সুনামগঞ্জ , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে বিরোধী রাজনীতিকেরা তাচ্ছিল্য করেছিলেন: কয়ছর আহমদ ফ্যামিলি কার্ডে টাকা দাবি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাঠে তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী স্ত্রী আটকের পর অসুস্থ ছাত্রলীগ নেতা, পরিবারের দাবি নির্যাতন, পুলিশের অস্বীকার ঐতিহাসিক বাঁশতলায় নান্দনিক স্থাপনার নামকরণ নিয়ে ক্ষোভ পরীক্ষা হলে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করবে এআই শাল্লার কৃতী সংগীতশিল্পী রাখাল চক্রবর্তীর প্রয়াণ, লোকসংগীতে রেখে গেলেন অনন্য অবদান বাড়িতে পুরুষশূন্যতার সুযোগে ৬ গরুসহ ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট ইউপি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড, আওয়ামী লীগের আরও ৩ নেতার যাবজ্জীবন ভাটির জনপদে ‘ভাইয়াফি কুস্তি’ সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বিবৃতি ফাটল-ভাঙনে বেহাল ধর্মপাশার কালীজানা সেতু, পারাপারে জীবনের ঝুঁকি নাব্যতা সংকটে রঙ্গারচরা-পাটলাই নদী খননের দাবিতে মানববন্ধন অনিয়ম ঢাকতেই এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের অভিযোগ তলবের পরও যাননি প্রকল্প এলাকায়, ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী চুমু বা আদরের আড়ালে শৈশবের অস্বস্তি ও ট্রমার গল্প জামালগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রত্যয় স্কুলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২, গ্রেফতার ৪ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আসুন বই পড়ি, সাজাউর রহমান

  • আপলোড সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৯:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৯:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন
আসুন বই পড়ি, সাজাউর রহমান
এক মা চার বছরের শিশুসন্তানকে বললেন, চলো কাগজ-পেন্সিল নিয়ে বসি। একটি খেলা খেলি। তোমার নাম রবিন। এটা ইংরেজিতে লিখলে জ লিখতে হবে প্রথমে। আর আমার নাম সুমি। এটা লিখতে গেলে লিখতে হবে ঝ। চলো শুরু করি। এরপর মা কাগজে কাটা - গোল্লা খেলার মতো ঘর বানিয়ে শেখাতে লাগলেন কোথায় কোথায় জ লিখলে পরে শিশুটি নিজের নামে ঘর করতে পারবে। আর কোথায় কোথায় ঝ দিলে পরে মায়ের নামে ঘর হয়ে যাবে। একদান খেলার পরে মা যখন দ্বিতীয় দান শুরু করতে যাচ্ছেন, শিশুটি বলল তুমি কি আমাকে অ্যালফাবেট লিখাচ্ছ। আমি লিখব না, আমি খেলব। এই বলে পেন্সিল রেখে উঠে গেল গাড়ি নিয়ে খেলতে। শিশুরা এখন অনেক বুদ্ধিমান। না, এই ব্যাপারে কারো সন্দেহ আছে? উত্তরে না বলল। এই বুদ্ধি নিয়ে যদি এখন আমাদের মাঝে উপস্থিত শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা ভাবতে থাকেন যে, বাসায় বলে পড়তে, স্কুল-কলেজে বলে পড়তে, ব্যাপারটা কী? সবাই কি একজোট হয়ে গেছে? আমাদেরকে দিয়ে পড়ানোর বাইরে কিছু ভাবতে পারছে না। অভিভাবকবৃন্দ ভাবতে পারে যে, ভালোই তো হলো। আমরা পড়ার কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছি, দুই চোয়ালে ব্যথা বানিয়ে ফেলছি, গলা ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের কষ্ট লাঘবের জন্য এখন সবজায়গায়ও বই পড়ার জন্যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যে আসুন বই পড়ি। বই পড়ার বাক্যটার মধ্যে অনেক গুরুত্ব লুকিয়ে আছে। কেন বই পড়ব? কী বই পড়ব? কীভাবে বই পড়ব -- একটি বইয়ে কী থাকে? প্রেসে ছাপা বই হলে কাগজের কিছু পাতা বাঁধাই করা থাকে, কালিতে ছাপা বাক্যমালার সমাহার থাকে। আর বর্তমানে ইলেকট্রনিক বুক হলো একটি বই যার প্রকাশনা করা হয়েছে ডিজিটাল আকারে, যাতে সাধারণ বইয়ের মতোই লেখা, ছবি, চিত্রলেখা ইত্যাদি থাকে এবং এগুলো ক¤িপউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রিক যন্ত্রে পড়া যায়। কেন বই পড়ব? কাগজে ছাপার বই হাতে নিয়ে পড়ব না ই-বুক, রিডারে বা স্মার্টফোনে ডিজিটাল বই পড়ব - এটা পাঠকের স্বাধীনতা। তিনি যেটাতে সচ্ছন্দ বোধ করেন। মূল কথা হচ্ছে বই পড়তে হবে। জানতে হলে পড়তে হবে। কারণ বইয়ের মধ্যে যে তথ্য আছে, জানা থাকলে জীবনের কোনা না কোনো সময়ে তা কাজে আসবেই। যেমন ধরুন, তেল আর জলে যে মিশ হয় না - এটি একটি তথ্য। এই ছোট্ট তথ্যটি কীভাবে একজন বিচারককে সুবিচার করতে সাহায্য করছে চলুন একটু দেখি, গল্পে একজন তেল বিক্রেতা গ্রামে হেঁটে হেঁটে তেল বিক্রি করতে করতে এলো এক মাংস বিক্রেতার কাছে। মাংস বিক্রেতা দু’আনার তেল কিনল। তেল বিক্রেতা যখন তার পয়সার থলিতে দু’আনা ভরছিল তখন মাংস বিক্রেতার চোখ চকচক করে উঠল। সে বলল তোমাকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে। বোধ হয় অনেক দূর থেকে হেঁটে এসেছো। এক কাজ করো। তুমি ওদিকটায় গিয়ে হাতমুখ ধোও। আমি তোমার জন্যে জলখাবার নিয়ে আসি। এই যে বেঞ্চে তোমার ঝোলাটা রেখে দিতে পার। যখন তেল বিক্রেতা ঝোলা রেখে গেল কলপাড়ে, তখন মাংস বিক্রেতা ঝোলার ভেতর থেকে পয়সা থলে বের করে গুনতে শুরু করল। ওদিকে তেল বিক্রেতা এসে দেখে তার পয়সা থলে মাংস বিক্রেতার হাতে। এ কী করছ বলে সে দৌড়ে এলো। দাও আমার পয়সা আমাকে দাও। কে শোনে কার কথা। মাংস বিক্রেতা বলছে, মাথা কি খারাপ তোমার? আমার পয়সার থলে এটি। কোন সাহসে তুমি চাইছ? এদিকে আর কেউ এ ঘটনার সাক্ষী ছিল না। কিন্তু থলে নিয়ে তাদের টানাটানি দেখে আশপাশের বাড়ি থেকে লোকজন ছুটে এলো। তারপর নিয়ে গেল গ্রামের এক বিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে। গ্রাম্য সালিশে তিনি প্রায়ই সুবিচার করেন। সবকথা শুনে তিনি বললেন- এক বোল গরম পানি নিয়ে এসো লোকজন তো অবাক। পয়সার মালিককে খুঁজে বের করতে তিনি কেন পানি আনতে বললেন? কারণ পানি আনার পরে তিনি থলে থেকে সবকটি আনা ঢেলে দিলেন। একটু পরেই বোলের পানিতে তেল ভাসতে লাগল। আর সেই বিজ্ঞ ব্যক্তি বললেন পয়সার মালিক তেল বিক্রেতা। তার কারণ প্রতিবার তেল বিক্রি করার সময় তার হাতে কিছু তেল লাগত। সেই তেল মাখা হাত দিয়ে তিনি পয়সা বুঝে নিতেন। তাই প্রতিটি পয়সার গায়ে তেল লেগে গিয়েছিল। আর গরম জলে যেহেতু তেল কেটে যায়, তাই পয়সা থেকে তেলটা উঠে পানির ওপর ভেসে উঠেছে। তেল আর জল কখনো মিশে না - এই জ্ঞানটি বিজ্ঞ ব্যক্তিটির জানা ছিল বলে কতো সহজে সুবিচার করতে পারলেন। তার একমাত্র কারণ হচ্ছে বই জ্ঞানের লিখিত বিবরণ। বই পড়ে শুধু যে অজানা জিনিস জানতে পারি তা নয়, বই আমাদের কল্পনাশক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। একটি বই ধারণ করে একটি ঘটনা,একটি পরিস্থিতি এবং একটি পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে। আধুনিক যুগ যন্ত্রণায় সন্তানদের হাতে স্মার্টফোনের বদলে বই তুলে দেয়া আরো বেশি জরুরি। লেখক : শিক্ষক ও কবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্যামিলি কার্ডে টাকা দাবি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাঠে তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী স্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডে টাকা দাবি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাঠে তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী স্ত্রী