সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎প্রতি শুক্রবার আইসিসিবিতে বসবে ‘সুপার সেল কার বাজার’ বিশ্বম্ভরপুরে এসআরবি-৯ এর অভিযানে ৩৩ বোতল বিদেশী মদসহ গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে জমজমাট নৌকা বাইচ সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কারে কচ্ছপের গতি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি' দেশে ৭ মাসে ধর্ষণের শিকার ৬৪১ নারী-শিশু : আসক ‎জামালগঞ্জে বিষাক্ত রং ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : সিলেটে রাষ্ট্রপতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে : ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস টাঙ্গুয়ার হাওরেও পাওয়া যাচ্ছে রাক্ষুসে সাকার মাছ তাহিরপুরে বন্যা পূর্ব প্রস্তুতি ও আগাম সাড়াদান মহড়া অনুষ্ঠিত ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল জামালগঞ্জে চাচাতো ভাইয়ের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু ভূতুড়ে মামলা, গায়েবি মামলা যেন আর না হয়, হুইপ জি কে গউছ যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি আজ সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি ভোরে পাচার হয় ধোপাজান নদীর লুটের বালু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে কঠোর পদক্ষেপ - জি কে গউছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ বিএনপির জাতিসংঘ অধিবেশন : ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রসঙ্গ: হাওরে ভূ-উপরিস্থ উন্নয়ন প্রকল্প

  • আপলোড সময় : ২৫-১২-২০২৫ ১০:১৮:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-১২-২০২৫ ১০:১৮:৩৩ অপরাহ্ন
প্রসঙ্গ: হাওরে ভূ-উপরিস্থ উন্নয়ন প্রকল্প
হাওর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এই অঞ্চল তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি। সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের চার জেলায় প্রায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’ সেই দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণের এক বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে এবং অতিরিক্ত ৫১ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। হাওর এলাকার কৃষকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক খবর। খাল ও পাহাড়ি নালা খনন, গোপাট পাকাকরণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর যে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে হাওরের গোপাট পাকাকরণ কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি। বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান নৌপথ ও সড়কপথে সহজে পরিবহন করতে না পারায় কৃষকদের সময়, শ্রম ও অর্থের অপচয় হয়। এই অবকাঠামো উন্নয়ন হলে কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো পরিবেশগত দিক থেকেও একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে বাস্তবতা হলো- হাওর অঞ্চলে অতীতের বহু উন্নয়ন প্রকল্প প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণে। খাল খননের নামে মাটি না কেটে বরাদ্দ লোপাট, নি¤œমানের ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ, অকার্যকর রেগুলেটর - এসব অভিযোগ নতুন নয়। ফলে এবারও এই বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে একই চক্র সক্রিয় হলে জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং কৃষক সমাজ তাই যথার্থভাবেই কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছেন। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ ঠিকাদার নিয়োগ, মানসম্মত নির্মাণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে এই বিপুল অর্থের বিনিয়োগ অর্থহীন হয়ে পড়বে। কেবল কাগজে-কলমে নয়, মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান ও টেকসই হতে হবে। সরকারের প্রাচীন কৃষি প্রতিষ্ঠান বিএডিসির মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন একটি ইতিবাচক দিক। তবে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রক্ষা করতে হলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ জরুরি। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, হাওরের ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের কৃষিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু সম্ভাবনার এই দ্বার তখনই উন্মুক্ত হবে, যখন উন্নয়ন মানেই শুধু ব্যয় নয়- জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও টেকসই ফল নিশ্চিত করা হবে। হাওরের মানুষ এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফল দেখতে চায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কারে কচ্ছপের গতি

সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কারে কচ্ছপের গতি