সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা হবিগঞ্জে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকার নৈতিক দিক থেকে দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে : জামায়াত আমির একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভক্তির চিত্র, ৬ ও ৮ আগস্ট পৃথক সমাবেশের ডাক উড়াল সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণ, নদীপথে স্বাভাবিক হচ্ছে পণ্য পরিবহন সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য তাহিরপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌপরিবহন ধর্মঘট, ব্যবসায় স্থবিরতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি মামলা করায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম, আইসিইউতে ২ হাছননগর সড়কের সংস্কারকাজ উদ্বোধন

সড়কের গাছ মরছে, নীরব দর্শক বন বিভাগ

  • আপলোড সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০৭:২৬:৫২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০১-২০২৬ ০৭:২৬:৫২ পূর্বাহ্ন
সড়কের গাছ মরছে, নীরব দর্শক বন বিভাগ
সবুজ প্রকৃতি কোনো বিলাসিতা নয় - এটি জীবন, পরিবেশ ও ভবিষ্যতের অপরিহার্য শর্ত। অথচ সুনামগঞ্জে সেই জীবনের ওপরই চলছে নীরব হত্যাযজ্ঞ। সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার এবং সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে থাকা অন্তত দুই হাজার গাছের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। আরও উদ্বেগজনক হলো, এই বিপর্যয়ের মুখে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ২৫ থেকে ৪০ বছরের বেশি বয়সী এসব গাছ শুধু কাঠের উৎস ছিল না; ছিল ছায়া, ছিল শীতলতা, ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের রক্ষাকবচ। বছরের পর বছর ধরে অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দায়িত্বশীলদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে একে একে প্রাণ হারিয়েছে হাজারো গাছ। অথচ এগুলো বাঁচাতে সময়মতো সামান্য যতœ, পরিচর্যা ও তদারকি থাকলেই এই ক্ষতি অনেকাংশে রোধ করা যেত। সরেজমিন চিত্র আরও ভয়াবহ। কোথাও শুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছ, কোথাও গোড়া উপড়ে হেলে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মরে যাওয়া বা হেলে পড়া গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে অসাধু চক্র; পরে স’মিলে কাঠে রূপান্তর করা হচ্ছে। এ যেন প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া। প্রশ্ন হলো- এই অনিয়ম কি বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অগোচরে ঘটছে? নাকি দেখেও না দেখার ভান করা হচ্ছে? বন বিভাগের বক্তব্যে আরও হতাশা বাড়ে। “সরকার গঠন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে” - এ ধরনের অজুহাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গাছ কি সরকারের জন্য অপেক্ষা করে বাঁচে? পরিবেশ ধ্বংস কি রাজনৈতিক সময়সূচি মেনে চলে? দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন বক্তব্য পরিবেশ সুরক্ষার প্রশ্নে চরম উদাসীনতারই প্রমাণ। এই গাছগুলো হারালে শুধু সৌন্দর্যই নষ্ট হবে না, বাড়বে তাপমাত্রা, কমবে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিকতা, বাড়বে ধুলাবালি ও দূষণ, ক্ষতিগ্রস্ত হবে পথচারী ও যাত্রীদের স্বস্তি। সবচেয়ে বড় কথা, এই ক্ষতি পূরণ করতে কয়েক দশক সময় লাগবে - যদি আদৌ সম্ভব হয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি শুধু বন বিভাগের নয়, এটি একটি সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যর্থতা। তাই এখনই প্রয়োজন জরুরি পদক্ষেপ। সুনামগঞ্জের সড়কের গাছগুলো কোনো অনাথ সম্পদ নয়। এগুলো এই অঞ্চলের মানুষের, এই দেশের মানুষের। আজ যদি আমরা নীরব থাকি, আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। এখনই সময়, নির্লিপ্ততা ভেঙে গাছ বাঁচানোর বাস্তব উদ্যোগ নেওয়ার। না হলে সবুজ হারিয়ে সুনামগঞ্জ হয়ে উঠবে আরেকটি উষ্ণ, ধূসর জনপদ - যার দায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদেরই নিতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা