সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ

নিয়ম রক্ষার উদ্বোধন, ২০ দিনেও শুরু হয়নি কাজ

  • আপলোড সময় : ০৫-০১-২০২৬ ০৯:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-০১-২০২৬ ০৯:৪৭:১৭ পূর্বাহ্ন
নিয়ম রক্ষার উদ্বোধন, ২০ দিনেও শুরু হয়নি কাজ
বিশ্বজিত রায়, হাওর থেকে ফিরে::
সুনামগঞ্জে নির্ধারিত সময়ের ২০ দিনেও শুরু হয়নি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ। ১৫ ডিসেম্বর নিয়ম রক্ষার কাজ উদ্বোধন হলেও অচিরেই কাজ শুরুর দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। হাওর থেকে পানি নামার কারণে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন দাবির বিপরীতে কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। একাধিক হাওর ঘুরে কাজ শুরু না হওয়া বাস্তবতার সাথে হাওর সচেতন মানুষের শঙ্কার অনেকটা মিল পাওয়া গেছে। শনিবার তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জের একাধিক হাওর ঘুরে দেখা যায়, বাঁধের ভাঙা বদ্ধকরণ ও মেরামতের জন্য হাওরের অধিকাংশ এলাকা পুরোপুরি প্রস্তুত আছে। ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরের একাংশ এবং তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার হালি, শনি, মহালিয়া হাওরের প্রায় অর্ধশত প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর কোন প্রস্তুতি চোখে পড়েনি। এসব হাওরের কয়েক জায়গা দিয়ে পানি নামলেও প্রাক্কলিত বাঁধের অধিকাংশ স্থানেই কাজ করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিক পিআইসি অধ্যুষিত উপজেলা শাল্লা, ধর্মপাশা ছাড়াও মধ্যনগর, তাহিরপুর, দিরাই, শান্তিগঞ্জসহ অনেক উপজেলাতেই বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। কোন কোন উপজেলায় এখনও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের কাজ বাকি আছে। এ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন, ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু ও ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু কাজ দূরের কথা, অনেক উপজেলায় পিআইসি গঠনই শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষক ও হাওর সচেতন মানুষের মাঝে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রায় ৫৩টি হাওরে এ বছর ৭০২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ ১৪৫ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে ৫৮৫ কিলোমিটার প্রাক্কলিত বাঁধে ক্লোজার (ভাঙা) আছে ১০৪টি। হাওরের কৃষক ও ফসলের নিরাপত্তায় সরকার প্রতি বছর অকৃপণ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। অন্যান্য বারের মতো এ বছরও যথাসময়ে কাজ শুরু না হওয়ার শঙ্কা আছে কৃষকের। তবে পাউবো জানিয়েছে পানি নামার কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে।

অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল একফসলি এলাকা হিসেবে পরিচিত। বছরে একবারই বোরো ধান উৎপাদন হয় এখানে। এই ফসল উৎপাদন ব্যাহত হলে দুর্দশার অন্ত থাকে না হাওরাঞ্চলের মানুষের। এখানকার বোরো ফসল দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে। তাই সরকার কৃষক ও হাওরের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রতি বছর ফসলরক্ষা বাঁধ দিয়ে থাকে। কিন্তু গাফিলতির কারণে বাঁধ নির্মাণ কাজ পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা কৃষকের। ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওর পারের কৃষক চন্দন তালুকদার বলেন, আমরার হাওরে বান্ধের কাজটাজ এখনও শুরু হইছে না। ঠিক টাইমে কাজ করলে মাডি বয় ভালা (বসে ভালো), বাঁনও (বাঁধও) শক্তিশালী হয়। শেষ সময়ে আইয়া তাড়াহুড়া কইরা মাটি কাটব, বাঁন থাকব দুর্বল, পানির ধাক্কা খাইলেই বাঁন ভাইঙা যে শ্রম-ঘাম দিছি সব তলাইয়া যাইব। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের দুই পিআইসি সভাপতি সোহেল মিয়া ও নূর মিয়াকে কাজ কবে শুরু করবেন প্রশ্ন করলে তাঁরা জানান, বাঁধে কাজ করার সীমানা এখনও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। পিআইসি নম্বরও জানেন না তাঁরা। শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, ১৫ ডিসেম্বর কাজ উদ্বোধনের পর কোন বাঁধে এখনও কাজ শুরু হয়নি। এখানকার ছয়টি হাওরে শতাধিক প্রকল্প আছে। এখনও পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। পিআইসি নিতে একেকজন একেকভাবে তদবির করছেন। এ অবস্থায় যথাসময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আমরা বেশ উদ্বিগ্ন।

হাওর থেকে ফিরে হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জের সভাপতি রফিকুল বিন বারী বলেন, গত শনিবার হালির হাওর ঘুরে যা দেখলাম তাতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। কাজ কখনও শুরু হবে, কখন শেষ হবে, সেটা বলা মুশকিল। এ রকম হলে দিনশেষে কৃষক বিপদে পড়বে। তখন দৌড়ঝাঁপ করে লাভ হবে না। সময় থাকতে কাজে মনোযোগের আহ্বান জানাচ্ছি। কাবিটা প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, এখানে অনেকগুলো বাঁধেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক মেশিন হাওরে ঢুকেছে। দু’একদিনের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শুরু হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চার-পাঁচটি পিআইসি আছে যেগুলো এখনও গঠন হয়নি। এগুলো সরজমিনে দেখে দিতে হবে।
সব উপজেলায় পিআইসি গঠনের কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের অনেক জায়গা দিয়ে এখনও পানি নদীতে নামছে। পানি নামার কারণে কাজ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স