা সদরে প্রকাশ্যে ও গোপনে পরিযায়ী পাখি বিক্রি হতো। বর্তমানে সে দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। একসময় দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আবাসন সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশ-বিদেশের জীববৈচিত্র্যপ্রেমী পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখি দেখতে আসতেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটক তো দূরের কথা, দেশীয় পর্যটকের উপস্থিতিও খুবই সীমিত। উল্লেখ্য, প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রতিবছর শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তুষারপাত ও শৈত্যপ্রবাহ এড়াতে পরিযায়ী পাখিরা এখানে আশ্রয় নিত। খাবারে সমৃদ্ধ এই হাওর তাদের দীর্ঘ উড়াল শেষে নতুন প্রাণশক্তি জোগাত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে ১ হাজার ৮৫৫ প্রজাতি পরিযায়ী। একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখির উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে ৯৮ প্রজাতি পরিযায়ী, ১২১ প্রজাতি দেশি ও ২২ প্রজাতির হাঁসজাতীয় পাখি। উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে ছিল বিরল প্যালাসেস ফিশিং ঈগল, মৌলভী হাঁস, পিয়ারী, কাইম, রামকুড়া, মাথারাঙ্গা, বালিহাঁস, লেঞ্জা, চোখাচোখি ও বেগুনি কালেম। বর্তমানে এসব পাখির উপস্থিতি নেই বললেই চলে বলে জানান টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা ও উন্নয়নকর্মী খসরুল আলম। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আহমদ কবির জানান, গত দুই বছর ধরে শীত মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরে বিদেশি পর্যটকের আগমন একেবারেই বন্ধ। দেশীয় পর্যটকের সংখ্যাও নগণ্য। তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা হাজি খসরুল আলম বলেন, ৪-৫ বছর আগে এক শ্রেণির অসাধু পাখি শিকারি ও ব্যবসায়ীর কারণে হাওরে পাখির সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে হাওরের হিজল-করচ, নলখাগড়া ও চাইল্যা বনও প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবে ইতিবাচক দিক হলো- গত বছর থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরের কোর ও বাফার জোনে সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। এই নজরদারি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবার পাখির আগমন বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে সরকার বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পর্যটন শিল্প বিকাশে সর্বোচ্চ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর