সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেড়েছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ স্বচ্ছ ভোটের প্রত্যাশা আজ ভোটের লড়াই জয় পেতে মরিয়া জামায়াত, ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি সারাদেশে ৮৭৭০ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিজয় মালা কার গলে? হাসননগরে দিনমজুরের বসতভিটায় ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকান্ড সুবিধাজনক অবস্থানে কলিম উদ্দিন মিলন বিএনপি’র বাধা বিদ্রোহী জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বিএনপি প্রস্তুত : তারেক রহমান প্রচারের শেষ দিনে মুখর সুনামগঞ্জের ৫টি আসন ছাতক-দোয়ারাবাজারকে উন্নয়নসমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি জামায়াত বন্ধু নয়, তারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি : নাছির চৌধুরী মোল্লাপাড়ায় জামায়াত প্রার্থী সামছ উদ্দিনের নির্বাচনী সভা শান্তিগঞ্জে পিতা-পুত্রের পিআইসি, পরিবারকেন্দ্রিক একাধিক কমিটি বাঁধ নির্মাণে অনিয়মে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি মৃত সুরঞ্জিত সেন আরো শক্তিশালী!

হাওরের বাঁধে বরাদ্দ বাড়ে, নিরাপত্তা কমে কেন?

  • আপলোড সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৯:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৯:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন
হাওরের বাঁধে বরাদ্দ বাড়ে, নিরাপত্তা কমে কেন?
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ফসলরক্ষা বাঁধ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি সময়মতো ও টেকসই বাঁধ মানেই হাজারো কৃষকের ঘুম নিশ্চিন্ত, আর সামান্য অবহেলা মানেই এক বছরের রুজি-রুটির সর্বনাশ। সেই বাস্তবতায় তাহিরপুর ও জগন্নাথপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার ফসলরক্ষা বাঁধ প্রকল্পগুলোর বর্তমান চিত্র গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৮৬টি প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বেশি। অথচ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অধিকাংশ বাঁধে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি ছিল না। বরাদ্দ বাড়লেও বাস্তব কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ৪৬টি প্রকল্পে কাজই শুরু হয়নি। অনেক জায়গায় নেই সাইনবোর্ড, নেই প্রকল্পের স্বচ্ছ তথ্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- এই বাড়তি বরাদ্দ কি ফসল রক্ষার জন্য, নাকি অপচয় ও লুটপাটের সুযোগ তৈরির জন্য? জগন্নাথপুর উপজেলার চিত্রও ভিন্ন নয়। ৩৭টি প্রকল্পে ৬ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ হাওরে কাজ শুরু হয়নি। নলুয়ার হাওরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্লোজারসহ একাধিক প্রকল্পে কাজ না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অকাল বন্যার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। চারা রোপণ শেষের পথে, অথচ বাঁধ এখনো অনিশ্চয়তায় - এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ এসেছে, পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে। গণশুনানি ছাড়া কমিটি গঠন, ভাড়াটিয়া পিআইসি, এমনকি অনেক সদস্যের নিজেদের দায়িত্ব না জানার অভিযোগ প্রকল্প ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মাঠপর্যায়ে পুরোনো মাটি ঘষামাজা করে কাজ দেখানোর অভিযোগও নতুন নয়। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী অনেক প্রকল্পে কাজ চলমান - এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার গরমিল স্থানীয় সচেতনমহলকে আরও সন্দিহান করছে। হাওরাঞ্চলে বোরো ধান একমাত্র প্রধান ফসল। তাহিরপুরেই প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আড়াইশ’ কোটি টাকার বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ফসল ঝুঁকিতে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু কৃষক নয়, জাতীয় অর্থনীতিও। তাই “পানি নামলে কাজ শুরু হবে” - এই ধরনের আশ্বাস হাওরবাসীর জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ পাহাড়ি ঢল কখন আসবে, তা আগাম বলে আসে না। এ অবস্থায় অবিলম্বে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, প্রতিটি প্রকল্পে সাইনবোর্ড স্থাপনসহ তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পিআইসি গঠনে গণশুনানি ও স্থানীয় কৃষকদের বাস্তব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, স্বাধীন তদারকি ও কঠোর জবাবদিহি ছাড়া কোনো প্রকল্প অনুমোদন বা অর্থ ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু ও শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে। হাওরের বাঁধ শুধু মাটির স্তূপ নয়, এটি কৃষকের বেঁচে থাকার ভরসা। এই ভরসা ভেঙে গেলে দায় কার - সে প্রশ্নের উত্তর এখনই খোঁজা দরকার। নয়তো প্রতি বছরই বরাদ্দ বাড়বে, কিন্তু হাওরের ফসল ও কৃষকের নিরাপত্তা তলানিতেই থেকে যাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স