নিলামের আগেই কি গরুগুলোর প্রাণ যাবে?
- আপলোড সময় : ২৪-১২-২০২৫ ০৮:০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-১২-২০২৫ ০৮:০৬:৫১ পূর্বাহ্ন
আইনের শাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান রোধ - সবই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের পথে যদি নিরীহ প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়, তাহলে সেখানে মানবিকতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা - দুটিই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সুনামগঞ্জে জব্দ করা ৩১টি ভারতীয় গরুর বর্তমান অবস্থা আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। ছয় দিন পার হলেও নিলাম প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় শীত, খোলা আকাশের নিচে অনাহার, তৃষ্ণা ও চিকিৎসাহীন অবস্থায় এসব গরু কার্যত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ইতোমধ্যে একটি গরুর মৃত্যুর খবর সেই আশঙ্কাকে বাস্তবতায় পরিণত করেছে।
আইনানুগ প্রক্রিয়া অবশ্যই অনুসরণযোগ্য। তবে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা মানেই কি প্রাণহানির ঝুঁকি মেনে নেওয়া? জব্দ করা গরুগুলো কোনো অপরাধী নয় - তারা পরিস্থিতির শিকার মাত্র।
স্থানীয় একজন মানুষ আগুন জ্বালিয়ে গরুর শরীরে তাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন - এ দৃশ্য প্রশাসনের জন্য লজ্জার নয় কি? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ঘাটতি কি সাধারণ মানুষকে এমন দায়িত্ব নিতে বাধ্য করবে?
জব্দকৃত পশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক নয়, নৈতিক দায়িত্বও। খোলা জায়গায় পশু রাখার পরিবর্তে অস্থায়ী আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাদ্য-পানি, পশু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান এবং দ্রুততম সময়ে নিলাম সম্পন্ন করা - এসব কোনো বিলাসিতা নয়, বরং ন্যূনতম মানবিক ব্যবস্থা।
প্রশ্ন একটাই- নিলামের কাগজপত্র ঘুরতে ঘুরতে যদি আরও গরুর প্রাণ ঝরে পড়ে, তার দায় কে নেবে?
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে- আইন প্রয়োগের সঙ্গে মানবিক ব্যবস্থাপনা সমানতালে না চললে তার পরিণতি হয় নিষ্ঠুর। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে আর কোনো নিরীহ প্রাণ অব্যবস্থাপনার বলি না হয়। মানবিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে কেবল মানুষের জন্য নয়, নির্বাক প্রাণীর প্রতিও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়