সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

মব সন্ত্রাস : আইনের শাসনের জন্য ভয়ংকর অশনিসংকেত

  • আপলোড সময় : ০৯-০১-২০২৬ ১০:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০১-২০২৬ ১০:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
মব সন্ত্রাস : আইনের শাসনের জন্য ভয়ংকর অশনিসংকেত
দেশে ক্রমবর্ধমান মব সন্ত্রাস বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর উদ্বেগজনক বাস্তবতা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে মব সহিংসতায় ২৮০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে - যা এক ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সংখ্যাটি শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আইনের শাসন ভেঙে পড়ার এক নির্মম দলিল। মব সন্ত্রাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো- কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে একদল মানুষ ‘বিচারক, জুরি ও কার্যকরকারী’ হয়ে ওঠা। এতে আইন, আদালত ও বিচারপ্রক্রিয়া অকার্যকর হয়ে পড়ে। অপরাধী হলেও কাউকে পিটিয়ে হত্যা করার অধিকার কারও নেই - এটি রাষ্ট্রীয় আইন ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহের বশে নিরীহ মানুষ, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী, সংস্কৃতিকর্মী এমনকি সাংবাদিকরাও মবের শিকার হচ্ছেন। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- অনেক ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যায় না। কোথাও কোথাও মবের ভয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে - যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও মনোবলের প্রশ্ন তোলে। সরকারিভাবে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন আশানুরূপ নয়। ফলে অপরাধীরা বারবার সাহস পাচ্ছে এবং একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে। মব সন্ত্রাস শুধু প্রাণহানিই ঘটাচ্ছে না; এটি সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও নৈরাজ্যের সংস্কৃতি তৈরি করছে। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জরিপে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের উৎকণ্ঠিত থাকার তথ্য এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্য মব তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে - যেখানে দায়বদ্ধতার অভাব স্পষ্ট। আরও উদ্বেগজনক হলো, কখনো ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’, কখনো ‘তৌহিদি জনতা’র নামে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পী, বাউল, মাজার, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা। এটি কেবল আইনবহির্ভূতই নয়, বরং বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত। বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের ভাষায়, এটি এক বিপজ্জনক সংস্কৃতি - যা ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলোর স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। আমরা মনে করি, মব সন্ত্রাস রোধে শুধু মৌখিক হুঁশিয়ারি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত বিচার, অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার। রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে- নিজেদের অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতায় শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হবে। একই সঙ্গে গুজব ও উসকানির বিরুদ্ধে সামাজিক ও ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। আইন যদি দুর্বল হয়, তবে মব শক্তিশালী হয়। রাষ্ট্র যদি নির্লিপ্ত থাকে, তবে জনতা বিচারকের আসনে বসে। এই বিপজ্জনক প্রবণতা এখনই থামাতে না পারলে সমাজ আরও গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। মব নয়; আইনই হোক শেষ কথা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স