সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : সিলেটে রাষ্ট্রপতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে : ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস টাঙ্গুয়ার হাওরেও পাওয়া যাচ্ছে রাক্ষুসে সাকার মাছ তাহিরপুরে বন্যা পূর্ব প্রস্তুতি ও আগাম সাড়াদান মহড়া অনুষ্ঠিত ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল জামালগঞ্জে চাচাতো ভাইয়ের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু ভূতুড়ে মামলা, গায়েবি মামলা যেন আর না হয়, হুইপ জি কে গউছ যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি আজ সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি ভোরে পাচার হয় ধোপাজান নদীর লুটের বালু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে কঠোর পদক্ষেপ - জি কে গউছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ বিএনপির জাতিসংঘ অধিবেশন : ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নামমাত্র চারা লাগিয়ে বরাদ্দ লুটপাটের আয়োজন উকিলপাড়ার পুকুর যেন ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী শান্তিগঞ্জে নৌকা বাইচ নিয়ে সংঘাতের শঙ্কা বিশ্বম্ভরপুরে হিজল বাগান উজাড়, কাটা হলো ৬২টি গাছ ছাতকে ফোরলেন সড়কের কাজ উদ্বোধন করলেন এমপি কলিম উদ্দিন মিলন ‎জামালগঞ্জে বিএনপি নেতা জালাল উদ্দীন ফারুকীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিক্ষোভ দিরাইয়ে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪
দেখার হাওর ধ্বংস করবেন না

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে

  • আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০৮:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেলাবাসীর স্বপ্ন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে এলেও এখন তা জটিল দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত জায়গা শান্তিগঞ্জের জয়কলস এলাকায়, যা দেখার হাওরের অন্তর্ভুক্ত। এখানেই প্রশ্ন- হাওর ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কি টেকসই হবে? হাওর কেবল কৃষি বা মাছের আধার নয়; এটি এক অনন্য বাস্তুতন্ত্র। সুনামগঞ্জের দেখার হাওর ৪৫ হাজার হেক্টরের বেশি বিস্তৃত, যেখানে বছরে লক্ষাধিক মেট্রিক টন ধান ও বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদিত হয়। এই হাওরের পানিপ্রবাহ ও নদীর সংযোগ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো দিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে কৃষি ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে। বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হবে অপূরণীয়। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞরাও হাওর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের বিপক্ষে। অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ ও আশপাশের মানুষ যুক্তি দিচ্ছেন- সুনামগঞ্জ জেলা মূলত হাওরবেষ্টিত, তাই বিকল্প জমি সীমিত। তাদের বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা গোটা অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটাবে। এ দৃষ্টিভঙ্গি খাটো করা যায় না, তবে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করলে সেই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। পরিবেশ বিনষ্ট হলে এর মাশুল গুনতে হবে কৃষক, জেলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। এখন প্রয়োজন সমঝোতা ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস হোক দ্রুত, তবে তা অবশ্যই টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হতে হবে। সুনামগঞ্জ সদর বা আশপাশের উঁচু খাস জমি- যেখানে কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি হবে না, সেই বিকল্প জায়গা বিবেচনায় আনা জরুরি। উন্নয়ন ও প্রকৃতি পর¯পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং টেকসই উন্নয়ন মানেই প্রকৃতিকে সুরক্ষা দিয়ে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। আমরা মনে করি, হাওর জেলায় হাওর ধ্বংস করে বিশ্ববিদ্যালয় করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভোগান্তিতে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর। এখনো সময় আছে- সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত সমাধান খুঁজে নিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই হবে, তবে তার স্থান নির্বাচন হতে হবে বিজ্ঞ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু হাওর ধ্বংস করে নয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : সিলেটে রাষ্ট্রপতি

গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : সিলেটে রাষ্ট্রপতি