সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ , ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে : রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি ৩ কারণে অপরাধী, তাঁর বক্তব্য আমরা এই মহান সংসদে শুনতে পারি না : শফিকুর রহমান সংসদকে সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রকাশ্যে বারেক টিলার গাছ কেটে নিচ্ছে অসাধু চক্র যাদুকাটা নদীর তীর কাটা বন্ধের দাবি জামালগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তরুণ নিহত খন্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকার নয়, আমরা চাই ‘প্যাকেজ’ : জামায়াত আমির আজ বসছে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন হাসপাতাল আছে, সেবা নেই ভোগান্তিতে ৫০ হাজার মানুষ ছাতকে ফজল মিয়া হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন সিটি ফার্মেসিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা মন্ত্রী-এমপিদের চলনে-বলনে মার্জিত থাকতে বললেন তারেক রহমান প্রায় ৪০০ ধান কাটার মেশিন বিকল, সময়মতো ধান কর্তনে দুশ্চিন্তায় কৃষক হাওরের বাঁধের টাকায় রাস্তা : দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন অন্যায় সুবিধা নিতে না পেরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করেছেন পাউবো কর্মকর্তা শেখ ফরিদ : ইউএনও বরকত উল্লাহ লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি জামালগঞ্জের ১২ যুবক ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অঙ্গিকার বাস্তবায়ন শুরু: বানিজ্য মন্ত্রী ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বরণ করতে প্রস্তুত দিরাইবাসী
মরে গেছে সড়কের পাশে থাকা দুই হাজার গাছ

গাছ বাঁচাতে উদাসীন বন বিভাগ

  • আপলোড সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৮:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৯:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন
গাছ বাঁচাতে উদাসীন বন বিভাগ
আকরাম উদ্দিন::
সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক এবং সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কের দুই পাশের অন্তত দুই হাজার গাছ মরে গিয়ে উজাড় হয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ। গাছ বাঁচাতে বন বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সুনামগঞ্জ শহরের পূর্বদিকে দোয়ারাবাজার যাতায়াতের সড়ক এবং শহরের দক্ষিণ দিকে সাচনাবাজার যাতায়াতের এই সড়ক অবস্থিত। মোট ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরেই অন্তত দুই হাজারের বেশি গাছ মারা গেছে। এসব গাছের বয়স প্রায় ২৫ থেকে ৪০ বছর বা তার চেয়েও বেশি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই মূল্যবান এসব গাছ প্রাণ হারাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুজ জহুর সেতু থেকে সাচনা বাজার পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছ। একসময় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীরা শীতল ছায়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ বছর এই সড়কের প্রায় সহস্রাধিক গাছ শুকিয়ে মরে গেছে। অনেক গাছ গোড়া উপড়ে হেলে পড়েছে সড়কের দুই পাশে।
একই চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার ১৮ কিলোমিটার সড়কেও। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছের মধ্যে এ বছর অন্তত এক হাজারের বেশি গাছ মরে পড়ে আছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও কয়েক হাজার গাছ মারা যেতে পারে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, সড়কের পাশে হেলে পড়া বা মরে যাওয়া গাছগুলো কতিপয় ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে নিয়ে যায় স’মিলে। গাছ বিক্রি করার সাথে সাথে অসাধু মিল মালিকেরা কাঠ তৈরি করে ফেলেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।
দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, সড়কের পাশে মরে যাওয়া গাছগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, এসব গাছের যেন কোনো মালিক নেই। গাছ মরে গেলে দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি আমাদের মনে খুব পীড়া দেয়।

সাচনাবাজারের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, সড়কের দুই পাশের সবুজ চিত্র আর থাকবে না। শীতল হাওয়ায় চলাচলের যে স্বস্তি ছিল, তা হারিয়ে যাবে। এই সৌন্দর্য আগামী চল্লিশ বছরেও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই দ্রুত গাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের সিএনজি চালক শাহ জামাল বলেন, গরমের দিনে গাছের নিচে গাড়ি আসলে যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারতেন। কিন্তু গাছগুলো চোখের সামনে মরে যাচ্ছে। এগুলো রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া উচিত।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সুনামগঞ্জের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সেক্রেটারি ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, দোয়ারা ও সাচনা সড়কের দুই পাশের মূল্যবান গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় অনেক গাছ মরে গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, গাছ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বর্তমানে সড়কের গাছ কর্তন বন্ধ রয়েছে। প্রতি বছর গাছ কর্তন ও রোপণের কর্মসূচি থাকলেও দলীয় সরকার গঠন হলে গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে : রাষ্ট্রপতি

সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে : রাষ্ট্রপতি