সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ , ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘হ্যাঁ’-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে : প্রধান উপদেষ্টা শহর থেকে গ্রাম-গণভোটের বার্তায় মুখর সুনামগঞ্জ ভোট হবে নিরপেক্ষ : সেনাপ্রধান পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি চীনের সম্মতির অপেক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা : উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত নাসির-কামরুলে ভরসা রাখলো বিএনপি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই ভাই দোয়ারাবাজারে প্রশাসনের দোহাই দিয়ে সড়কে চলাচলে টাকা উত্তোলন দোয়ারাবাজারে পুলিশের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ছিনতাই ফসলরক্ষা বাঁধে ঢের বরাদ্দ, ভাঙন কম, অক্ষত মাটি, লুটপাটের শঙ্কা প্রতিটি অন্যায়ের বিচারের জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক সরকার : তারেক রহমান সুনামগঞ্জে নারীদের অংশগ্রহণে গণভোটের অবহিতকরণ সভা ও সেলাই মেশিন বিতরণ অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশ খোশ মেজাজে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনে যাবে না ইসলামী আন্দোলন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে সুনামগঞ্জের প্রাণভোমরা বাঁধের কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দিলেন জেলা প্রশাসক ছাতকে কৃষকের খড়ের গাদায় দুর্বৃত্তদের আগুন, দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

সুরমা নদীকে বাঁচান

  • আপলোড সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০৮:৪১:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০৮:৪১:৫৬ পূর্বাহ্ন
সুরমা নদীকে বাঁচান
সুনামগঞ্জের প্রাণভোমরা সুরমা নদী আজ অস্তিত্বের ভয়াবহ সংকটে। এক সময় যে নদী ছিল স্বচ্ছ জলধারায় ভরপুর, খরস্রোতা ও জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ - আজ সেই নদী ময়লা-আবর্জনা, মানববর্জ্য, অবৈধ দখল ও ভরাটের চাপে ধুঁকছে। প্রকৃত অর্থেই বলা যায়, সুরমা এখন আর নদী নয়, এ যেন একটি নির্জীব, দূষিত জলাধারে পরিণত হওয়ার পথে। সরেজমিনে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের চান্দিঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় যে চিত্র দেখা যায়, তা কোনোভাবেই সভ্য সমাজের সঙ্গে মানানসই নয়। নদীর পাড়ে নির্বিচারে ময়লা ফেলা, মানববর্জ্য নিঃসরণ, কোথাও কোথাও মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ - সব মিলিয়ে সুরমার স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে শুধু নদী নয়, ঝুঁকির মুখে পড়ছে শহরবাসীর স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। দুঃখজনক হলো- এই চিত্র নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে নদী দখল ও দূষণের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। প্রশাসন মাঝে মাঝে আশ্বাস দেয়, পরিষ্কারের কথা বলে; কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় নদী। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, সুরমা কি আদৌ কোনো কর্তৃপক্ষের অধীনে আছে? নদী দখল ও ভরাট শুধু পরিবেশগত অপরাধ নয়, এটি হাওরাঞ্চলের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের ইঙ্গিত। পরিবেশবিদরা যথার্থই বলছেন, সুরমাসহ জেলার নদ-নদী ভরাট হওয়ায় প্রতিবছর বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। নদীর স্বাভাবিক পানি ধারণ ও নিষ্কাশন ক্ষমতা নষ্ট হলে সুনামগঞ্জ শহর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা আরও বেশি দুর্যোগপ্রবণ হয়ে উঠবে, যার খেসারত দিতে হবে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। এটি কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি আমাদের সামাজিক দায়িত্বহীনতারও নির্মম উদাহরণ। যারা নদীর পাড়ে আবর্জনা ফেলছে, যারা নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা গড়ে তুলছে, তারা সবাই এই ধ্বংসযজ্ঞের অংশীদার। নদীকে আমরা যেন ‘কারও নয়’ ভেবে নিয়েছি - আর ঠিক এই ভাবনাই নদীর মৃত্যুর প্রধান কারণ। সুরমা নদী বাঁচাতে এখনই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও মহাপরিকল্পনা। পরিকল্পিত ও নিয়মিত ড্রেজিং, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদীতীর সংরক্ষণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা - সবকিছু একসাথে বাস্তবায়ন না করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, পরিবেশ সংগঠন ও প্রশাসনের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নদী বাঁচলে সুনামগঞ্জ বাঁচবে - এ কথা আজ আর কাব্যিক স্লোগান নয়, এটি কঠিন বাস্তবতা। সুরমা নদী আমাদের কাছে শুধু একটি জলধারা নয়; এটি আমাদের ইতিহাস, জীবিকা, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতের প্রতীক। এখনই যদি আমরা দায়িত্ব না নিই, তাহলে একদিন সুরমা থাকবে শুধু নামেই, বাস্তবে নয়। সুরমা নদী বাঁচতে চায়। প্রশ্ন হলো, আমরা কি তাকে বাঁচতে দেব?

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স