সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

ভ্রমণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

  • আপলোড সময় : ২৮-১২-২০২৫ ০৮:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-১২-২০২৫ ০৪:৫৮:১৫ অপরাহ্ন
ভ্রমণ কেন গুরুত্বপূর্ণ? ছবি: কলামিস্ট ও কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ আব্দুল হক।
মোহাম্মদ আব্দুল হক::>
ভ্রমণপিয়াসী মানুষ জ্ঞান পিয়াসী হয়। ভ্রমণ মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভ্রমণ মানে এই নয় যে বহু দূরে যেতে হয়। বরং সবসময় যেখানে থাকেন একটা স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানায় সাংসারিক জীবন যাপনের মতো, সেখান থেকে অল্প দূরত্বে বেড়াতে যাওয়াও ভ্রমণ। মানুষ পৃথিবীতে ভ্রমণ করেই জীবন কাটায়। তারপরও প্রশ্ন আসে, ভ্রমণ কাকে বলে? এমন প্রশ্নের জবাবে সুন্দর বাক্যে সকলেই প্রকাশ করতে না-পারলেও সবাই এটা বুঝে এবং সহজ ভাষায় সকলেই বলতে পারে কোথাও ঘুরতে যাওয়াই ভ্রমণ। সহজে বলা যায়, মানুষ যখন অবসরে ছুটি কাটাতে সবসময় এক জায়গায় অবস্থান থেকে একটু দূরে কিংবা আরও দূরবর্তী কোনো স্থানে বেড়াতে যায় তখন তা ভ্রমণ হিসেবে গণ্য হয়। প্রথমত কোনো কাজে কোথাও গেলেও যদি নতুন জায়গা দেখার চোখ কান খোলা রাখা যায় তাহলে সেটাও ভ্রমণের অংশ হয়ে যায়। এছাড়াও ভ্রমণের থাকে অনেক রকম উদ্দেশ্য। এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারি এই নিবন্ধের মাধ্যমে। যদিও পৃথিবীতে মানুষ ছাড়াও সকল পাখি ও অন্যান্য প্রাণী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে আমরা দেখি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে পাখি উড়ে উড়ে চলে আসে আমাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন বিল হাওরে, আমাদের যখন শীতকাল। তারপরও আমরা কিন্তু আলোচ্য বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় সেটাকে ভ্রমণ বলতে পারি না। কারণ ভ্রমণের সাথে জড়িত থাকে সৌন্দর্য উপভোগ ও জ্ঞান অর্জন। এখানে ভ্রমণের কেন্দ্রে থাকে মানুষ। মানুষের বহু রকম কাজ এবং বহু রকম নেশা। মানুষ গাছের মতো একপায়ে দাঁড়িয়ে থেকে বাতাসের বেগের সাথে হেলেদুলে জীবন কাটায় না। মানুষ পাহাড়ের মতো এক জায়গায় অটল থাকে না। মানুষ প্রকৃত অর্থে বহতা নদীর মতো। সুনির্দিষ্ট এক জায়গায় স্থির থেকে গাছ বা পাহাড়ের মতো একটা জীবন কাটানো মানুষের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে না। এমনকি ধ্যানী যে মানুষ তাকেও ছুটতে হয়। মানুষ তার কাজের জন্য এক প্রান্ত থেকে অন্য কোথাও ছুটে। একটা কাজ শেষ হলে নতুন করে কর্মপরিকল্পনা সাজায় আবার ছুটে আবার ফিরে। এটা-ও ভ্রমণের অংশ। এছাড়া মানুষ যখন সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা নিজ নিজ সংস্কৃতি ও ধর্ম পালনের জন্য বছরের বিশেষ বিশেষ কিছু দিন ছুটি পায় তখন দূরে কোথাও বেড়াতে যায়। এটা-ও ভ্রমণের বড়ো অংশ। বয়স ভেদে মানুষের ভ্রমণের রয়েছে নানান রকম পরিকল্পনা এবং সেভাবেই ভ্রমণ স্থান বিবেচনা করা হয়। আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়েও ভ্রমণের স্থান ঠিক করা হয়। ভ্রমণের জন্য সারা পৃথিবী আমাদের আছে এবং আছে সবসময় যাওয়ার সম্ভাবনা। বাংলাদেশের আবহাওয়ার বিবেচনায় নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ বা ঘুরে দেখার সবচেয়ে ভালো সময়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পঞ্চগড় থেকে টেকনাফ এবং সিলেট থেকে খুলনা সবখানেই ভ্রমণের উপযুক্ত জায়গা ও পরিবেশ আছে। এখানে সর্বত্রই দেখার আছে অনেক অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আমাদের এখানে সিলেটের চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য রয়েছে অনেক জায়গা। আছে সারাদেশে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফয়েস লেক, পতেঙ্গা, সুন্দরবন, বান্দরবান, সাজেক, রাঙামাটি, কাপ্তাই, সীতাকু- চন্দ্রনাথ পাহাড়, শ্রীমঙ্গল, মাধবকু- জলপ্রপাত, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লায় লালমাই পাহাড়, শালবন বিহার, সিলেটের চা-বাগান, রাতার গুল, জাফলং এবং সর্বোপরি ঢাকার কাছে সাভার স্মৃতিসৌধ, ঢাকা চিড়িয়াখানা, জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় গণগ্রন্থাগার, আহসান মঞ্জিল আরও অনেক অনেক জায়গা, যেখানে গেলে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের খোঁজ পাওয়ার পাশাপাশি জ্ঞান অনুসন্ধানের সুযোগ হয়। এজন্যই বলা হয় ভ্রমণ চোখের দেখার তৃপ্তির সাথে সাথে মনের সুখ ও জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে তোলে। কাজেই আমরা যদি সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন করতে চাই, তাহলে আমাদের সন্তানদেরকে নিয়ে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ভ্রমণে যাওয়া দরকার। ভ্রমণের জন্য টাকা লাগে এবং সময় লাগে। এটুকু মাথায় রেখে আগে থেকেই জীবনের কর্মপরিকল্পনায় ভ্রমণকে যুক্ত করতে হয়। ভ্রমণে মানুষের ক্ষতির চেয়ে লাভ বেশি হয়। বেশি কিংবা অল্পকিছু টাকা খরচ হলেও ভ্রমণ মানুষকে নতুন নতুন স্থানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনাচার স¤পর্কে জানতে সাহায্য করে। মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, ধৈর্য্য বাড়ে এবং ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভ করা যায়। ভ্রমণে মানুষের জীবন যতোটা সমৃদ্ধ হয় তার তুলনায় ভ্রমণ করতে গিয়ে খরচ হয়ে যাওয়া টাকা অতি নগণ্য। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নানান রকম চাপ থাকে। ধারাবাহিক একঘেয়ে জীবন থেকে সরে গিয়ে মাঝে মাঝে ভ্রমণে গেলে মানুষের মন আনন্দিত হয়, শরীর চাঙা হয় এবং এরপর নতুন উদ্যম নিয়ে আরও মনোযোগ দিয়ে অনেক ভালো কাজ করতে পারে। সেজন্যে মানুষের জীবনে ভ্রমণের গুরুত্ব অপরিসীম। ভ্রমণ মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।
[মোহাম্মদ আব্দুল হক, কলামিস্ট ও কথাসাহিত্যিক]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স