সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ , ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সদরে সাফল্যের জোয়ার, অন্যান্য উপজেলায় ভাটা, পাসের হার ৫৩.৮৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৩ জন সুনামগঞ্জে ৬ মাসে প্রাণ গেছে ৫৩ জনের ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী “সবচেয়ে মিষ্টি গান সেগুলোই, যা সবচেয়ে দুঃখের কথা বলে” মিয়ারচর খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন দিরাইয়ে এসএসসিতে সেরা বালিকা বিদ্যালয়, পিছিয়ে রয়েছে রফিনগর হাওরাঞ্চলে গরু চুরির হিড়িক, এক মাসে অর্ধশতাধিক গরু চুরি জুলাইয়ে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩১ জীবিত থাকতে পায়নি, মৃত্যুর পর আইসিইউতে হাম-আক্রান্ত শিশু- অভিযোগ বাবা-মায়ের ডা. সৈয়দ মোনাওয়ার আলী : জনকল্যাণে অনন্য পথিকৃৎ ভারতীয় মদসহ কথিত সাংবাদিক লিটন আটক ট্রাভেলস ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার বোকা নদীর সেতুতে ঝুলছে ডাম্প ট্রাক, চালক পলাতক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই : প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচার, গুয়াহাটি ক্যাম্পে মানবেতর জীবন সুনামগঞ্জের যুবকের বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার রবীন্দ্রনাথের জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে সাহিত্য আড্ডা দিরাই বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে কিসের হাসিনা, তার চেহারা কি দেখা গেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেড় বছর ধরে ট্যাকেরঘাট-মহেশখলা সড়কের কাজ বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

  • আপলোড সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১১:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১১:৫১:২৯ পূর্বাহ্ন
দেড় বছর ধরে ট্যাকেরঘাট-মহেশখলা সড়কের কাজ বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
আকরাম উদ্দিন::
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ট্যাকেরঘাট থেকে মহেশখলা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির উন্নয়ন কাজ দীর্ঘ দেড় বছর ধরে বন্ধ পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজ শুরুর সময় সড়কের দুই পাশে মাটি খুঁড়ে স্তূপ করে রাখা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একাধিক ঠিকাদার কাজ ফেলে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় কাজ আর এগোয়নি। ফলে সড়কজুড়ে স্তূপ করে রাখা মাটি এখন ধূলায় পরিণত হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় উড়তে থাকা ধুলাবালিতে আশপাশের পুরো এলাকাই পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষ সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যানবাহনে যাতায়াতকারীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

এদিকে সড়কে ফেলে রাখা বালু, পাথর, রডসহ নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি অসমাপ্ত ঢালাই এবং বিভিন্ন স্থানে বের হয়ে থাকা রডের কারণে সড়কটি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্যাকেরঘাট, চারাগাঁও, বাগলী ও মহেশখলা এলাকায় সড়কের অবস্থা এখন বিপজ্জনক। প্রতিনিয়ত গর্ত ও ভাঙ্গায় পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত সরকারের সময়ে বাইরের জেলার ঠিকাদারদের নামে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও এতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেও মাঝপথে ছেড়ে যাওয়ায় সড়কটি আজ সম্পূর্ণ চলাচল-অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বহু ঠিকাদার এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রকল্প স্থবির হয়ে যায়।

পথচারী সাজিদ মিয়া রাসেল বলেন, মুখ ঢেকে চলতে হয় সড়কে। চারদিকে শুধু ধুলা আর ধুলা। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সিএনজি চালক সজর মিয়া বলেন, ট্যাকেরঘাট-মহেশখলা সড়কে চলাচল করতে বড় কষ্ট হয়। তেল বেশি লাগে। গাড়ির অবস্থাও খারাপ হয়। আমাদের সমস্যা কাকে বলবো। শুনেছি ঠিকাদার পালিয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে।
কলেজ শিক্ষার্থী সাজ্জাদুর রহমান তারেক বলেন, সড়ক যোগাযোগ খুবই নাজুক। এই সড়কে চলাচল করতে ভোগান্তির সীমা থাকে না।
স্থানীয় চিকিৎসক আব্দুস ছোবহান বলেন, এখন এলাকায় সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শুকনো মৌসুমে এমনিতেই ধুলোবালি উড়ে। তার ওপর অসমাপ্ত সড়কের কারণে দিনরাত ধুলো উড়ছে।
ডা. আমিনুল হক বলেন, সড়কের ধুলোবালি বসতবাড়িতে ঢুকে মানুষকে অসুস্থ করছে। দ্রুত সড়ক উন্নয়ন কাজ জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় হাজী আব্দুল আলীম জানান, সড়কের কাজ না হওয়ায় আমরা এলাকাবাসী মহাবিপদে আছি। হাঁটতে, বসতে-সর্বত্র ধুলোবালি। খাওয়া-দাওয়া থেকে ঘুম সবই অশান্তি।

অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য ওমর ফারুক বলেন, অসমাপ্ত কাজের কারণে এলাকার পরিবেশ নোংরা হয়ে গেছে। মানুষ নানা ভোগান্তির মধ্যে আছে।

বাগলী শুল্কস্টেশনের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, ধূলাবালির কারণে হাট-বাজারে যেমন চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে, তেমনি বাজারের দোকানপাটে ধূলাবালি পড়ে মালামাল নষ্ট হচ্ছে এবং দোকানের পরিবেশও নোংরা হয়ে যাচ্ছে। তাই সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী মতিশ পাল, আনোয়ার হোসেন, সাবেক মেম্বার আব্দুল আলীম, সুরুজ আলী, শাহাদত হোসেন, নূরুজ্জামান, আলী হোসেন, শ্রমিক মনির হোসেন, আব্দুল মন্নান, শহীদ মিয়া, বাবুল মিয়া, আব্দুস সালাম, হাসান আলী, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, লাল মিয়া, সিরাজ মিয়া, উছমান মিয়া, ফারুক মিয়াসহ অনেকেই জানান যে, সড়কের দুরবস্থা এখন চরমে পৌঁছেছে। তারা অবিলম্বে সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ট্যাকেরঘাট-মহেশখলা এলাকার যোগাযোগ সড়কের কাজ শুরু হবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে। ঠিকাদারদের সাথে আলাপ হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সদরে সাফল্যের জোয়ার, অন্যান্য উপজেলায় ভাটা, পাসের হার ৫৩.৮৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৩ জন

সদরে সাফল্যের জোয়ার, অন্যান্য উপজেলায় ভাটা, পাসের হার ৫৩.৮৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪৩ জন