সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করতে হবে

  • আপলোড সময় : ০৬-১২-২০২৫ ০৩:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-১২-২০২৫ ০৩:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন
সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করতে হবে
শাল্লার আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের করুণ বাস্তবতা আজ ব্রাত্য নয়, বরং এটি দেশের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দখলদারি সংস্কৃতির একটি উদাহরণ। ওই বিদ্যালয়ের ৪৯ শতাংশ জায়গার মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ জায়গা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য নয়। বাকি ৪২ শতাংশ স্থায়ীভাবে স্থানীয়দের দখলে চলে যাওয়া শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে নতুন ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না - এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যেখানে শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনে ক্লাস করছে, সেখানে নিরাপদ ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কিন্তু জমি দখলমুক্ত না হলে কোনো উন্নয়নই সম্ভব নয়। বিষয়টি শুধু আঙ্গারুয়ার নয়; উপজেলা এলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, লক্ষীপাশা, উত্তর শশারকান্দা, কলিমপুর, শেখহাটি ও আগুয়াই - সব জায়গাতেই একই সমস্যা। এর মানে, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকট, যার দ্রুত সমাধান জরুরি। আঙ্গারুয়া ও নোয়াগাঁওবাসীর ১১৬ জনের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ নিঃসন্দেহে একটি সাহসী উদ্যোগ। আরও উল্লেখযোগ্য- অভিযুক্ত দখলদাররাও অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এর মানে, স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানের আগ্রহ রয়েছে, প্রয়োজন শুধু সঠিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। এখন দরকার দ্রুত পদক্ষেপ- সীমানা নির্ধারণ, রেকর্ড যাচাই এবং বেদখল মুক্তি। সরকার যখন শিক্ষার উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, তখন জমি দখলের মতো কারণে ভবন নির্মাণ ব্যাহত হওয়া জাতির অগ্রগতির পথে বড় বাধা। তাই আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল মুক্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষা বিভাগের দায় নয়, এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখলমুক্ত করতে এখনই প্রয়োজন দৃঢ় অবস্থান। নইলে ‘সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা’ স্বপ্নই হয়ে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স