সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন বিশ্বকাপের উন্মাদনায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা

সুরমা নদী রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
সুরমা নদী রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ প্রয়োজন
সুনামগঞ্জ শহরের প্রাণ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সাক্ষী সুরমা নদী আজ মরণাপন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। একসময় এই নদী ছিল শহরের সৌন্দর্যের প্রতীক, এখন তা পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। পৌর শহরের লঞ্চঘাট, সবজিবাজার, জেলরোড ফেরিঘাট, জগন্নাথবাড়ি, পশ্চিমবাজার, ষোলঘর, উকিলপাড়া - এমন কোনো ঘাট নেই যেখানে ময়লার স্তূপ নেই। প্রতিদিন হোটেল-রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার, বাজার ও বাসাবাড়ির বর্জ্য নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনা কেবল পরিবেশকে নয়, মানুষের জীবনযাত্রাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। নদীর ধারে হাঁটলেই নাকে পচা গন্ধ লাগে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে জীবাণু। যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী - সকলেই ভোগ করছেন এই দূষণের ভোগান্তি। সুরমা নদীর পানি দিনে দিনে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। অথচ এই নদীর পানি দীর্ঘদিন ধরে শহরের জীবন, কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুরমার অস্তিত্বই বিপন্ন হবে, যা সুনামগঞ্জের জন্য এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে। এই বিপর্যয়ের দায় এককভাবে প্রশাসনের নয় - দায় আমাদের সবার। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারছে না, আর সাধারণ নাগরিকদের অসচেতনতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। অনেক স্থানে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেই, অনেক স্থানে স্থায়ী ডাস্টবিন নেই। ফলে মানুষ সহজ পথ বেছে নিচ্ছে- নদীতে ময়লা ফেলা। এই ‘সহজ পথ’ই এখন সুরমাকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে। এখনই সময় সুনামগঞ্জ পৌরসভা, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় মানুষকে সচেতন করতে গণসচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে- কারণ নদী রক্ষা কেবল সরকারি দায়িত্ব নয়, নাগরিক দায়িত্বও বটে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের প্রতীক। এই নদীকে রক্ষা করা মানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আগামী প্রজন্ম কেবল বইয়ের পাতায় ‘সুরমা নদী’ নামটি খুঁজে পাবে। আমরা সুরমার এমন পরিণতি চাই না, আমরা সুরমাকে বাঁচাতে চাই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন

দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন