সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নিন
- আপলোড সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৭:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১২-২০২৫ ০৭:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট আজ একটি গভীর কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে। একটি নবীন মেডিকেল কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা মানে শুধু পাঠদান ব্যাহত হওয়া নয়, এটি ভবিষ্যৎ চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে যে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়েছিল, সেটি আজ নিজেই অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। বর্তমানে কলেজটিতে ২৮০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অথচ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের অধিকাংশ পদই শূন্য। বিশেষত ডার্মাটোলজি, অর্থোপেডিক্স ও রেডিওলজি - এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কোনো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকাটা চরম দায়িত্বহীনতারই প্রতিফলন। মেডিকেল শিক্ষায় তত্ত্বের পাশাপাশি প্র্যাকটিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল জ্ঞান অপরিহার্য। সেখানে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় নয়, পেশাগত জীবনেও মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়বে - এ আশঙ্কা অমূলক নয়।
এটি দুঃখজনক যে, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে একাধিকবার জানানো হলেও এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। ফাইল এক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ে ঘুরে বেড়ালেও বাস্তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিন। অবকাঠামো নির্মাণের ধীরগতি, আউটডোরিং সেবার অনিশ্চয়তা ও জনবল নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা - সব মিলিয়ে এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার স্পষ্ট চিত্র।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ক্লিনিক্যাল ক্লাস চালু হলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। একটি মেডিকেল কলেজ মানেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা পরিবেশ- যেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক, আধুনিক অবকাঠামো ও নিয়মিত আউটডোরিং সেবা একে অপরের পরিপূরক। এর যেকোনো একটির ঘাটতি পুরো ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।
আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ, অন্তর্বর্তীকালীন শিক্ষক পদায়ন এবং অবকাঠামো কাজ ত্বরান্বিত করা এখন সময়ের দাবি। শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব অগ্রগতির মাধ্যমেই হাওরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল কলেজকে কার্যকর ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে। আজ যদি এই সংকট উপেক্ষিত থাকে, তবে আগামী দিনে এর মাশুল দিতে হবে পুরো অঞ্চলকে - অপ্রস্তুত চিকিৎসক ও নি¤œমানের স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে। তাই এখনই সিদ্ধান্তের সময়, দায়িত্বশীলতার সময়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়