সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে আবারও সক্রিয় হচ্ছে জঙ্গি নেটওয়ার্ক? জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ৪৩ বছরের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায় পেলেন অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কৃষকদের জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না : জেলা প্রশাসক হাওরাঞ্চলে ‘মাল্টিপারপাস শেড’ নির্মাণের পরিকল্পনা দিরাইয়ে বিষপানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : এমপি কয়ছর আহমদ বিএনপি ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে : জামায়াত আমির ৭ দিনের গণভোট প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক : রিফাত রশিদ শিশুদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে : মির্জা ফখরুল ‘জঞ্জালতন্ত্র’ নিয়ে গবেষণামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত বাঁধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবি পাকা ধানে ত্রাহি অবস্থা কৃষকের মধ্যনগরের গুমাই নদে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন মে দিবসে সবেতনে ছুটি ও ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে মাঠ গোছাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা সোনালী চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন : বিলুপ্তির পথে ৬ গ্রাম ২৮ এপ্রিল থেকে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : সমাজ বাস্তবতা উঠে এসেছে যার লেখায়

  • আপলোড সময় : ২০-১২-২০২৫ ১০:৪৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-১২-২০২৫ ১০:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : সমাজ বাস্তবতা উঠে এসেছে যার লেখায়
এস ডি সুব্রত::
নিজের লেখার ধরন সম্পর্কে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় নিজেই বলেছেন- “হঠাৎ একটা লাইন এসে যায়। ওই যেমন তুলোর থেকে একটা একটা করে সুতো বেরিয়ে আসে, তেমনি ওই লাইন থেকে শব্দেরা ভিড় জমায়। ভাবনা শুরু হয়, চরিত্র আসে, ঘটনা আসে। আমি শব্দ দিয়ে ছবি দেখতে আরম্ভ করি।” এপার বাংলা ও ওপার বাংলার জনপ্রিয় সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের জন্য গল্প লিখেছেন। কল্পবিজ্ঞানের গল্প লেখার জন্যে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তিনি বরোদাচরণ, ফটিক এবং শবর দাশগুপ্তর মতো বড়োদের জন্যে লেখা চরিত্রগুলির জন্যও বিখ্যাত। তাঁর লেখা অনেকগুলি উপন্যাস নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণও হয়েছে।
১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২ নভেম্বর ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তার বাবা কলকাতায় চলে যান রেলের চাকরির কারণে। পরিবারের সাথে কলকাতায় মনোহরপুকুর রোডে একটা ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। পিতার রেলে চাকরি সূত্রে আসাম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে থেকেছেন তিনি। কাটিহারে ক্লাস টু তে ভর্তি হবার সময় ভীষণ দুষ্টু ছিলেন তিনি একথা ‘আমার জীবনকথা’ আত্মকথায় বলেছেন তিনি। কাটিহারে থাকার সময় তিনি প্রথম গল্পের বই পড়া শুরু করেন, পত্রিকা পড়তেন নিয়মিত, সেই সময় খবরের কাগজে যুদ্ধের কথা, দুর্ভিক্ষের পরিবেশ চারিদিকে। কাটিহারের পর তারা যান মালজংশনে, মালজংশন থেকে দোমোহানিতে, তারপর ময়মনসিংহে, সেখান থেকে আসামে। কুচবিহার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ১৯৫৫ সালে সিটি কলেজে বাংলা অনার্স নিয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন। মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড়ের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি ১৯৬১ সালে তাঁর প্রকৃত কর্মজীবন শুরু করেন কালীঘাট ওরিয়েন্টাল একাডেমীতে শিক্ষকতার মাধ্যমে। তার প্রথম গল্প ‘জলতরঙ্গ’ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তার প্রথম উপন্যাস ‘ঘুণপোকা’ দেশ পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত হয়। তার প্রথম কিশোর উপন্যাস ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’। নিজের বাড়িতে একাকীত্বের যন্ত্রণা আর মৃত্যুভয় তার মনে বাসা বাঁধে সেইসময়, ১৯৬৫ সাল নাগাদ তিনি ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের কাছে আশ্রয় নেন এবং ঠাকুরের বাণী শুনে অবসাদ থেকে তার মুক্তি লাভ ঘটে। ‘ঘুনপোকা’ প্রকাশিত হওয়ার পরের বছর তিনি তার বান্ধবী সোনামন চক্রবর্তীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তার এক পুত্র সন্তান এবং এক কন্যাসন্তান হয়। ১৯৭৫ সালে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগদান করেন। দীর্ঘকাল দেশ পত্রিকার স¤পাদক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী বাঙালি সমাজ জীবনে ভাঙ্গন, মূল্যবোধের অবক্ষয়, অস্থিরতা, তার গল্প-উপন্যাসে উঠে এসেছে। তার গল্পে ফুটে উঠেছে একবিংশ শতকের মানুষদের ব্যক্তিসত্তা, সুখ-দুঃখ, ঘাত- প্রতিঘাত। সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তিনি। দেশভাগ, উদ্বাস্তু আগমন, বেকারত্ব, একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙ্গন ইত্যাদি উঠে এসেছে তার লেখায়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন আধ্যাত্মিকতাবাদের মধ্যে। তাঁর লেখায় তিনি অনুসন্ধান করে চলেছেন জীবনের সত্যতা, তাঁর উপন্যাসে উঠে এসেছে দেশভাগ, নকশাল আন্দোলন উদ্বাস্তু সমস্যার কথা, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রথম উপন্যাস ‘ঘুনপোকা’তে দেশভাগের কথা এসেছে। তিনি যখন ক্লাস সিক্স-সেভেনে পড়েন তখন দেশভাগ হয়,তিনি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন দেশভাগের যন্ত্রণা। যা তাঁর সাহিত্যে রচনাতেও উঠে এসেছে বারবার। তিনি পচ্ছন্দ করতেন না সম্পর্কে গোপনীয়তা, সত্যিকে তিনি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন বারবার। বাইরের ঘটনাবহুল জগত নয় বরং মানুষের অন্তর্জগতের জটিলতা, আমিত্ব’র অসহায়তা ধরা পড়েছে তার ‘আমরা’ এবং ‘আমাকে দেখুন’ গল্প দুটিতে। তাঁর ছোটগল্পগুলি আমাদের এক নতুন জগতে অবতীর্ণ করে, যেখানে অস্থিরতা নয়, থাকে বিশ্বাস। অস্তিত্ব সন্ধানের ব্যাকুলতা তার যে সমস্ত গল্পে দেখা যায় সেগুলি হল- ‘আমাকে দেখুন’, ‘প্রতীক্ষার ঘর’, ‘স্বপ্নের ভিতরে মৃত্যু’, ‘আত্মপ্রতিকৃতি’ প্রভৃতি গল্পে। সাধারণ সহায় সম্বলহীন মানুষের মনেও যে ভালো দিক থাকে তা তিনি তুলে ধরেছেন ‘ইচ্ছে’ গল্পটির মধ্যে দিয়ে। যেখানে গল্পের নায়ক সাঁটুলাল তার পাপের অভাব নেই একথা জানে এবং মানেও, সে একের পর এক পাপ করে এবং অনুতাপে দগ্ধ হয়ে ভাবে এই শেষ পাপ, আর সে কোনো পাপ করবে না, কিন্তু এই শেষের শেষ হয়না, তা চলতেই থাকে। তাঁর আরেকটি অসাধারণ ছোটগল্প ‘নীলুর দুঃখ’, যেখানে নীলু পাড়ার সব মস্তানদের বন্ধু। নীলুর জীবনে অনেক দুঃখ। সংসারের সব ঝামেলা তার কাঁধেই এসে পড়ে। কুসুমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি। তার পরিবারের কেউ তাকে নিয়ে ভাবে না। তার হৃদয়ের দুঃখের গল্প এক গভীর রাতে সে একনাগাড়ে বলে চলে পাগলা পোগোর কাছে। গল্পকার অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে এক নিঃসঙ্গ তরুণের ব্যক্তিগত কষ্ট, যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। শিশু সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৮৫ সালে তিনি বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে ‘মানবজমিন’ উপন্যাসের জন্য তিনি সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার পান। ২০১২ সালে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে সম্মানিত হন। এছাড়াও তিনি ১৯৭৩ এবং ১৯৯০ সালে আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বহু উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। তার সৃষ্ট শবর চরিত্রটি নিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি রহস্য চলচ্চিত্র। এছাড়াও অদ্ভুতুড়ে সিরিজ অবলম্বনে বিভিন্ন সিনেমা তৈরি হয়েছে। তার কাহিনী অনুসারে বানানো চলচ্চিত্রগুলি হল- আজব গাঁয়ের আজব কথা, বাঁশিওয়ালা, পাতালঘর, গোঁসাই বাগানের ভূত, দোসর, কাগজের বৌ, গয়নার বাক্স, ছায়াময়, সাধুবাবার লাঠি, মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি, ঈগলের চোখ, আসছে আবার শবর, হীরের আংটি, আশ্চর্য্য প্রদীপ, এবার শবর।

[লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক, সুনামগঞ্জ]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
হাওরাঞ্চলে ‘মাল্টিপারপাস শেড’ নির্মাণের পরিকল্পনা

হাওরাঞ্চলে ‘মাল্টিপারপাস শেড’ নির্মাণের পরিকল্পনা