সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ , ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসছে ৩৩ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পথে যেতে যেতে: পথচারী তাহিরপুরে আবারও সংঘর্ষের প্রস্তুতি, লাঠি হাতে পরিস্থিতি শান্ত করলেন এমপি কামরুল ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে বিদায়ী সম্মাননা প্রদান ‎সাচনা বাজারে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, এক পরিবারে একাধিক সারের ডিলারশিপ নয় সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জে সড়ক-সেতু পুনর্নির্মাণে ৩৮৭ কোটি টাকা অনুমোদন জেলা পরিষদ প্রশাসকের সাথে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ৫ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা পায়নি সুবিপ্রবি, ভাড়া ভবনে চলছে কার্যক্রম মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৫ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক মরাচেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে মামলা দায়ের স্কুল থেকেই শিশুদের ক্রীড়া-সংগীতে পারদর্শী করার উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুতে একদিনে প্রাণ গেল ১০ জনের বালু লুটের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান শুরু শাল্লায় ইজারাকৃত জলমহাল দখলের চেষ্টা সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা স্টোর উদ্বোধন সরু সেতু যেন মৃত্যুফাঁদ, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ শিশুদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শৈশবের স্মৃতিচারণ
জামালগঞ্জ-মান্নানঘাট সড়ক

সেতুর মুখে মৃত্যুকূপ, কর্তৃপক্ষ উদাসীন

  • আপলোড সময় : ২৩-১১-২০২৫ ১২:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-১১-২০২৫ ১২:২০:১৪ পূর্বাহ্ন
সেতুর মুখে মৃত্যুকূপ, কর্তৃপক্ষ উদাসীন
বিশ্বজিত রায়::
জামালগঞ্জ-মান্নানঘাট জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের চাঁনপুর সেতুর সম্মুখ অংশে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি মৃত্যুকূপে পরিণত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এক্ষেত্রে উদাসীন বলছেন স্থানীয়রা। শুধু চাঁনপুর সেতুই নয়, এই সড়কের অধিকাংশ স্থানই ভাঙাচোরা এবং একাধিক গর্তও আছে। সড়কটি সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলার অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ভাঙন অংশ ডিঙিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ। এ ভাঙনে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকে। বিগত সময়ে দায়সারা বরাদ্দে ধামাচাপার কাজ করে সংশ্লিষ্টদের পকেট ভারি হলেও চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার এ সড়কে চলতে গিয়ে দেখা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মান্নানঘাট-সেলিমগঞ্জ হয়ে গজারিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের অনেক জায়গাই খানাখন্দে ভরা। এর মধ্যে জামালগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁনপুর গ্রামসংলগ্ন সেতুর সম্মুখস্থল ভেঙে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। সেতুতে উঠার মুখে সড়কের অর্ধেকের বেশি অংশ ধসে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর গ্রামের পাশে কবরস্থান সংলগ্ন সেতুর মুখেও গর্ত আছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
জানা যায়, জামালগঞ্জ-মান্নানঘাট সড়ক দিয়ে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণা দুই জেলার অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ সুনামগঞ্জ থেকে নেত্রকোণা হয়ে রাজধানী ঢাকা এবং নেত্রকোণা থেকে সুনামগঞ্জ হয়ে সিলেটে যাতায়াত করে থাকে। প্রতিদিন মালবাহী পিকআপ ও যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল, টমটম, সিএনজি অটোরিকশাসহ শত শত যানবাহন চলছে এ রাস্তা দিয়ে। সড়কের ভাঙাচোরা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে চলতে গিয়ে মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে যাত্রীবাহী যানবাহন। ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মেরামত না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকে।
সড়কে চলতে গিয়ে মোটরসাইকেল চালক সারোয়ার হোসেন বলেন, চাঁনপুর সেতুর মুখের এই ভাঙা আজকের না, বেশ পুরানো। মাঝে কিছু মাটি দিয়া গর্ত ভরাট করা হইছে, কিন্তু কাজ হয়নি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়াই মানুষ দিনে-রাইতে সিএনজি, টমটম, হুন্ডায় চলাচল করতাছে। হেলে পড়া বাঁশের শুকনো আড় দেখিয়ে তিনি বলেন, সবতাই ধান্দাবাজি। যাওয়া-আসার বিপদ জাইন্যাই (জেনেই) মানুষ পথ চলতাছে। সামান্য একটু জায়গা, এইখানে বাঁশের আড় না দিয়া ওয়াল কইরা দিলে একটু মাটিও ক্ষয় হইতো না। বছরকা বছর বরাদ্দ দিয়া হ্যারার (তাদের) পকেট ভরা ছাড়া জনগণের কোন লাভ হইতাছে না।
সেতুর মুখে দাঁড়িয়ে পথচারী মো. মিস্টার মিয়া বলেন, মাসদেড়েক আগে টমটমে বাড়ি ফিরতে গিয়ে গর্তে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হইছিল। ভাগ্য ভালো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ রকম ছোটখাটো অঘটন প্রায়ই ঘটছে। এই সড়ক দিয়ে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা দুই জেলার মানুষ নিয়মিত চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সেতুর সম্মুখস্থল ধসে বড় ধরনের ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন।

চাঁনপুর গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ হারুন মিয়া বলেন, ২০২২ সালের বড় বন্যার সময় এই ব্রিজের গোড়ায় যে ভাঙন হইছিল এইডা আর ঠিক করা হইছে না। মাঝে কিছু মাডি (মাটি) দিয়া বক্করচক্কর কইরা বরাদ্দ এদিক-সেদিক হইছে, কিন্তু আমরার (জনগণের) কোন লাভ হইছে না। মানুষ যাইতে-আইতে (আসা-যাওয়া) ভোগান্তির মধ্যে পড়লেও চাঁনপুর ব্রিজের এই ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা কোনদিন ঠিক হইব, এইডার কোন খবর নাই।
​​​​​​চাঁনপুর সেতুর ভাঙায় এর আগে কাজ হলেও সাত-পাঁচ চৌদ্দ করে বরাদ্দ খেয়ে ফেলা হয়েছে জানিয়ে জামালগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, জামালগঞ্জ থেকে মান্নানঘাট পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তার ভাঙা ভাঙা জায়গায় ইমার্জেন্সি মেইনটেন্যান্সের (জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ) আওতায় প্রাক্কলন হয়েছে। এর মধ্যে সেতুর ভাঙন অংশটুকুও ধরা আছে। টেন্ডার হয়েছে, আগামী বিশ-পঁচিশ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর