সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি

ছোট গল্প, আঠারো বছর পর

  • আপলোড সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৯:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-০১-২০২৬ ০৯:১৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
ছোট গল্প, আঠারো বছর পর
আহমদ নূর আলবাব:: শহরের এক প্রান্তে নদীর পাশে একটা অনেক পুরানো পার্ক। আজ পার্কে একজন লোক অনেক আগ্রহের সাথে ওদিক এদিক হাঁটছে। দেখলেই বোঝা যায় লোকটা কিছুটা আনমনা। কোনো কিছু হাতড়ে বেড়াচ্ছে। শীতের সন্ধ্যা। পার্কে আস্তে আস্তে লোকজন কমে যাচ্ছে। তবে অনেকেই মনে করতে পারে সে ব্যায়াম করছে। সকাল বিকাল সন্ধ্যা লোকজন পার্কে আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করে। দিনের বেলা কেউ কেউ ঘুমিয়ে থাকে পার্কের বেঞ্চে। রাত ৮টা বেজে গেল। শীতের সন্ধ্যাটা ও অনেক গভীর মনে হয়। রাত আটটা কম সময় না। পার্কটা নদীর পাড়ে হওয়ায় বাতাসটা একটু বেশি বইছে। আজ একটু বেশি ঠা-া মনে হচ্ছে, ইতোমধ্যে পার্কটা প্রায় খালি হয়ে গেল। লোকজন দেখাই যাচ্ছে না। হাতের ঘড়ির দিকে তার স্থির দৃষ্টি। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। মোবাইলটা হঠাৎ করে বেজে উঠলো। বোধ হয় অপরিচিত নাম্বার দেখে পকেটে মোবাইল রেখে দিলো। তারমধ্যে এক ধরনের চঞ্চলতা লক্ষিত হলো। সে এবার সোজা হয়ে হাঁটতে লাগলো। হঠাৎ সে আমাকে পার্কের পাশে এক গাছের সাথে হেলান থাকতে দেখে থমকে দাঁড়ায়। তাকে কিছুটা আশাহত মনে হল। হয়তো অন্য কারো আশা করেছিল। হঠাৎ নিজেকে সামলে নিয়ে বলে উঠলো, “আমি একজনের জন্য অপেক্ষা করছি।” - কিন্তু এখানে কেউ নেই। ঠা-া বাতাস। যাই হোক। সে আসবে। না এসে থাকতে পারবে না। কে আসবে? আমার বিশেষ একজন। চিরপরিচিত। ১৮ বছর আগে পরিকল্পনা হয়েছিলো। যদি আমি বাঁচি, তবে পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় থাকি না কেন এখানে আসবো, আজকের এই দিনে। লোকটির কথা শুনে থমকে গেলাম। আগ্রহের সাথে বললাম, আপনার কি সম্পর্ক তার সাথে। - বিশেষ কোনো কিছু নয়! সে আমার আত্মার পরম আত্মীয়। লোকটি ঠা-ায় জমে যাবে মনে হল। তার শরীর কাঁপছে। এবার ভনিতা ছাড়াই বললো- ১৮ বছর আগে আমি এক সুঠাম যুবক ছিলাম। অবিবাহিত। বয়স ছিল ২২। আমরা এখানে প্রায়ই এসে বসতাম। গল্প করতাম। ভবিষ্যৎ জীবনের ছবি আঁকতাম। আমরা সত্যিকার অর্থে অভিন্ন আত্মা ছিলাম। বৃষ্টির সময় আমরা যেমন এখানে কাটিয়েছি বৃষ্টিতে ভিজে, তেমনি প্রচ- রৌদ্রে ও এখানে অনেক সময় কাটিয়েছি। এখনকার মত এত সুন্দর সাজানো গোছানো পরিবেশ ছিল না কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মুগ্ধতায় আমাদের প্রাণ ভরে যেত। - তারপর? - আমার অভিন্ন হৃদয় বান্ধবীটা সবসময় আমাকে তাড়া দিতো, চাকুরী খুঁজতে। আমি তখন বেকার। অনেক চেষ্টা করেও চাকরি না পেয়ে কিছুটা হতাশ ছিলাম। একদিন মনে প্রচ- জেদ ঢুকে গেল। আমরা দুজনে বসে প্রতিজ্ঞা করলাম দুজন দুজনকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না। কাজের খোঁজে আমি বিদেশে পাড়ি জমালাম। প্রমিজ করলাম আজকের এই দিনে আমরা মিলিত হবো। তখন আমার বয়স হবে ৪০। ওর ৩৬। আমি নিজের সম্পর্কে সচেতন ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম পরিশ্রম করলে এর পুরস্কার পাবোই। দীর্ঘ ১৮ বছর আমি বিদেশের মাটিতে কাজ করে অনেক স¤পদ কামিয়েছি। - বাহ! বেশ। ইন্টারেস্টিং তাহলে দীর্ঘ সময় তুমি বিয়ে না করেই রয়েছো। তার সাথে দেখা হয়নি? কথা হয়নি? - দেখা হয়নি! তবে কথা হয়েছে। চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে। তবে গত কয়েক বছর যাবৎ তার সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ? আমি কিছুটা ইতস্তত করে বললাম, “দেখো, অপেক্ষা কর।” কথা বলতে বলতে লোকটা বারবার উদভ্রান্তের মত চারদিকে তাকাচ্ছিল। - ১৮ বছর আগে আমরা যখন পর¯পর কাছ থেকে বিদায় নিই তখন ছিল সন্ধ্যা সাতটা। - বিদেশে তাহলে অনেক কিছু করেছো? - হ্যাঁ, জীবনের জন্য যা যা দরকার সবই করেছি। বিত্ত স¤পদ অর্জনটা যদিও অনেক কঠিন, পরিশ্রমের ব্যাপার, তারপরও দেড় যুগ কাটিয়েছি - শুধু এই সময়ের জন্য। মনে হলো। জীবনটা কত বৈচিত্রময়। একজন মানুষ অন্যজনকে পাওয়ার জন্য কি সংগ্রাম করছে বিগত ১৮ বছর ধরে। মনের মাঝে হাজার প্রশ্নের উদ্রেক হল! দীর্ঘ ১৮ বছর লোকটি পরিশ্রম করলো শুধু তার কথাটিকে বাস্তব রূপ দিতে। শীতের ঠা-ায় শীতল হিমেল হাওয়ায় সাথে ঘন কুয়াশা যেন আরো ঠা-া বাড়িয়ে দিলো। জনমানবহীন শূন্য অবস্থায় লোকটি বসে রইল যৌবনের এক সুদর্শনার জন্য অধীর প্রতীক্ষায়। হঠাৎ করে একটি আধা বয়সী পাঞ্জাবি পরিহিত লোক, হন হন করে লোকটির দিকে এগিয়ে এলো। লোকটি সবেমাত্র কিছু শুকনো গাছের পাতা জ্বালিয়েছিলো, নিজেকে গরম করার জন্য। - আপনি কি জামান? আগুনের কাছে থেকে দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে বলল- হ্যাঁ আমিই জামান। কিন্তু আপনি কে? - আমাকে চিনবেন না। - নাম জানলেন কিভাবে? - দেখেন আমি জানি আপনি দীর্ঘ দেড় যুগ পর এখানে এসেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামে আপনি লিপ্ত থেকেছেন, শুধু একজনকে পাওয়ার আশায়। - জ্বি কিন্তু আপনাকে তো আমি চিনি নি। - লক্ষ্মী হঠাৎ করে পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটি চিঠি বের করে বলল, চিঠিটি আমার স্ত্রীর। সে গত কয়েক বছর আগে অসুস্থ হবার পরে লিখেছিল। কিন্তু মনে হয় অসুস্থতা বেশি হওয়ায় সে এটি পোস্ট করতে পারেনি। আমি তার ভ্যানিটি ব্যাগে চিঠিটা পেয়েছিলাম। - কি হয়েছিল তার? - সার্ভিক্যাল ক্যান্সার। - সার্ভিক্যাল ক্যান্সার। আর কিছু না বলে চিঠিটা মেলে ধরে পড়তে লাগলাম। “প্রিয় জামান, আমি জানি তুমি আমাকে পাওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় ধরে অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছো। আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারটা হয়তো তুমি জানো না। আমার বাবার মৃত্যুর আগে তার অনুরোধে আমি শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু তোমার সাথে কথা না রাখার জন্যই হয়তো আমি শাস্তি পেয়েছি। জানি তুমি আসবে কিন্তু আমার সাথে দেখা হবে কি-না জানিনা। আমি কাউকেই আজ দোষারোপ করছি না। আমার নিয়তিই বুঝি সব কিছুর নিয়ামক। আর কয়দিন বাঁচবো জানিনা। যতদিন বাঁচবো স্মৃতি আগলে রাখবো। আর যদি শুনো আমি মারা গেছি তবে তুমি আমার কবরে একটি ফুল দিয়ে যেও।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর