হোসাইন আহমদ ::
নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও দেখার হাওরে শুরু হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঘোষণা ও কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী বিগত ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতা ও ত্রয়োদশ নির্বাচনের অজুহাতে বাঁধের কাজ আজো শুরু হয়নি। অন্যদিকে উপজেলাভিত্তিক হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের স্কিম প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত উপজেলা কমিটির লোকজন বলছেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছোট বড় ২৩ হাওরে ৬৭টি প্রকল্প সম্প্রতি চূড়ান্ত হয়েছে এবং তাদেরকে কাজের কার্যাদেশের প্রদান করা হয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)’র ব্যাংক হিসাব এখনো খোলা হয়নি।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, জেলা সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতকসহ চার উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তম দেখার হাওর। এ হাওরকে বলা হয় বোরো ফসলের ভা-ার। এতে রয়েছে ১২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। চলতি বছর শান্তিগঞ্জের অংশের উথারিয়া বাঁধের বিপজ্জনক বাঁধখ্যাত মূল ক্লোজার এখনো অরক্ষিত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি এখনো বাঁধের কাজ। এতে হুমকির মুখে পড়তে পারে দেখার হাওরের ১২ হাজার হেক্টর বোরো ফসল।
শান্তিগঞ্জের উথারিয়া, হলদির কাড়া, ছাইয়া কিত্তা ও দিঘদাইড়সহ ৪টি মূল বাঁধ মহাসিং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। স্থানীয়রা জানান, উথারিয়া মূল বাঁধসহ ৪টি বাঁধের ভাঙ্গা তড়িঘড়ির মেরামতে টেকসই হয় না। এই বাঁধগুলো টেকসই করতে শুরু থেকেই কাজ করতে হয়। বাঁধগুলো ভেঙে গেলে ৪ উপজেলার কয়েক লাখ কৃষকের ৬ মাসের পরিশ্রম জলে যাবে। নিঃস্ব হয়ে যাবে কৃষক ও তার পরিবার। তাই অন্যান্য বাঁধের চেয়ে এই বাঁধের প্রতি বিশেষ নজর থাকে স্থানীয় কৃষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের। কিন্তু এ বছর ওই হাওরের আসামপুর গ্রামের পশ্চিম পাশ হয়ে উতারিয়া হয়ে পুনরায় আস্তমা গ্রামের উত্তরে নদীর দুই পাশে প্রায় ৯ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বাঁধের কাজ বাস্তবায়নে ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। কিন্তু আস্তমার অংশে দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) লোকজন ছাইয়া কিত্তাসহ আংশিক কাজ শুরু করলেও অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) লোকজন বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময়ের ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শুরুই করেনি।
গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখার হাওরের ৭টি প্রকল্পের বাঁধের কাজ দেখতে গেলে বাঁধের কোথাও এমনকি আশপাশ এলাকায় কাজের বিবরণী দিয়ে কোন সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়নি। হাওর পাড়ের কৃষকদের অভিযোগ দেখার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু না হওয়ায় তারা ফসলহানি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। ১/২টি প্রকল্প কাজ শুরু করলেও তারা উপরের মাটি নিচে দিয়ে এবং বাঁধের দুইপাশ কেটে মাটি উপরে উঠিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ নিজের ইচ্ছামতো করছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাঁধের কোন এলাকায় কত টাকার কাজ হচ্ছে, কারা কাজ করছে, কাজের মেয়াদ কত দিন এসব বিষয়ে কিছুই জানেননা স্থানীয় লোকজন। আস্তামা গ্রামের কৃষক ছালিম উল্লাসহ স্থানীয় একাধিক কৃষকরা জানান, উথারিয়া ক্লোজার এই হাওরের ডেঞ্জার পয়েন্ট। এটি অরক্ষিত রেখে পুরো হাওরে কাজ করলে কোনো লাভ হবে না। আগাম বন্যা আসলে বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারবো না। প্রতি ৩ বছর পরপরই এই অঞ্চলে একবার আগাম বন্যা আসে। বিগত ৩ বছর আমরা ভালোভাবে ফসল উঠিয়েছি। এ বছরটা কৃষকদের জন্য দুর্যোগের বছর মনে হচ্ছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান মোহন জানান, সকল পিআইসি কমিটির লোকজনকে কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। তবে দেখার হাওরে ২/৩ দিনের মধ্যে পুরোদমে ফসল রক্ষাবাঁধের কাজ শুরু হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য ক্লোজারটি খোলা রাখা হয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
