যত দ্রুত নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা হবে, ততই মঙ্গল
জাতি একটি সুসংহত ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে
- আপলোড সময় : ১৫-১১-২০২৫ ০৮:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-১১-২০২৫ ০৮:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন
দেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণতান্ত্রিক অতৃপ্তি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জটিল টানাপোড়েনের মধ্যে জাতি একটি সুসংহত ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে। এমন বাস্তবতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য- “যত দ্রুত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব, ততই মঙ্গল হবে” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী।
রাজধানীর কুর্মিটোলা রেডিসন ব্লু-তে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ : জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তিগাথা।
স্বাধীনতার পর বহুবার গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশকে লড়াই, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গণতন্ত্র চর্চার পথ কখনোই মসৃণ হয়নি। নানা সময়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দমন-পীড়ন, স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার অভাব ও অবিশ্বাসের পরিবেশ গণতন্ত্রের শিকড়কে দুর্বল করেছে।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি বিএনপি মহাসচিবের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায় ও তাগিদ আমাদের সবার। তাদের আত্মত্যাগ দেশকে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার নতুন সুযোগ করে দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগানোই এখন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রধান দায়িত্ব।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে ভাষণ দিয়েছেন, তা জাতীয় সংলাপ, ঐক্য এবং নতুন নির্বাচন ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে। তবে, তার বক্তব্যে মতভেদ থাকার সম্ভাবনা অস্বাভাবিক নয়, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো ভিন্নমতের সহাবস্থান। সেটাই রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
এখন প্রয়োজন দ্রুততম সময়ে ঘোষিত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে সুসংহত রোডম্যাপ তৈরি করা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি, স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন, নিরপেক্ষ প্রশাসন ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা - এসবই গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার পূর্বশর্ত। বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা শুধু সংকটকে দীর্ঘায়িত করবে।
বাংলাদেশের যত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা সামাজিক পরিবর্তনই হোক না কেন- দায়বদ্ধ ও জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার ছাড়া সবই অস্থায়ী ও অনির্ভরযোগ্য। তাই দেশের মঙ্গল নিহিত রয়েছে যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্বাচিত, বৈধ, সম্মতিপ্রাপ্ত সরকার প্রতিষ্ঠায়।
গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই মুহূর্তে সব পক্ষের দায়িত্ব হলো সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা, যা জাতিকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ করবে। দেশের ভবিষ্যৎ ও জনগণের আস্থা পুনর্নির্মাণের জন্য এটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়