স্টাফ রিপোর্টার ::
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সুনামগঞ্জের তিন শহীদ পরিবারের স্বজন। তারা রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সেই সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও একই সাজা দিয়েছেন। অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের সাজার লঘুদন্ড-।
এদিকে, রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জামালগঞ্জ গোলামীপুরের সোহাগের ভাই বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আমরা আমাদের এক ভাইকে হারিয়েছি। আরেক ভাই এখনো আহত রয়েছে। আমি নিজেও ভাই হত্যার বিচার চেয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে রায় হয়েছে আমি এবং আমার পরিবার সন্তুষ্ট। আমরা এই রায়ের কার্যকর দেখতে চাই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিজয় মিছিল বের হয়। রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকায় সেই মিছিলে যোগ দেন গোলামীপুর গ্রামের মো. সোহাগ মিয়া (২৩) ও তার ছোট ভাই শুভ মিয়া (২১)। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সোহাগ।
একই দিন বড় ভাইয়ের সাথে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন জেলার মধ্যনগর উপজেলার জলুষা গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্র আয়াতুল্লাহ। গাজীপুরের শফিপুরে অবস্থিত আনসার ভিডিপি একাডেমির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. আয়াতুল্লাহ। রায়ের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শহীদ আয়াতুল্লাহ’র বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি জানি সন্তান হারানোর ব্যথা কাকে বলে। হাসিনার কারণে আমার মতো হাজারো বাবা সন্তানহারা। এই রায়ে আমি অনেক খুশি। আমি জীবদ্দশায় এই রায়ের বাস্তবায়ন দেখে যেতে চাই। আয়াতুল্লাহ’র বড়ভাই সোহাগ মিয়া বলেন, আমার সামনে গুলি করে আমার ছোট ভাইকে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যা করে তার লাশ গুম করা হয়। শেখ হাসিনা পলায়নের ১১ দিন পর আমার ভাইকে গ্রামে এনে দাফন করি। এই রায়ে আমি অনেক খুশি। রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে সুনামগঞ্জের প্রথম জুলাই শহীদ হৃদয়ের স্ত্রী শিরিনা আক্তার বলেন, আমার দুইটি শিশু সন্তান এখনো তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করে। বাবা বলে কান্না করে। আমি তাদের সান্তনা দিতে পারি না। তবে এই রায় মনে শান্তি পাচ্ছি। যার কারণে স্বামী হারিয়েছি তার বিচার দেখতে চাই।
প্রসঙ্গত, ২০ জুলাই শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ হৃদয় মিয়া (২৭)। তিনি ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মো. ছফেদ আলী ও মনোয়ারা খাতুনের প্রথম সন্তান ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায়ে সন্তুষ্ট সুনামগঞ্জের তিন শহীদের পরিবার
- আপলোড সময় : ১৭-১১-২০২৫ ১১:৫২:৪০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-১১-২০২৫ ১২:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ