শামস শামীম::
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। বিশেষ করে বিষয়ভিত্তিক একাধিক শিক্ষক না থাকায় পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও অন্যান্য বিষয়েও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ও জরুরি পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। এ কারণে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করলে নানামুখি বাধার মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
এদিকে, জনবল পূরণের জন্য গত ২ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে কবে জনবল নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি সচল করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৮০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে হাওরের এই মেডিকেল কলেজটিতে। খুঁড়িয়ে পাঠদান চললেও আউটডোরিং সেবার জন্য কবে কলেজটি চালু হবে জানেনা কেউ। দেখা গেছে, এখনো অবকাঠামোর কাজ চলছে। এই কাজও চলছে ঢিমেতালে। তবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল কাঠামো নিয়োগের ফাইলপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনপ্রশাসন হয়ে এখন অর্থমন্ত্রণালয়ে আছে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে জনবল অবকাঠামোর ফাইল চাপা পড়ে আছে বলে আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে অধ্যাপকের ১২টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি পদই শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের ২৫টির মধ্যে ১৯টিই শূন্য। সহকারী অধ্যাপকের ২৬টির মধ্যে ১৯টিই শূন্য। এছাড়া লেকচারার ২৮টির মধ্যে ৯টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ডার্মাটোলজি, অর্থপেডিক্স ও রেডিওলজি বিভাগের কোনও শিক্ষকই নেই। যার ফলে এই তিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক পাঠদান থেকে সম্পূর্ণ পিছিয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা জানান, মেডিকেলের প্র্যাকটিক্যাল-থিওরিটিক্যাল প্রতিটি ক্লাসই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিষয়ভিত্তিক অনেক শিক্ষকই নেই। তাছাড়া অভিজ্ঞ অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক পাঠদানও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক পাঠদানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎকদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এই কলেজ থেকে পাশ করে বেরিয়ে গেলেও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হওয়ায় কর্মক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়বেন আশঙ্কা করছেন তারা।
মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব আহমেদ বলেন, প্রথমে ওয়ার্ড ও ক্লিনিক্যাল ক্লাসের জন্য আমরা অনেক পিছিয়ে ছিলাম। পরে আন্দোলন করে এই সমস্যার সাময়িক সমাধান হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এখন ক্লিনিক্যাল ও ওয়ার্ড ক্লাস হচ্ছে। তবে শিক্ষক সংকট ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। যতক্ষণ পর্যন্ত এখানে আউটডোরিং কার্যক্রম চালু না হলে ততক্ষণ পর্যন্ত মেডিকেল পড়ুয়ারা বঞ্চিতই থাকবে।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোস্তাক আহমদ ভূইয়া বলেন, শিক্ষকের অভাবে আমরা পিছিয়ে আছি। তিনটি বিষয়ের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। প্রতিটি বিভাগের একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শিক্ষক নেই। যার ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণে পিছিয়ে আছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি গত ২ ডিসেম্বরও মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছি। আমি নিয়মিত এ বিষয়ে আমাদের উপরের মহলকে অবগত করে যাচ্ছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত
- আপলোড সময় : ১০-১২-২০২৫ ১২:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১২-২০২৫ ১২:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন
ছবি: সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ