সুনামগঞ্জ , রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যেকোনও মূল্যে দেশে নির্বাচন হতে হবে : তারেক রহমান পিআইসি গঠনে গৌরারং ও কাঠইর ইউনিয়নে গণশুনানি সুনামগঞ্জের ১২০ কিলোমিটার সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির নিরাপত্তা জোরদার ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান স্বামী-সৎ ছেলের বিরুদ্ধে প্রবাসী নারীর অভিযোগ, জমি না দিলে প্রাণে মারবে আঙ্গারুলি হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ মেরামতের দাবি দুটি হাতের রগ কর্তন, ১৮ বছর ধরে ন্যায় বিচারের আশায় প্রতিবন্ধী সহিবুর ‘সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক সুনামগঞ্জে রিটার্নিং-সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হলেন যারা তফসিলকে স্বাগত জানালো জামায়াত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ১ আসনে সবাই ঐক্যবদ্ধ: আনিসুল জামালগঞ্জে ‘ভাইয়াপি’ কুস্তি খেলা অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজারে দরিদ্র পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা অবৈধ দখলে নষ্ট হচ্ছে শহীদ সিরাজ লেকের সৌন্দর্য ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রকল্পে জরিপ সম্পন্ন! ১২টি অবৈধ পাম্প মোটর ও ৬টি পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন সদর উপজেলায় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হাওরে তৎপর পাখি শিকারিরা, নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ
হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ

অক্ষত বাঁধ যেন প্রকল্প লুটের ফাঁদ না হয়

  • আপলোড সময় : ১৪-১১-২০২৫ ০৮:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-১১-২০২৫ ০৮:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন
অক্ষত বাঁধ যেন প্রকল্প লুটের ফাঁদ না হয়
সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন কেবল একটি মৌসুমি কার্যক্রম নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে কৃষকের জীবন-মরণ প্রশ্ন। প্রতিবছর বোরো মৌসুমে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ হয় বিলম্বে, নি¤œমানের, আর অনেক সময় অক্ষত বাঁধকেও দেখানো হয় ক্ষতিগ্রস্ত - যাতে প্রকল্প বাড়িয়ে বরাদ্দ আত্মসাৎ করা যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সার্ভে করে ছয় শত কিলোমিটার সংস্কারের লক্ষ্য নিয়েছে। বরাদ্দের অঙ্ক প্রাথমিকভাবে ৪৫ কোটি টাকা হলেও চূড়ান্ত বরাদ্দ শত কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই বিপুল অঙ্কের অর্থের যথাযথ ব্যবহার কি নিশ্চিত হবে? কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, আবারও আগের মতো কাগজে-কলমে ক্ষয়ক্ষতির গল্প তৈরি করে অক্ষত বাঁধ মেরামতের নামে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হতে পারে। হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ যথার্থভাবেই বলেছেন- যেখানে গত দুই বছর বড় ধরনের বন্যা হয়নি, সেখানে অধিকাংশ বাঁধই অক্ষত। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কৃষকদের পরামর্শ ছাড়া কেন বারবার ইঞ্জিনিয়ারদের একক সিদ্ধান্তে সার্ভে করা হয়? হাওর এলাকার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞানকে বাদ দিয়ে কাগুজে পরিকল্পনা নিলে তা কখনো টেকসই হয় না। অতীতে দেখা গেছে, পিআইসি গঠন থেকে কাজের বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও তদবির চলে। এতে প্রকৃত কৃষক নয়, বরং সুবিধাভোগীরা লাভবান হন। অন্যদিকে, প্রকল্পের নি¤œমানের কাজের ফলে সামান্য বন্যাতেই বাঁধ ভেঙে কৃষকের রক্ত-ঘামে ফলানো ফসল তলিয়ে যায়। এখন সময় এসেছে এই চক্র ভাঙার। পাউবো’র মাঠ পর্যায়ের সার্ভে টিমকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক সার্ভে কমিটি গঠন করা জরুরি। প্রতি বছরের মতো “বাঁধের নামে বরাদ্দ লোপাট” যেন না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে হবে। হাওর আমাদের জাতির খাদ্যভা-ার। এই ভা-ারের ফসলরক্ষার বাঁধ যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের বাঁধে পরিণত হয়, তবে কৃষকের দুর্ভোগ যেমন বাড়বে, তেমনি জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে- অক্ষত বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায়, প্রতি বছর বাঁধের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের আস্থার দেয়ালও ভেঙে পড়বে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
যেকোনও মূল্যে দেশে নির্বাচন হতে হবে : তারেক রহমান

যেকোনও মূল্যে দেশে নির্বাচন হতে হবে : তারেক রহমান