তানভীর আহমেদ::
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চারলেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে তৎপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে, সড়কের দুই পাশের শত শত গাছ অপসারণে বন বিভাগের বাধা ও সওজের জমি অবৈধভাবে দখল হওয়ার কারণে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, সড়কের যেসব অংশে জমি দখল মুক্ত আছে ও গাছ নেই সেইসব অংশে আপাতত কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
জানাযায়, সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে শহরের আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) থেকে হাসন তোরণ এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার (৩.৮ কি.মি.) দীর্ঘ এই সড়কটি চারলেনে উন্নীত করা হচ্ছে। কেবল সড়ক প্রশস্তকরণই নয়, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে- সড়কের পাশে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পথচারীদের চলাচলের জন্য আধুনিক ফুটপাত, সড়ক বিভাজক ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নতুন করে বৃক্ষরোপণ, পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য অত্যাধুনিক স্ট্রিট লাইট স্থাপন। প্রকল্পটির মোট চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৪ কোটি টাকা। যৌথভাবে কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী এন্ড মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা। বর্তমানে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ স¤পূর্ণ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, প্রকল্পের কাজ ৩০ শতাংশ শেষ হলেও বর্তমানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের দুই পাশে থাকা পুরনো গাছগুলো। বন বিভাগ থেকে গাছ অপসারণে নিষেধ করায় অনেক জায়গায় কাজ থমকে আছে। এছাড়া সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদে এখনো কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে দ্রুত গাছ অপসারণ এবং দখলদারদের হটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা প্রয়োজন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দৃশ্যপট বদলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের হাছননগরের বাসিন্দা সাদিকুর রহমান বলেন, শুরুতে কাজের ভালো গতি ছিল। কিন্তু বর্তমানে কাজের গতি দিনদিন কমছে। শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির এই সড়ক যদি ঠেলাঠেলির কারণে বন্ধ থাকে বা ধীরগতিতে কাজ চলে তাহলে কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে। পথচারী তানিম হোসাইন বলেন, সড়কের বিভিন্ন অংশে সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। যার কারণে সেখান থেকে ধুলোবালি উড়ছে। এখন শুনছি গাছ কাটা নিয়ে ঝামেলা চলে। আমরা চাই বন বিভাগ আর সওজ মিলে দ্রুত সমাধান করুক। কাজ আটকা থাকলে কষ্ট আমাদেরই। শহরের মল্লিকপুরের বাসিন্দা তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, চার লেনের সড়ক হলে আমাদের যাতায়াত সহজ হবে, যানজট কমবে। একইসাথে যদি স্ট্রিট লাইট জ্বলে তাহলে শহরটা নিরাপদ হবে। কিন্তু এই যে গাছ আর দখলের দোহাই দিয়ে কাজে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে তাতে ভয় হয় হচ্ছে আদৌ কাজ শেষ হবে কি?
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হামিদ বলেন, চারলেন সড়কের কাজ চলছে দ্রুত গতিতেই। তবে সড়কের কিছু অংশে গাছগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন বিভাগের আপত্তির কারণে সেগুলো অপসারণ করা যাচ্ছে না, ফলে ওই অংশগুলোতে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং আশা করছি দ্রুতই সমাধান আসবে। সড়কের জায়গা দখল মুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সড়ক নির্মাণ করার জন্য শীঘ্রই সওজের জমি উদ্ধার করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।
গাছ অপসারণের বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার আনিসুর রহমান বলেন, আমরা গাছ কাটতে আপাতত নিষেধ করেছি। তবে, গাছ কাটার বিষয়ে শীঘ্রই সিদ্ধান্ত আসবে। সিদ্ধান্ত আসার আগে গাছ কাটা যাবে না।
প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার গোলাম আজম সিদ্দিকী বলেন, সড়কের দুইপাশের গাছগুলোর কারণে যে গতিতে কাজ করার কথা ছিল আমরা সেই গতিতে কাজটা করতে পারছি না। এই গাছগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করলে কাজের গতি বাড়বে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
গাছ ও অবৈধ দখলে ব্যাহত চার লেনের সড়ক নির্মাণকাজ
- আপলোড সময় : ১২-০১-২০২৬ ০৯:১৫:৪১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-০১-২০২৬ ০৯:১৬:৫৮ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ