সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিহতদের পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দল, আর্থিক অনুদান প্রদান দায়সারা বাঁধে ফসলহানির শঙ্কা সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা ৩২ করে সংসদে বিল পাস উগ্র মতাদর্শের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জ্বালানি সংকটে ভোগান্তি বাড়ছেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী ইভটিজিং প্রতিরোধে শহরে পুলিশের বিশেষ অভিযান বাঁধ দুর্বল, আকাশে মেঘ, দুশ্চিন্তায় হাওরপাড়ের কৃষক নষ্ট হওয়ার পথে হাজারো হেক্টর জমির ধান ‎জামালগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত ২ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ ইরানকে ১০ দিনের আলটিমেটাম ট্রাম্পের কার্ডের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকার সার-বীজ দেওয়া হবে কৃষকদের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা তাহিরপুরে সেতুর অভাবে যুগ যুগ ধরে দুর্ভোগে চার গ্রামের মানুষ ভূমধ্যসাগরে নিহত ১২ যুবকের পরিবারে কান্না থামছেনা, ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা হামের লক্ষণ নিয়ে দুই শিশু হাসপাতালে ভর্তি, আরও একজনকে সিলেটে রেফার হাওরের ধান ঘরে তুলতে জেলা প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি ‎জামালগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ পিআইসি কমিটির সভা জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে বাদাঘাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট

মাটি পরীক্ষার সুফল অধরা, কাঙ্খিত পরামর্শ পাচ্ছেন না কৃষক

  • আপলোড সময় : ২৯-১২-২০২৫ ১১:২১:০৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-১২-২০২৫ ১১:২৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
মাটি পরীক্ষার সুফল অধরা, কাঙ্খিত পরামর্শ পাচ্ছেন না কৃষক
শামস শামীম::
সুনামগঞ্জে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট হাওরের কৃষি উন্নয়নে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়ার কথা থাকলেও কৃষকরা কাক্সিক্ষত পরামর্শ পাচ্ছেন না। মাটি পরীক্ষার পর সংশ্লিষ্টরা পরামর্শ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে কৃষক তা মানছেন না। তাছাড়া মাটি পরীক্ষা করে কৃষির উন্নয়নে কৃষকরা উদ্যোগী হবেন এই কার্যক্রমেরও পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় স্বাভাবিক গতি কমতে দেখা গেছে। চাষবাসের উন্নয়নে ফসল ফলানোর লক্ষ্যে কোন মাটিতে কিভাবে পরিচর্যা করতে হয়, প্রশিক্ষণসহ মাটির গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে নিয়মিত পরামর্শ দেয়ার কথা রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির।
সুনামগঞ্জ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, হাওরের কৃষক ও অন্যান্য উপকারভোগীদের মৃত্তিকা, পানি, উদ্ভিদ ও সার বিশ্লেষণ সেবা এবং মৃত্তিকা নমুনা বিশ্লেষণের ফলাফল অনুসারে স্থানভিত্তিক ফসল চাষের জন্য সার প্রয়োগের সুপারিশ করার কথা প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়াও জেলার মৃত্তিকা উর্বরতা এবং ভূমির উৎপাদন কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করে ফলাফলও যথাযথভাবে প্রয়োগ করার কথা। মৃত্তিকা বিশ্লেষণের ফলাফল, মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং মৃত্তিকা বিশ্লেষণের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফসল চাষে সার প্রয়োগের বিশেষ সুপারিশ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও মৃত্তিকা উর্বরতা অবক্ষয় সমস্যা, ফসলের পুষ্টি উপাদানের সমস্যা, মৃত্তিকা রসের অভাব এবং ফসল উৎপাদনে বাধা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয় বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় পৌনে চার লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে। যার বেশিরভাগই হাওরের বোরো জমির উপর নির্ভরশীল। তারা সনাতন পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষবাস করে আসছেন। এখনো আধুনিক কৃষির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়নি। তাই কৃষির ফলনে তারা পিছিয়ে আছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ২০২১ সালে হাওর জেলা সুনামগঞ্জে কার্যক্রম শুরুর পর প্রতিষ্ঠানটি ৪ হাজার ৪৬০ জন কৃষককে সার প্রয়োগের সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে। কখনো মাঠ থেকে, কখনো কৃষকরা মাটির নমুনা অফিসে নিয়ে এসে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করাচ্ছেন। এই পরীক্ষার আলোকে ফসল উৎপাদনে কাক্সিক্ষত ফলনের জন্য সংশ্লিষ্টরা কৃষকদের সার প্রয়োগের সুপারিশ করছেন। এজন্য তাদেরকে বিশেষ কার্ডও প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও অনলাইনেও কৃষকরা পূর্ণ ঠিকানা নিবন্ধন করলে অফিসের লোকজন মাঠে গিয়ে মাটির নমুনা এনে পরীক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও কৃষি অফিসের মাধ্যমে জেলার সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জগন্নাথপুর, দিরাই, জামালগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরিতে প্রশিক্ষণ ও মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব উপজেলায় ৫০ জন করে কৃষককে ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্টরা জানান।
তবে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কার্যক্রম চালুর ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে কৃষকদের সার সুপারিশ সেবার পরিসংখ্যান বেশি দেওয়া হলেও এখন এই গতি কমে এসেছে। চলতি বছর মাত্র ৪৬০ জন কৃষককে সার সুপারিশ কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে তালিকা ধরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারা উপজেলা কৃষি অফিসে মাটির নমুনা দিয়ে মাটি পরীক্ষা করিয়েছিলেন তারা কোনো পরামর্শ পাননি। তাই পরীক্ষার পর তাদের কি করতে হবে এ বিষয়ে তারা ওয়াকিবহাল নন।
দিরাই উপজেলার শরিফপুর গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, আমি বছর খানের আগে দিরাই কৃষি অফিসে ক্ষেতের মাটি দিয়ে এসেছিলাম। তারপরও আমাকে তারা কিছুই জানায়নি। আমি আগে যেভাবে চাষ করতাম একইভাবে চাষ করতেছি।
ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমি দুই বছর আগে মাটি দিয়ে আসছিলাম। পরে আমাকে কিছু জানায়নি। আমি আমার মতো চাষ করি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, আমি মাটি পরীক্ষা করিয়েছিলাম। কিন্তু তারা জমিতে যে পরিমাণ সার প্রয়োগ করার কথা বলেছে তা দিলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তারা প্রতি শতাংশে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম সার প্রয়োগ করার কথা বলেছে। তাদের হিসেব মানলে প্রতি কেয়ারে (প্রতি ৩০ শতাংশে এক কেয়ার) ৪০ কেজির উপর সার প্রয়োগ করতে হবে। এতে খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। তাই তাদের সুপারিশ না মেনে আমার মতো করছি।
সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জ মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাটি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা সার প্রয়োগ সুপারিশ করে থাকি। এটা মানলে ফলন বেড়ে যাবে এবং রোগবালাইও প্রতিরোধ হবে। তবে কেউ না মানলে আমরা কি করবো। পরীক্ষা করার পরও যারা সুপারিশ কার্ড পায়নি সেই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দায়সারা বাঁধে ফসলহানির শঙ্কা

দায়সারা বাঁধে ফসলহানির শঙ্কা