স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হোক
- আপলোড সময় : ২৯-১১-২০২৫ ০২:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১১-২০২৫ ০২:৩৪:৪১ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গণশুনানিটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) আয়োজিত এই শুনানিতে সেবা গ্রহীতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং অভিযোগ উপস্থাপন নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। কারণ স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, আর সেই সেবায় অনিয়ম বা হয়রানি অগ্রহণযোগ্য।
গণশুনানিতে ৪২ জন অভিযোগকারীর মাধ্যমে ৪৭টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে- যার অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে চলা একই সমস্যার প্রতিধ্বনি। হয়রানি, স্বজনপ্রীতি, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, ঘুষের চাপ, সেবায় গড়িমসি, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, টিকেট ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা, তথ্য গোপন, এমনকি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সময়ের আগে বন্ধ - এসব অভিযোগ নতুন নয়। বরং এগুলো বারবার উঠলেও বাস্তবিক উন্নতি তেমন দেখা যায় না। সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন চিত্র জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।
বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনিয়ম ও প্রতিষ্ঠানের ভেতর-বাহিরে মাদকসেবন কিংবা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের অবাধ প্রবেশের মতো বিষয়গুলো। এগুলো শুধু সেবার মানকে ব্যাহতই করে না, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিকেও বাড়িয়ে তোলে।
গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগসমূহ দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন - এটি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তবে শুধু নির্দেশনা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ ও তার দৃশ্যমান ফলই জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সেবাপ্রাপ্তদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।
গণশুনানির মতো এমন উন্মুক্ত ও মানুষকেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই আয়োজনকে নিয়মিত রূপ দেওয়া এবং অভিযোগগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের পৃথক ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
জনগণই একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার। তাই তাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া, দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং দালালমুক্ত, স্বচ্ছ, মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রধান প্রতিশ্রুতি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়