স্টাফ রিপোর্টার ::
চলতি মৌসুমে তাহিরপুর উপজেলায় ছোট-বড় ২৩টি হাওরে ফসল রক্ষার জন্য ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে বাঁধ মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এসব প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। অথচ গত বছর একই খাতে বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এবার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাঁধগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি না থাকলেও বাড়তি বরাদ্দকে ভালোভাবে দেখছেন না হাওরপাড়ের সচেতনমহল। তাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত বরাদ্দ মূলত লুটপাটের সুযোগ তৈরির জন্যই দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অধিকাংশ বাঁধে কোনো সাইনবোর্ড নেই। ফলে প্রকল্পের নাম, ব্যয়, সময়সীমা কিংবা সংশ্লিষ্ট পিআইসির তথ্য জানার কোনো উপায় নেই। একই সঙ্গে অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। হাওরপাড়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, লোক দেখানোভাবে পিআইসি গঠন করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গণশুনানি ছাড়াই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক-দুটি ইউনিয়নে সীমিত আকারে গণশুনানি হলেও বাকিগুলোতে তা হয়নি। তাদের দাবি, বরাদ্দের অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা ফসল রক্ষার নামে লুটপাটের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। কারণ, গত বছর পাহাড়ি ঢলের চাপ না থাকায় বাঁধের তেমন ক্ষতিও হয়নি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর তাহিরপুর উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্য রয়েছে। এতে আড়াইশ’ কোটি টাকার বেশি ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমিতে চারা রোপণ শেষ পর্যায়ে। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তাহিরপুরে এখনো ৪৬টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। যদিও উপজেলায় মোট ৮৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪০টির কাজ চলমান বলে জানিয়েছে পাউবো। তবে পাউবোর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল নেই বলে দাবি হাওর নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের। তাদের মতে, পাউবো কথায় ও কাজে বরাবরই গরমিল করে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, পিআইসি গঠন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। অনেক জায়গায় পুরাতন মাটিকে শুধু ঘষামাজা করে কাজ দেখানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলোতে এখনো কাজ শুরু হয়নি। এমনকি অনেক পিআইসি সদস্য সচিব জানেনই না তাদের দায়িত্ব কী - তাদের নাম ব্যবহার করে অন্যরা কাজ করছে। তাহিরপুরে ভাড়াটিয়া পিআইসিরও তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি মধ্যনগর, ধর্মপাশা, শাল্লা, দিরাই, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ ও দোয়ারাবাজারসহ অন্যান্য উপজেলার বাঁধগুলোর অবস্থাও বেগতিক বলে উল্লেখ করেন।
শনির হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া, আরিফ মিয়াসহ অনেকে বলেন, সময়মতো বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় ফসল রক্ষা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক জামিল মিয়া ও জহির মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, চারা রোপণ শেষ হলেও এখনো বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। এক ফসলি জমির ধানই আমাদের জীবিকার একমাত্র ভরসা। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হলে বাঁধ দুর্বল হবে এবং সামান্য ঢলেই ভেঙে যেতে পারে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, বন্যা না হলেও বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া রেট শিডিউলের দাম বৃদ্ধি, নতুন অ্যালাইনমেন্ট তৈরি, হাওরের পরিধি বৃদ্ধি ও প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ায় এ বছর বরাদ্দ বেশি এসেছে। কাজ শুরুর বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পানি নামলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে ৪০টি বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
৪৬টি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি
তাহিরপুরে অক্ষত বাঁধ থাকা সত্ত্বেও বাড়তি বরাদ্দ
- আপলোড সময় : ১৫-০১-২০২৬ ১০:৫৩:২৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০১-২০২৬ ১১:১৬:১০ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ