শান্তিগঞ্জ
বাঁধের কাজ কাগজে-কলমে, গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার অরক্ষিত
- আপলোড সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০৮:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-০১-২০২৬ ০৮:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওর এলাকার ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবে নয়, কাগজে-কলমের প্রতিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি ক্লোজার এখনো দৃশ্যমান অবস্থায় অরক্ষিত থাকায় বোরো ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাওর এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, সংস্কার ও নতুন স্কিম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা থাকলেও বাস্তবে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ১৫ ডিসেম্বর একটি পিআইসিতে নামমাত্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ৩২ দিন অতিবাহিত হলেও অধিকাংশ বাঁধে কাজ শুরু হয়নি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী কাউয়াজুরী হাওর, খাই হাওর, সাংহাই ও ছাইলানি হাওর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলো এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। কাউয়াজুরী হাওরের গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার সিফতখালী এখনো কোনো ধরনের সুরক্ষা পায়নি। অধিকাংশ পিআইসিতে কাজ শুরু হয়নি এবং কবে কাজ শুরু হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছেও কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।
কাজ শুরু না হওয়া পিআইসিগুলোর মধ্যে রয়েছে কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ৩৮, ৪০, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬২; খাই হাওরের পিআইসি নং ৫২; এবং ছাইলানি হাওরের পিআইসি নং ৬৫ ও ৬৬।
চলমান পিআইসি হিসেবে দেখানো হচ্ছে কাউয়াজুরী হাওরের পিআইসি নং ৩৯ ও ৬১, খাই হাওরের ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ এবং ছাইলানি হাওরের পিআইসি নং ৬৪। তবে পরিদর্শনে এসব পিআইসির আওতাধীন কোনো ক্লোজারের কাজই দৃশ্যমান হয়নি।
পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, তথাকথিত চলমান পিআইসিগুলোর অধিকাংশ বাঁধের অংশ অক্ষত রয়েছে। কোথাও কোথাও এসকেভেটর মেশিন দিয়ে বাঁধের উপরিভাগ কেটে উভয় পাশে ফেলে ড্রেসিং করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ড্রেসিং করা মাটির ওপর ১ থেকে দেড় ফুট মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ৭-৮ ইঞ্চি কেটে বাঁধ নিচু করে আবার ১ থেকে দেড় ফুট মাটি ফেলে ড্রেসিং দেখানো হচ্ছে। এতে বাস্তবে বাঁধ উঁচু না হয়ে বরং দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। অথচ এসব পিআইসিতে বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এবং পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মোহন বলেন, উপজেলায় মোট ৬৭টি পিআইসি রয়েছে এবং সবগুলোতেই কাজ শুরু হয়েছে। কিছু পিআইসির আংশিক কাজ সাময়িকভাবে বাকি আছে। কাজের অগ্রগতি স¤পর্কে তিনি জানান, ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ কাজ স¤পন্ন হয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, উপজেলার সব পিআইসিতে কাজ শুরু হয়েছে। কিছু ক্লোজার দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কারণে কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ