সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

শান্তিগঞ্জ মডেল’ : প্রাথমিক শিক্ষায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

  • আপলোড সময় : ২৮-১১-২০২৫ ০৩:৪৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-১১-২০২৫ ০৩:৪৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
শান্তিগঞ্জ মডেল’ : প্রাথমিক শিক্ষায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
দেশজুড়ে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে, তা কাটাতে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত, তথ্যনির্ভর ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ। ঠিক এমন সময় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা থেকে উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমী মূল্যায়ন পদ্ধতি- ‘শান্তিগঞ্জ মডেল’। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহার উদ্ভাবিত এ মডেল নিয়ে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের মতামত, বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায়ের বক্তব্য, এ উদ্যোগের সম্ভাবনার ইতিবাচক বার্তা বহন করে। শান্তিগঞ্জ মডেলের মূল শক্তি হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা এবং শেখার অগ্রগতি সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ মানোন্নয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। এর ভিত্তিতে শিক্ষকদের পরোক্ষ মূল্যায়ন এবং বিদ্যালয়ের পারফরমেন্স র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়। ফলে কোন বিদ্যালয় কোথায় পিছিয়ে আছে, কোন শিক্ষক কোন বিষয়ে দুর্বল বা সবল - এসব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। এ মডেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ। পরীক্ষায় অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, স্কুলে নিয়মিত আসতে উদ্বুদ্ধ করা এবং ঝরে পড়া রোধে অভিভাবক-সচেতনতা বৃদ্ধি - এসব ক্ষেত্রেও শান্তিগঞ্জ মডেল উল্লেখযোগ্য ফল দেখিয়েছে। এর ফলে উপজেলায় শিক্ষার পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, যা অন্য অঞ্চলেও অনুসরণযোগ্য উদাহরণ। শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরারের বক্তব্যেও একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে- শিক্ষার মানোন্নয়নে নির্মোহ মূল্যায়নের বিকল্প নেই। বহু বছর ধরে প্রাথমিক শিক্ষায় মনোযোগের ঘাটতি, পাঠ্যবস্তুর দুর্বল প্রয়োগ এবং মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে সমালোচনা ছিল, শান্তিগঞ্জ মডেল সেই শূন্যস্থান পূরণে কার্যকর হতে পারে। তবে এ মডেল সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হলে কিছু বিষয় গুরুত্ব পাবে- পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নির্ভরযোগ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা, শিশুবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা এবং পরীক্ষা-কেন্দ্রিক মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ মডেলটির উদ্দেশ্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি নিশ্চিত করা। প্রাথমিক শিক্ষা হলো একটি জাতির ভিত্তি। এ ভিত্তি মজবুত না হলে উচ্চশিক্ষা কিংবা মানবস¤পদ উন্নয়ন - কোনোটিই কাক্সিক্ষত ফল দেবে না। শান্তিগঞ্জ মডেল সেই ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি বাস্তব ও পরীক্ষিত উদ্যোগ। এটি শুধু সুনামগঞ্জের নয়, বরং সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা বয়ে আনতে পারে। সুতরাং এখন প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই উদ্যোগকে আরও গবেষণা, পরিমার্জন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি জাতীয় মডেলে রূপ দেওয়া। শিক্ষার মানোন্নয়নে যে উদ্যম শান্তিগঞ্জ দেখিয়েছে, তা দেশের অন্যান্য উপজেলাও অনুসরণ করলে প্রাথমিক শিক্ষায় একটি ইতিবাচক বিপ্লব ঘটতে সময় লাগবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স