সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

উন্নয়ন প্রকল্প যেন সিদ্ধান্তহীনতার বলি না হয়

  • আপলোড সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৯:৩১:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৯:৩১:৩৯ পূর্বাহ্ন
উন্নয়ন প্রকল্প যেন সিদ্ধান্তহীনতার বলি না হয়
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে চার লেনের সড়ক নির্মাণ প্রকল্প একটি গুরুত্বত্বপূর্ণ মাইলফলক। আলফাত স্কয়ার থেকে হাসন তোরণ পর্যন্ত প্রায় ৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি শুধু প্রশস্তকরণ নয়, নাগরিক জীবনে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও গতিশীলতা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি বহন করে। ১৪৪ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-ে গতি আসবে - এ নিয়ে দ্বিমত নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সম্ভাবনাময় এই প্রকল্প এখন গাছ ও অবৈধ দখলের জটিলতায় থমকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি অংশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের দুই পাশের পুরনো গাছ এবং সওজের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা। একদিকে বন বিভাগের গাছ অপসারণে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর উচ্ছেদ না হওয়ায় প্রকল্পটি ধীরগতির দিকে ঝুঁকছে। পরিবেশ রক্ষা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। গাছ কাটা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। তবে প্রশ্ন হলো- পরিকল্পিত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কি একে অপরের পরিপন্থী? আধুনিক নগর পরিকল্পনায় গাছ অপসারণের বিপরীতে পুনঃবৃক্ষরোপণ, বিকল্প সবুজায়ন এবং পরিবেশগত ক্ষতি কমানোর নানামুখী ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকল্পে নতুন করে বৃক্ষরোপণের কথাও বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বন বিভাগ ও সওজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব কেন দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করবে - তা বোধগম্য নয়। আরও উদ্বেগজনক হলো, সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি একটি পুরোনো রোগ- দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক দৃঢ়তার অভাব। এর ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকে, ধুলাবালি, খোঁড়াখুঁড়ি, যানজট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। সুনামগঞ্জ শহরবাসীর বক্তব্য স্পষ্ট- তারা উন্নয়ন চায়, কিন্তু চায় তা সময়মতো ও পরিকল্পিতভাবে। কাজ শুরু করে মাঝপথে থেমে যাওয়া বা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হওয়া মানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, জনভোগান্তিও বাড়ানো। এই মুহূর্তে প্রয়োজন দ্রুত ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত। বন বিভাগ, সওজ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গাছ অপসারণ বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান নিতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখল উচ্ছেদে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প যেন সিদ্ধান্তহীনতার বলি না হয় - সে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। চার লেনের এই সড়ক শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি সুনামগঞ্জ শহরের ভবিষ্যতের প্রতীক। উন্নয়ন ও পরিবেশ - দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে সাহসী, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স