সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি
নিয়ম না মেনে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান

বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ওএসডি, আছে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও

  • আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৫ ১২:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৫ ১২:০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
বিআরটিএ’র মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ওএসডি, আছে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও
স্টাফ রিপোর্টার::
নিয়ম না মেনে যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সুনামগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনকে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করে ঢাকার হেড অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিয়ম না মেনে একটি গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বিআরটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বদলির আদেশ দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোটরযান পরিদর্শক (অ. দা.) দেলোয়ার হোসেন। তবে, এই অফিস আদেশের ব্যাপারে জানতে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কেউই। একাধিকবার বলার পর বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুর রশীদ বলেন, “এইটা (অফিস আদেশ) দিয়ে আর কি করবেন, তার তো শাস্তি যা হওয়ার হয়েই গেছে। সে তো চলে গেছে আর এসব করার (নিউজ) কি দরকার।” তিনি জানান, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ‘একটা গাড়ির ফিটনেস সংক্রান্ত বিষয়ে’ অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের কারণে তাকে সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তিনি বিস্তারিত খুলে বলতে রাজি হননি।
গত মঙ্গলবার দুপুরে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেল অফিসে মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু কী কারণে বদলি করা হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে, সর্বশেষ বিআরটিএ’র ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ২৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৯ জন।
এরমধ্যে সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৮০জনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনকে জনপ্রতি ৩ হাজার ৫শ টাকা করে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে পাস করানোর অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
এই বিষয়ে একাধিক পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানাযায়, বিআরটিএ অফিসে লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষায় টাকা না দিলে ইচ্ছে করে ফেল করানো হয়, এমন একটি অলিখিত নিয়ম চালু ছিল। বাধ্য হয়েই অনেক প্রার্থীকে মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে টাকা দিতে হয় বলে জানান তারা। পরীক্ষার অংশগ্রহণ শেষে ওই ৮০ জন পরীক্ষার্থীদের ‘টিম লিডার’ জানান, ৮০ জনের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা করে জনপ্রতি দেলোয়ার স্যারকে দেওয়া হয়েছে। শুনলাম স্যার নাকি বদলি হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরীক্ষার্থী বলেন, আমরা তো চাই না টাকা দিতে। কিন্তু জানি, টাকা না দিলে পাস করাবে না। যার কারণে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়। এই টাকা পরিদর্শক দেলোয়ার সাহেবকে না দিলে আমাদের লাইসেন্স হতোই না।
অন্য একজন পরীক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমার পরীক্ষার সব প্রস্তুতি ভালো ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগে জানতে পারি, টাকা না দিলে রিপোর্ট আটকে দেবে বা কোনো না কোনো অজুহাতে ফেল করাবে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে আমিও ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছি।
আরেকজন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জানান, শুনছি কেউ কেউ প্রথমে টাকা না দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের ফেল করানো হয়। পরে তারা টাকা দিয়ে আবার পরীক্ষা দিলে তবেই পাস করতে পেরেছে। এই কারণে বাধ্য হয়েই আমাদের মতো অন্যদেরও ঘুষ দিতে হয়েছে।

টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বুধবার বিকেলে মোটরযান পরিদর্শক (অ.দা.) দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে কেউ একটা টাকাও দেয়নি। নিয়ম মেনেই সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফিটনেস প্রদানে রুলস মেইনটেইন না করার কথাও স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুর রশীদ বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ আমাকে জানায় নি। কে টিটিসি থেকে পরীক্ষা দিসে বা কে কোথায় থেকে পরীক্ষা দিয়েছে তা আমরা দেখি না। আমরা দেখি সে পরীক্ষার্থী কি-না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর