হুমকিতে ৬৪ প্রজাতি, অতিবিপন্ন ৯, বিপন্ন ৩০, সংকটাপন্ন ২৫ প্রজাতির মাছ
ধোপাজানে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা ইতিবাচক উদ্যোগ
- আপলোড সময় : ১০-১১-২০২৫ ১১:৪৩:১৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১১-২০২৫ ১১:৪৩:১৯ অপরাহ্ন
ধোপাজান-চলতি নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণাটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও ইতিবাচক উদ্যোগ। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা - এটি শুধু একটি প্রশাসনিক নোট নয়; বরং গত আড়াই মাসে জনস্বার্থের চোখে দৃশ্যমান এক লুটপাটের সাক্ষ্যই আবার সামনে তুলে দিয়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে
অভিযোগ করে আসছিলেন- নদীর বুক চিরে কোটি কোটি টাকার বালু উঠছে, কিন্তু থামানোর দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো যেন নীরব দর্শক।
২০১৮ সাল থেকে আদালতের নির্দেশে নদীটির ইজারা বন্ধ ছিল। এরপরও, অবৈধভাবে বালু তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে যে লুট চলে এসেছে, তাতে শুধু পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং প্রশাসনের ভাবমূর্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এমনকি রাজনীতিবিদরাও জনগণের সন্দেহ-সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এমন বাস্তবতায় জেলা প্রশাসনের এই ঘোষণা - সময়ের দাবি ছিলই।
কিন্তু শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়। সিলিকা বালু আন্তর্জাতিক মানের সম্পদ - এটি কেবল রাস্তা নির্মাণের সাধারণ ‘বালু’ নয়। এখানে সরকারি অনুমতি, টেন্ডার ও প্রযুক্তিগত যাচাই ছাড়া উত্তোলন মানে দেশের সম্পদ অপচয়, পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি, স্থানীয় নদী-প্রকৃতির বিপর্যয় এবং সামাজিক অস্থিরতা। তাই প্রশাসনের ঘোষণার পর এখন আসল কাজ - গৃহীত এই সিদ্ধান্তের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
এখানে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ সরকারের এখনই নেয়া প্রয়োজন- ১) বালু উত্তোলনের সকল যন্ত্রপাতি ও নৌযান অবিলম্বে নদী থেকে সরানো, ২) অবৈধ উত্তোলনের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ ও ৩) ধোপাজান নদীতে বৈজ্ঞানিক জরিপ করে বালুর প্রকৃতি, রিজার্ভ ও পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন।
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তর - এই ত্রিশক্তির সমন্বিত অভিযান ছাড়া ধোপাজান নদীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। খবরের কাগজে সিদ্ধান্তের কথা বললেই নদী বাঁচে না, কার্যকর ফলাফল তখনই আসবে যখন মাঠে আমরা দেখব- বালু উত্তোলনের যন্ত্র থেমে গেছে, সিন্ডিকেটের পাহারা ভেঙে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাষ্ট্র।
পরিবেশের স্বার্থে, জনস্বার্থে এবং দেশের স¤পদের স্বার্থে ধোপাজান নদীর এই অবৈধ লুট বন্ধ রাখা হোক ‘স্থায়ীভাবে’। শুধু বিপদের আশঙ্কায় কয়েকদিনের ‘ব্রেক’ নয়; বরং আইনের নীতিতে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্র দেখাক- নদী, প্রকৃতি ও জনস্বার্থ এই তিনের সঙ্গে কোনো আপস নেই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়