সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল

সুরমা নদী রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন
সুরমা নদী রক্ষায় এখনই পদক্ষেপ প্রয়োজন
সুনামগঞ্জ শহরের প্রাণ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সাক্ষী সুরমা নদী আজ মরণাপন্ন অবস্থায় পৌঁছেছে। একসময় এই নদী ছিল শহরের সৌন্দর্যের প্রতীক, এখন তা পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। পৌর শহরের লঞ্চঘাট, সবজিবাজার, জেলরোড ফেরিঘাট, জগন্নাথবাড়ি, পশ্চিমবাজার, ষোলঘর, উকিলপাড়া - এমন কোনো ঘাট নেই যেখানে ময়লার স্তূপ নেই। প্রতিদিন হোটেল-রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার, বাজার ও বাসাবাড়ির বর্জ্য নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনা কেবল পরিবেশকে নয়, মানুষের জীবনযাত্রাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। নদীর ধারে হাঁটলেই নাকে পচা গন্ধ লাগে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে জীবাণু। যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী - সকলেই ভোগ করছেন এই দূষণের ভোগান্তি। সুরমা নদীর পানি দিনে দিনে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। অথচ এই নদীর পানি দীর্ঘদিন ধরে শহরের জীবন, কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুরমার অস্তিত্বই বিপন্ন হবে, যা সুনামগঞ্জের জন্য এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে। এই বিপর্যয়ের দায় এককভাবে প্রশাসনের নয় - দায় আমাদের সবার। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারছে না, আর সাধারণ নাগরিকদের অসচেতনতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। অনেক স্থানে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেই, অনেক স্থানে স্থায়ী ডাস্টবিন নেই। ফলে মানুষ সহজ পথ বেছে নিচ্ছে- নদীতে ময়লা ফেলা। এই ‘সহজ পথ’ই এখন সুরমাকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে। এখনই সময় সুনামগঞ্জ পৌরসভা, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় মানুষকে সচেতন করতে গণসচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে- কারণ নদী রক্ষা কেবল সরকারি দায়িত্ব নয়, নাগরিক দায়িত্বও বটে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের প্রতীক। এই নদীকে রক্ষা করা মানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আগামী প্রজন্ম কেবল বইয়ের পাতায় ‘সুরমা নদী’ নামটি খুঁজে পাবে। আমরা সুরমার এমন পরিণতি চাই না, আমরা সুরমাকে বাঁচাতে চাই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স