সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
পথ্য সরবরাহের দরপত্রে অনিয়ম, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার নির্দেশ স্বাস্থ্য বিভাগের
- আপলোড সময় : ২১-০১-২০২৬ ১০:৪৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০১-২০২৬ ১০:৪৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি ::
দরপত্রে প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণের সুযোগ না রেখে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের পথ্য সরবরাহের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা মানার নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক। গত ১৮ জানুয়ারি সংক্ষুব্ধ দুটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওইদিনই সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমানকে এই নির্দেশনা দেন।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের বাৎসরিক পথ্য সরবরাহের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান গত ৬ জানুয়ারি দরপত্র আহ্বান করেন। এতে মেসার্স সামিয়া এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স হোসেন আহমদ এন্টারপ্রাইজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। দরপত্রে ওইদিনই দরপত্র বন্ধ ও খোলাসহ পে-অর্ডার জমাদানের তারিখ উল্লেখ ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই এটি বাতিল করে রিটেন্ডার করা হয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজেদের পছন্দের কোনও প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের জন্য না পাওয়ায় প্রথম দরপত্রটি বাতিল করে ১১ জানুয়ারি রিটেন্ডার করা হয়। তবে অংশগ্রহণকারী অন্য দরপত্রদাতাদের চোখে ধুলো দিয়ে দরপত্র জমা ও খোলার সময় ঠিক রাখলেও পে-অর্ডার জমার সময় ৩দিন এগিয়ে গত ৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টা সময় বেধে দেওয়া হয়।
বর্তমান পথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্টানসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই সূক্ষ্ম বিষয়টি এড়িয়ে প্রথম দরপত্র বা দরপত্রের স্বাভাবিক নিয়মে সিকিউরিটির মানি প্রদানের ১১ জানুয়ারি দিতে গেলে পে-অর্ডারের সময় চলে গেছে বলে তাদের বিদায় করে দেয়া হয়। এতে হবিগঞ্জ জেলার একমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই কাজ পাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। জানা গেছে, দরপত্রের এই সূক্ষ্ম কারচুপির বিষয়টি টের পেয়ে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছে গত ১৮ জানুয়ারি লিখিত আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পথ্য সরবরাহে ‘স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা’র জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান।
অভিযোগকারী বর্তমান পথ্য সরবরাহকারী হোসেন আহমদ বলেন, কোনও কারণ ছাড়াই ৬ তারিখের দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র করা হয়েছিল। বরাবর সিকিউরিটি মানির পে-অর্ডারের সময় একই দিনে অফিস চলাকালীন সময় পর্যন্ত থাকে। কিন্তু রিটেন্ডারে পেঅর্ডারের সময় ৩দিন এগিয়ে সকাল সাড়ে ১১টা সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল। এটি সূক্ষ্ম প্রতারণা। মূলত প্রতিযোগিতা ছাড়া একক প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতেই একটি সিন্ডিকেট এই প্রতারণা করে অংশগ্রহণকারীদের বঞ্চিত করেছে। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছি।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমানকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, অফিসের এসব বিষয় জানলেন কিভাবে? অফিসে আসেন এ নিয়ে কথা বলবো - বলে তিনি ফোনকল কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল ধরেননি।
সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান বলেন, সরকারি কাজে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুসরণ করার জন্য আমি লিখিত পত্র দিয়েছি। এককভাবে প্রতিযোগিতা ছাড়া এভাবে কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের লিখিত আহ্বান জানিয়েছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি