সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? ‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু সংকটে ধুঁকছে সদর হাসপাতাল শহরের পাসপোর্ট অফিস রোড এলাকায় ঘনঘন চুরি বাংলাদেশ হয়ে উঠার ঐতিহাসিক গল্প আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ছাতকের চরমহল্লায় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৯ ওয়ার্ডে ৯ সেলাই মেশিন বিতরণ তাহিরপুরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ‎হ্যান্ডবলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন জামালগঞ্জের আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় দোয়ারাবাজারে নদীভাঙনে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কবরস্থান তাহিরপুরে সড়কের বেহাল দশা,দুর্ভোগে পর্যটক-স্থানীয়রা ভূমি অফিস শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা এসিল্যান্ডের দুই বছর ধরে ঝুলে আছে ১৩ নদী পুনঃখনন প্রকল্প হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে পুরস্কার দিবে এসআরবি শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন ‎প্রতি শুক্রবার আইসিসিবিতে বসবে ‘সুপার সেল কার বাজার’ বিশ্বম্ভরপুরে এসআরবি-৯ এর অভিযানে ৩৩ বোতল বিদেশী মদসহ গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে জমজমাট নৌকা বাইচ সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কারে কচ্ছপের গতি
হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ

অক্ষত বাঁধ যেন প্রকল্প লুটের ফাঁদ না হয়

  • আপলোড সময় : ১৪-১১-২০২৫ ০৮:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-১১-২০২৫ ০৮:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন
অক্ষত বাঁধ যেন প্রকল্প লুটের ফাঁদ না হয়
সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন কেবল একটি মৌসুমি কার্যক্রম নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে কৃষকের জীবন-মরণ প্রশ্ন। প্রতিবছর বোরো মৌসুমে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ হয় বিলম্বে, নি¤œমানের, আর অনেক সময় অক্ষত বাঁধকেও দেখানো হয় ক্ষতিগ্রস্ত - যাতে প্রকল্প বাড়িয়ে বরাদ্দ আত্মসাৎ করা যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সার্ভে করে ছয় শত কিলোমিটার সংস্কারের লক্ষ্য নিয়েছে। বরাদ্দের অঙ্ক প্রাথমিকভাবে ৪৫ কোটি টাকা হলেও চূড়ান্ত বরাদ্দ শত কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই বিপুল অঙ্কের অর্থের যথাযথ ব্যবহার কি নিশ্চিত হবে? কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, আবারও আগের মতো কাগজে-কলমে ক্ষয়ক্ষতির গল্প তৈরি করে অক্ষত বাঁধ মেরামতের নামে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হতে পারে। হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ যথার্থভাবেই বলেছেন- যেখানে গত দুই বছর বড় ধরনের বন্যা হয়নি, সেখানে অধিকাংশ বাঁধই অক্ষত। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কৃষকদের পরামর্শ ছাড়া কেন বারবার ইঞ্জিনিয়ারদের একক সিদ্ধান্তে সার্ভে করা হয়? হাওর এলাকার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞানকে বাদ দিয়ে কাগুজে পরিকল্পনা নিলে তা কখনো টেকসই হয় না। অতীতে দেখা গেছে, পিআইসি গঠন থেকে কাজের বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও তদবির চলে। এতে প্রকৃত কৃষক নয়, বরং সুবিধাভোগীরা লাভবান হন। অন্যদিকে, প্রকল্পের নি¤œমানের কাজের ফলে সামান্য বন্যাতেই বাঁধ ভেঙে কৃষকের রক্ত-ঘামে ফলানো ফসল তলিয়ে যায়। এখন সময় এসেছে এই চক্র ভাঙার। পাউবো’র মাঠ পর্যায়ের সার্ভে টিমকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক সার্ভে কমিটি গঠন করা জরুরি। প্রতি বছরের মতো “বাঁধের নামে বরাদ্দ লোপাট” যেন না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে হবে। হাওর আমাদের জাতির খাদ্যভা-ার। এই ভা-ারের ফসলরক্ষার বাঁধ যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের বাঁধে পরিণত হয়, তবে কৃষকের দুর্ভোগ যেমন বাড়বে, তেমনি জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে- অক্ষত বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, প্রতি বছর বাঁধের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের আস্থার দেয়ালও ভেঙে পড়বে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু

‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু