সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর
সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করতে উদ্যোগ নিন
- আপলোড সময় : ০৮-০১-২০২৬ ০৯:০০:১২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০১-২০২৬ ০৯:০০:১২ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে বিশ্বম্ভরপুর হয়ে তাহিরপুর উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি আজ উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং মানুষের জীবনের জন্য এক নীরব মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই সড়কজুড়ে অন্তত ২৫টিরও বেশি বিপজ্জনক বাঁক প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ বারবার মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সোজা করা কিংবা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন, বাঘমারা, শক্তিয়ারখলা, কারেন্টের বাজার, পলাশবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একের পর এক নব্বই ডিগ্রি বাঁক সড়কটিকে কার্যত দুর্ঘটনার করিডোরে পরিণত করেছে। কোনো কোনো স্থানে একশ গজের মধ্যেই রয়েছে চারটি বিপজ্জনক বাঁক - যা দেশের যেকোনো সড়কের জন্যও অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর। এসব বাঁকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দেখা যায় না। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন বুঝতে না পেরে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
সমস্যা শুধু বাঁকেই সীমাবদ্ধ নয়। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহনের চাপ, ঝুঁকিপূর্ণ স্টিলের সেতু, অপরিকল্পিত স্পিড ব্রেকার - সব মিলিয়ে পুরো সড়কটি যেন মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা একটি অবহেলিত অবকাঠামো। বিশেষ করে চারটি স্টিলের সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নকাজের সময়ই এসব বাঁক সোজা করার সুযোগ ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তখনই পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। দায়সারা কাজ, অদূরদর্শী পরিকল্পনা এবং তদারকির অভাবের ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ - যারা প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে এই সড়কে চলাচল করছে।
একটি সড়ক কেবল যান চলাচলের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও যোগাযোগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেখানে অবহেলা মানে সরাসরি মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি ‘বিবেচনার আশ্বাস’ দেওয়া হলেও বাস্তব পদক্ষেপ ছাড়া সেই আশ্বাস মূল্যহীন।
আমাদের সুস্পষ্ট দাবি- ১. দ্রুত সড়কটির ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সোজা করতে হবে। ২. সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা (সাইনবোর্ড, রিফ্লেক্টর) স্থাপন করতে হবে। ৩. ঝুঁকিপূর্ণ স্টিলের সেতুগুলো পুনঃর্নির্মাণ বা ভারী যান চলাচল সীমিত করতে হবে। ৪. দায়সারা কাজের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়