সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য তাহিরপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌপরিবহন ধর্মঘট, ব্যবসায় স্থবিরতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি মামলা করায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম, আইসিইউতে ২ হাছননগর সড়কের সংস্কারকাজ উদ্বোধন ঢলে ভেসে আসা কয়লা কুড়িয়েই চলে পাঁচ হাজার মানুষের জীবন সুবিপ্রবি’র নতুন ভিসি অধ্যাপক জাকির হুসাইন দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হবে ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ ও ‘বন্ধু রেজিস্টার’ সুবিপ্রবির উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার দুর্গম হাওরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন প্রতিমন্ত্রী হাওরাঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে স্বপ্নের উড়াল সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন ৩০ জুলাই বাবার পাশ থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ সেফটি ট্যাংক থেকে উদ্ধার, আটক ৪ “ত্রাণ চাই না, বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী সমাধান চাই”
দেখার হাওর ধ্বংস করবেন না

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে

  • আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেলাবাসীর স্বপ্ন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে এলেও এখন তা জটিল দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত জায়গা শান্তিগঞ্জের জয়কলস এলাকায়, যা দেখার হাওরের অন্তর্ভুক্ত। এখানেই প্রশ্ন- হাওর ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কি টেকসই হবে? হাওর কেবল কৃষি বা মাছের আধার নয়; এটি এক অনন্য বাস্তুতন্ত্র। সুনামগঞ্জের দেখার হাওর ৪৫ হাজার হেক্টরের বেশি বিস্তৃত, যেখানে বছরে লক্ষাধিক মেট্রিক টন ধান ও বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদিত হয়। এই হাওরের পানিপ্রবাহ ও নদীর সংযোগ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো দিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে কৃষি ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে। বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হবে অপূরণীয়। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরাও হাওর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের বিপক্ষে। অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ ও আশপাশের মানুষ যুক্তি দিচ্ছেন- সুনামগঞ্জ জেলা মূলত হাওরবেষ্টিত, তাই বিকল্প জমি সীমিত। তাদের বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা গোটা অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটাবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি খাটো করা যায় না, তবে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করলে সেই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। পরিবেশ বিনষ্ট হলে এর মাশুল গুনতে হবে কৃষক, জেলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। এখন প্রয়োজন সমঝোতা ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস হোক দ্রুত, তবে তা অবশ্যই টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হতে হবে। সুনামগঞ্জ সদর বা আশপাশের উঁচু খাস জমি- যেখানে কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি হবে না, সেই বিকল্প জায়গা বিবেচনায় আনা জরুরি। উন্নয়ন ও প্রকৃতি পর¯পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং টেকসই উন্নয়ন মানেই প্রকৃতিকে সুরক্ষা দিয়ে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। আমরা মনে করি, হাওর জেলায় হাওর ধ্বংস করে বিশ্ববিদ্যালয় করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভোগান্তিতে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর। এখনো সময় আছে- সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত সমাধান খুঁজে নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই হবে, তবে তার স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু হাওর ধ্বংস করে নয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি

ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি