বিশ্বজিত রায়::
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বিশেষ করে ‘গণভোট’ এ বছরই প্রথম হওয়ায় সরকারের তরফ থেকে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু সুনামগঞ্জে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম তেমনটা নেই।
ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণার প্রায় মাসখানেক গত হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের অধিকাংশই সংসদ নির্বাচনের ভোটে আগ্রহী থাকলেও ‘গণভোট’ নিয়ে তাদের কার্যত কোন ধ্যান-ধারণা নেই। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা না থাকার অভিযোগ আছে সাধারণ মানুষের। তবে গণভোটের প্রচার-প্রচারণা চলমান আছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সংশোধনী, এই চারটি প্রশ্নের সমন্বয়ে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের সমীকরণই হচ্ছে গণভোট। গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো ভোটারদের কাছে পরিষ্কার না। সচেতনমহল মনে করছেন সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে ধারণা দিতে না পারলে জটিলতার সৃষ্টি হবে। জানাযায়, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে মোট ভোটার ২০ লাখ ৭১ হাজার ২২ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ৫ লাখ ১ হাজার ৬৪৬ জন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৫৩ জন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১১ জন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ৩ লাখ ৭২ হাজার ২৭৩ জন ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ভোটার আছে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৯ জন। এর আগে জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ২২ হাজার ১৬৯ জন।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়ার বাসিন্দা হোসাইন আহমদ বলেন, আমরা কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে অভ্যস্ত। কিন্তু গণভোট কি সেটা সম্পর্কে কিছু জানি না। এ সম্পর্কে শহরে প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়েনি। সাধারণ মানুষকে গণভোট সম্পর্কে বোঝানো দরকার।
গণভোট বলতে কি বোঝেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি গ্রামের শাহীন আহমদ বলেন, এ সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই। তবে যতটুকু বুঝি সেটা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট। এর বেশি কিছু জানি না। যদি ক্যাম্পেইন করে বোঝানো না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিষয়টা বুঝতে পারবে না।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভাটি লালপুর গ্রামের নতুন ভোটার হওয়া মরিয়ম বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, শুনেছি এ বছর দুইটা ভোট দিতে হবে। একটা সংসদ নির্বাচনের ভোট, আরেকটা গণভোট। কিন্তু সেই গণভোটটা কেন দেব সেটাই তো বুঝি না।
জামালগঞ্জের ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক পরশমণি চৌধুরী বলেন, কি প্রয়োজনে গণভোট নেওয়া হবে সেটাই তো বুঝতে পারতেছি না। যারা ভোট দিবে তাদেরকে বোঝাতে হবে- এই কারণে আপনাকে গণভোট দিতে হবে। দুর্গম হাওরাঞ্চলের মানুষ এ সম্পর্কে কিছু জানে না, বোঝেও না। এ বিষয়ে কোথাও কোন নির্দেশনা নেই।
বিশ্বম্ভরপুরের দ্বিগেন্দ্র বর্মণ সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মশিউর রহমান বলেন, গণভোটে যে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে সাধারণ ভোটারদের স্বচ্ছ ধারণা নেই। বিষয়গুলো সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে। এ জন্য অধিকতর প্রচার-প্রচারণা দরকার। কিন্তু প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে না।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, গণভোট সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে জেলার ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণামূলক বিলবোর্ড-ব্যানারও সাঁটানোর ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে। আমি নিজেও এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজারের বাংলা বাজারে গিয়ে কথা বলেছি। তিনি বলেন, কোন কোন বিষয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে এবং এই সিদ্ধান্তে ‘হ্যাঁ’ হলে কি সুবিধা পাওয়া যাবে আর আপনি যদি এই সুবিধা নিতে না চান তাহলে ‘না’ দিয়ে দিতে পারবেন। এ বিষয়গুলো আমরা সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজ (বুধবার) ভোটের গাড়ি সুনামগঞ্জে আসবে। বিকেলের দিকে ভোটের গাড়ি দিরাই, শাল্লা, ছাতক ও শান্তিগঞ্জে যাওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা না থাকার অভিযোগ
ভোটাররা জানে না ‘গণভোট’ কি
- আপলোড সময় : ০৮-০১-২০২৬ ০৮:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০১-২০২৬ ০৮:৫৭:১১ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ