সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন বিশ্বকাপের উন্মাদনায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত

সুরমার ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

  • আপলোড সময় : ০৪-০১-২০২৬ ০৮:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-০১-২০২৬ ০৮:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
সুরমার ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
সুরমা নদী শুধু একটি জলপ্রবাহ নয় - এ নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনপদের জীবন, জীবিকা ও সভ্যতার ইতিহাস। অথচ আজ সেই সুরমাই দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর, আশ্রাবনগর ও ইদনপুর গ্রামের মানুষের জন্য এক আতঙ্কের নাম। নদীভাঙনের নিষ্ঠুর গ্রাসে ধ্বংসের মুখে পড়েছে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, কবরস্থান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই ভয়াবহ ভাঙন দীর্ঘদিন ধরেই চলমান হলেও আজমপুর, ইদনপুর ও আশ্রাবনগর গ্রামগুলো এখনো সরকারি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের বাইরে রয়ে গেছে। যেখানে উপজেলার অন্য এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেখানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই তিন গ্রাম উপেক্ষিত থাকছে - যা স্পষ্টতই এক ধরনের উন্নয়ন বৈষম্য এবং নীতিনির্ধারকদের দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। ভাঙনের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জামে মসজিদসহ অর্ধশতাধিক বাড়িঘর এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে। জীবন বাঁচাতে মানুষ আগেভাগেই গাছপালা কেটে সরিয়ে নিচ্ছে, কেউ কেউ চোখের সামনে নদীতে হারাচ্ছে সাজানো বাগান ও ভিটেমাটি। এটি কেবল ভূমি হারানোর সংকট নয় - এ এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস। গত শুক্রবার আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ ও আর্তনাদ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কানে পৌঁছানো জরুরি। বক্তারা যথার্থভাবেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে দ্রুত ভাঙন রোধের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি কোনো বিলাসিতা নয় - এটি মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। রাজনীতি, দল কিংবা এলাকার হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবন ও স¤পদ রক্ষাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা মনে করি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনই মাঠপর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্রুত একটি স্থায়ী প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করা জরুরি। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই তিনটি গ্রাম শুধু মানচিত্র থেকেই নয়, রাষ্ট্রীয় বিবেক থেকেও মুছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুরমার ভাঙন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার ফল। এখনো সময় আছে। অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে আজমপুর, আশ্রাবনগর ও ইদনপুরের মানুষকে রক্ষা করা হোক। রাষ্ট্র যদি তাদের পাশে না দাঁড়ায়, তবে উন্নয়ন শব্দটি এই জনপদের মানুষের কাছে কেবলই এক নির্মম পরিহাস হয়ে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন

দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন