নির্বাচন নিরপেক্ষ হোক
- আপলোড সময় : ২১-০১-২০২৬ ০২:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০১-২০২৬ ০২:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তর থেকে যে স্পষ্ট বার্তা আসছে, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের দৃঢ় ঘোষণা- আসন্ন নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ - গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রত্যাশাকে নতুন করে শক্তি জোগায়। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য, নির্বাচনে প্রশাসন কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না - এই আশ্বাস রাজনৈতিক আস্থার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ইতিহাস সুখকর নয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রশাসনিক পক্ষপাত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় বহু নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা ও সৈনিকদের পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের যে নির্দেশনা এসেছে, তা কেবল বাহিনীর জন্য নয় - রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক মানদ- হিসেবেও বিবেচিত হওয়া উচিত।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, ডগ স্কোয়াড, ড্রোন, সিসিটিভি, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ঘোষণা সরকারের প্রস্তুতির পরিচায়ক। তবে স্মরণ রাখতে হবে- প্রযুক্তি ও বাহিনীর সংখ্যা নয়, বরং তাদের নিরপেক্ষ প্রয়োগই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আরেকটি গুনত্বিপূর্ণ দিক হলো- নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার প্রত্যয়। এটি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি শ্রদ্ধার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। একইসঙ্গে উসকানি, গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংযমী থাকার আহ্বান বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্যে “জনগণ হবে অডিটরের মতো” - এই উপমা গণতন্ত্রের মূল দর্শনকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল সরকার গঠন নয়, বরং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার ভিত শক্ত করাই হওয়া উচিত চূড়ান্ত লক্ষ্য।
তবে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার মিলই শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের বিচার্য হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া কোনো নির্বাচনই সত্যিকার অর্থে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দেশবাসী আজ আর প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর নিরপেক্ষতা দেখতে চায়। এই নির্বাচন যদি সত্যিই ভয়মুক্ত, সহিংসতাহীন ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে তা শুধু একটি সফল নির্বাচনই নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই প্রত্যাশাই আজ জাতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়