শহীদনূর আহমেদ::
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪ আসন। যাকে জেলার নির্বাচনী সদর দপ্তর হিসেবে ডাকা হয়ে থাকে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই আসনটিকে ‘জোটের হিসেব-নিকেশের’ আসন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ সালে আসনটি ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে মহোজোটের প্রার্থীকে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। যদিও সর্বশেষ নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছিল দলটি।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্প্রতি দেশের ২৩৭টি আসনের প্রার্থিতা ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। জেলার ১, ৩, ৫ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও ২ ও ৪ এর প্রার্থিতা ঘোষণা করেনি বিএনপি। জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন সুনামগঞ্জ-৪ এর মনোনয়ন ঘোষণা না করায় আবারও আলোচনায় আসে জোটের বিষয়টি। বলা হয় বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় শরীক দলের জন্য ছাড় দিতে পারে অঘোষিত আসনগুলো। বিএনপি থেকে স্পষ্ট বার্তা না দিলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা সুনামগঞ্জ-৪ জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি ও সুনামগঞ্জ-২ জমিয়তের জন্য ছাড় দিতে পারে দলটি। তবে এনসিপি’র সাথে জোটে না গেলে সদর আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করতে পারে, এক্ষেত্রে হয়তো সুনামগঞ্জ -২ শরীক দলকে ছাড় দিতে পারে দলটি।
এদিকে বিএনপির সাথে জোটের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা কমিটির আহ্বায়ক দেওয়ান সাজাউর রাজা সুমন। তবে জোট হলে সদর আসনটি বিএনপির কাছে চাইতে পারে এনসিপি এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। অপরদিকে বিএনপির সাথে জোটে গেলে অঘোষিত দুইটির যেকোনো একটি চাইতে পারে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
দলটির সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তৈয়বুর রহমান চৌধুরী জানান, বিএনপির সাথে জোটের আলোচনা হচ্ছে তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ -৩ জমিয়তের জোটের আসন হলেও এই আসনটিতে প্রার্থিতা দেয়ায় বাকি দুই আসনের যেকোনো একটি আসন চাইতে পারে জমিয়ত এমনটা জানান তিনি। যদিও আসন দুটিতে বিএনপির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা চান আসন দুটিতে নিজেদের প্রার্থী। অন্তত সদর আসনটিতে নিজের প্রার্থী ঘোষণা করবে দলটি এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, আমরা অবশ্যই চাইবো সদর আসনটি বিএনপির প্রার্থী হবে। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কিছু আসনে এখনোও নানা দিক বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউস বলেন, যেসকল আসনের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়নি তার কারণও দলের মহাসচিব জানিয়ে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের সিদ্ধান্ত বাকি আসনের মতো। আমরা যেহেতু জোটগতভাবে নির্বাচন করছি কিছু আসন ছাড় দেয়া হবে। তাছাড়া কিছু কিছু আসনে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় তা নিয়েও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সকল সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ড নির্ধারণ করবেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি ও যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ। এছাড়াও সম্ভাব্য শরীকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব ও যুক্তরাজ্য জমিয়তের সভাপতি ড. মাওলানা শোয়াইব আহমেদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় প্রার্থী রয়েছেন এই আসনে। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির অন্তত ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন আলোচনায়। যার মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নূরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল হক আসপিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার আবিদুল হক আবিদ ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল মনসুর মো. শওকত।
এছাড়াও সম্ভাব্য শরীক দল জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মখলিছুর রহমান চৌধুরী ও এনসিপি’র দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরীর নাম রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সুনামগঞ্জ ২ ও ৪ আসনে নানা সমীকরণ জোটে ছাড়, নাকি নিজেদের প্রার্থী
- আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৫ ০৮:১৩:০৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৫ ০৮:২৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ