সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

হাওরের বাঁধে বরাদ্দ বাড়ে, নিরাপত্তা কমে কেন?

  • আপলোড সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৯:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০১-২০২৬ ০৯:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন
হাওরের বাঁধে বরাদ্দ বাড়ে, নিরাপত্তা কমে কেন?
হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ফসলরক্ষা বাঁধ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একটি সময়মতো ও টেকসই বাঁধ মানেই হাজারো কৃষকের ঘুম নিশ্চিন্ত, আর সামান্য অবহেলা মানেই এক বছরের রুজি-রুটির সর্বনাশ। সেই বাস্তবতায় তাহিরপুর ও জগন্নাথপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার ফসলরক্ষা বাঁধ প্রকল্পগুলোর বর্তমান চিত্র গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৮৬টি প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বেশি। অথচ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অধিকাংশ বাঁধে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি ছিল না। বরাদ্দ বাড়লেও বাস্তব কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ৪৬টি প্রকল্পে কাজই শুরু হয়নি। অনেক জায়গায় নেই সাইনবোর্ড, নেই প্রকল্পের স্বচ্ছ তথ্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- এই বাড়তি বরাদ্দ কি ফসল রক্ষার জন্য, নাকি অপচয় ও লুটপাটের সুযোগ তৈরির জন্য? জগন্নাথপুর উপজেলার চিত্রও ভিন্ন নয়। ৩৭টি প্রকল্পে ৬ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ হাওরে কাজ শুরু হয়নি। নলুয়ার হাওরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্লোজারসহ একাধিক প্রকল্পে কাজ না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে অকাল বন্যার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। চারা রোপণ শেষের পথে, অথচ বাঁধ এখনো অনিশ্চয়তায় - এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ এসেছে, পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে। গণশুনানি ছাড়া কমিটি গঠন, ভাড়াটিয়া পিআইসি, এমনকি অনেক সদস্যের নিজেদের দায়িত্ব না জানার অভিযোগ প্রকল্প ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মাঠপর্যায়ে পুরোনো মাটি ঘষামাজা করে কাজ দেখানোর অভিযোগও নতুন নয়। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী অনেক প্রকল্পে কাজ চলমান - এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার গরমিল স্থানীয় সচেতনমহলকে আরও সন্দিহান করছে। হাওরাঞ্চলে বোরো ধান একমাত্র প্রধান ফসল। তাহিরপুরেই প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আড়াইশ’ কোটি টাকার বেশি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ফসল ঝুঁকিতে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু কৃষক নয়, জাতীয় অর্থনীতিও। তাই “পানি নামলে কাজ শুরু হবে” - এই ধরনের আশ্বাস হাওরবাসীর জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ পাহাড়ি ঢল কখন আসবে, তা আগাম বলে আসে না। এ অবস্থায় অবিলম্বে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, প্রতিটি প্রকল্পে সাইনবোর্ড স্থাপনসহ তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পিআইসি গঠনে গণশুনানি ও স্থানীয় কৃষকদের বাস্তব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, স্বাধীন তদারকি ও কঠোর জবাবদিহি ছাড়া কোনো প্রকল্প অনুমোদন বা অর্থ ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু ও শেষ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে। হাওরের বাঁধ শুধু মাটির স্তূপ নয়, এটি কৃষকের বেঁচে থাকার ভরসা। এই ভরসা ভেঙে গেলে দায় কার - সে প্রশ্নের উত্তর এখনই খোঁজা দরকার। নয়তো প্রতি বছরই বরাদ্দ বাড়বে, কিন্তু হাওরের ফসল ও কৃষকের নিরাপত্তা তলানিতেই থেকে যাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স