সুনামগঞ্জ , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ , ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নলুয়ার হাওরের বাঁধ ঝুঁকিতে, ফসলহানির শঙ্কায় কৃষক ব্রিজ ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ জ্বালানি তেলের মজুত ঠেকাতে বিজিবি মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান দিলারা হাফিজ আর নেই বাঁধে অনিয়মে জড়িতদের ছাড় নয় পাউবো, ইউএনও ও পিআইসিদের জবাবদিহির নির্দেশ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ পর্যটক পেটানো সেই বাচ্চু মেম্বার গ্রেপ্তার প্রায় ২৫ কোটি টাকার গাছ মাত্র ১ কোটিতে বিক্রি! ৫০ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব : জগন্নাথপুরে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ১ ৩ বসতবাড়ি,গবাদিপশু ও নগদ টাকাসহ পুড়ে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি ভারি বৃষ্টিতে নড়বড়ে বাঁধ, শঙ্কায় কৃষক আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সুনামগঞ্জ সদরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় কাজ করতে চান মো. আবুল হায়াত শান্তিগঞ্জ থেকে শিমুলবাগান যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ‎জামালগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ ‎পাগনার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১১ জামালগঞ্জে মহিষ চুরির সন্দেহে আটক দুই ও মাংস জব্দ নিখোঁজের পর ধানক্ষেতে মিলল ৭ বছরের শিশুর লাশ, দোয়ারাবাজারে তোলপাড় ‎জামালগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা, ব্যাপক ফসলহানি

লাফার্জের কনভেয়ার বেল্টের শব্দে অতিষ্ঠ ১০ গ্রামের মানুষ, শব্দ দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিন

  • আপলোড সময় : ০৭-০১-২০২৬ ০৯:২১:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-০১-২০২৬ ০৯:২১:৩৪ পূর্বাহ্ন
লাফার্জের কনভেয়ার বেল্টের শব্দে অতিষ্ঠ ১০ গ্রামের মানুষ, শব্দ দূষণ রোধে ব্যবস্থা নিন
উন্নয়ন কি মানুষের জীবনকে স্বস্তিদায়ক করবে, নাকি তাকে নীরব যন্ত্রণার কারাগারে বন্দি করবে - এই মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি আজ দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম। বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিম (সুরমা সিমেন্ট) কারখানার ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ কনভেয়ার বেল্ট এখন এসব গ্রামের মানুষের কাছে উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং এক অবিরাম শব্দসন্ত্রাসের নাম। মেঘালয় থেকে চুনাপাথর পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এই কনভেয়ার বেল্টের শব্দে কালাপশী, শ্যামারগাঁও, রগারপাড়, তেরাপুর, উত্তর নেতরছই, চারওয়াদ্দী, শ্রীপুর, পূর্ব ঘিলাতলীসহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্রকম্পিত। স্বাভাবিক কথা বলা যেখানে অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখানে সুস্থ জীবনযাপন কেবল কল্পনামাত্র। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই কনভেয়ার বেল্ট কার্যকর কোনো শব্দরোধী ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে - যা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ৬০ ডেসিবেলের বেশি শব্দে বসবাস করলে শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা ও মানসিক চাপ অনিবার্য। দোয়ারাবাজারের এই গ্রামগুলোতে আজ এসব রোগ যেন নিত্যসঙ্গী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই শব্দদূষণের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর। স্কুলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারাচ্ছে, ঘরে বসে পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। একটি প্রজন্ম ধীরে ধীরে মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির দিকে ধাবিত হচ্ছে - যাকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যথার্থই ‘সাইলেন্ট হেলথ ডিজাস্টার’ বলে আখ্যায়িত করছেন। লাফার্জহোলসিম একটি আন্তর্জাতিক মানের শিল্পপ্রতিষ্ঠান। করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) নিয়ে তাদের বক্তব্য ও প্রচারণা নেহাত কম নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো- যেখানে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ১০টি গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার, সেখানে সেই দায়বদ্ধতা কতটা বাস্তব? উন্নয়ন কখনোই মানুষের কণ্ঠ রোধ করে, কানের পর্দা ফাটিয়ে কিংবা ঘুম কেড়ে নিয়ে হতে পারে না। ইতিবাচক দিক হলো, জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছে এবং লাফার্জ কর্তৃপক্ষ নতুন বেল্ট ও শব্দরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলে- আশ্বাস নয়, প্রয়োজন দ্রুত দৃশ্যমান ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। আংশিক শব্দরোধ নয়, পুরো কনভেয়ার লাইনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড ইনসুলেশন, আধুনিক সাইলেন্সার ও নিয়মিত পরিবেশগত মনিটরিং এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যা¤প, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণমূলক সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। কারণ শিল্পের মুনাফা যদি মানুষের মৌলিক অধিকার- শান্তিতে বসবাসের অধিকার হরণ করে, তবে সেই উন্নয়ন আর উন্নয়ন থাকে না। দোয়ারাবাজারের ১০ গ্রামের মানুষের দীর্ঘশ্বাস আজ শুধু একটি এলাকার নয়, এটি গোটা দেশের জন্য এক সতর্কবার্তা। উন্নয়নের নামে জনজীবন বিপর্যস্ত হলে তা সামাজিক অসন্তোষের জন্ম দেয় - যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই নীরবতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও লাফার্জ কর্তৃপক্ষের কাছে সময় এসেছে প্রমাণ করার- উন্নয়ন মানে কেবল কারখানা নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের সুস্থ ও সম্মানজনক জীবন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর