সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি

রম্যকথন--মঞ্চারোহণ

  • আপলোড সময় : ২৬-০৯-২০২৫ ০৯:৩৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৯-২০২৫ ০৯:৪০:৩৫ পূর্বাহ্ন
রম্যকথন--মঞ্চারোহণ ছবি: লেখক মোহাম্মদ আব্দুল হক
মোহাম্মদ আব্দুল হক:
ঘোষক ঘোষণা করলেন, সম্মানিত সুধী, এখন আমাদের অনুষ্ঠান আরম্ভ হবে। এরপর একেকজন সম্মানিত অতিথির নাম ঘোষণা শুরু হলো। অনুষ্ঠান আরম্ভ হবার পরে একজন একজন করে সিঁড়িতে পা রেখে একটি একটি করে সিঁড়ির ধাপ মাড়িয়ে মাড়িয়ে মঞ্চে উঠে গেলেন। তারা সকলেই সম্মানিত মানুষজন। এক-এক করে মঞ্চের সামনের সারির সবগুলো চেয়ার সম্মানিত জনের কাপড় পরা নিতম্বের স্পর্শ পেয়ে ধন্য হলো। ইতিমধ্যে মঞ্চে আরও দুই হালি সম্মানিত মানুষকে ডাকা হলো। আমি চিন্তিত হলাম, তারা কোথায় বসবেন? বুঝা গেল, চিন্তার কোনো কারণ নাই। মঞ্চের সামনের সারির পিছনে আরও এক সারি চেয়ার পাতা রয়েছে। অতএব ঘোষকের ঘোষণা অনুযায়ী পরে মঞ্চে আরোহী সম্মানিত মানুষজন বসার জায়গা পেয়ে গেলেন। আমার চিন্তা দূর হলো। সম্মানিত মানুষদের বসতে দিয়ে মঞ্চের দ্বিতীয় সারির চেয়ারগুলোও ধন্য হলো। আহা! সম্মানিত মানুষদের ভারে মঞ্চে ধন্য-ধন্য গুঞ্জন শুরু হলো। এদিকে দর্শক সারিতে যারা বসেছিলেন তারা এতোক্ষণ পর্যন্ত সামনের সারির সম্মানিত মানুষদেরকে সহজেই দেখতে পাচ্ছিলেন। কিন্তু মহামুশকিল হলো প্রথম সারির সম্মানিত মানুষের আড়ালে স্থান পাওয়া সৌভাগ্যবান মঞ্চের পিছনের সারির অর্থাৎ দ্বিতীয় সারির দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত সম্মানিত মানুষদের চেহারা সুরত আর দেখতে পাওয়া গেল না। এমতাবস্থায় দর্শকদের কেউ কেউ মাথাটা একটু ডানে বামে সরিয়ে দেখতে চেষ্টা করতে লাগলেন মঞ্চের পিছনের সারিতে কে কে বসলেন তাদেরকে দেখা যায় কি-না। না আমি ঠিক মতো মঞ্চের পিছনের সারির কাউকে দেখতে পেলাম না। এক সময় দেখা গেল মঞ্চের এককোণে পাঁচজন দাঁড়িয়ে আছেন। তারা সকলেই ঘোষক এবং সকলেই নিজেকে মঞ্চে দেখতে চাই এমন ভাবখানা নিয়ে মঞ্চ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত বিশাল অনুষ্ঠানের সঞ্চালকদের তালিকায় আরও একজন যোগ দিয়েছেন। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠান উপস্থাপক হিসেবে মোট ছয়জন স্থান পেয়েছেন আমি ও আমরা দর্শনার্থীরা দেখতে পেলাম। মাইক্রোফোনের সামনে একজন দাঁড়িয়েছেন হাতে একটুকরো কাগজ নিয়ে। বুঝা যাচ্ছে ঘোষক এবার একজন একজন করে বক্তার নাম ঘোষণা করবেন এবং বক্তৃতা দেওয়ার পালা শুরু হবে। মঞ্চের পিছনের সারিতে যারা বসেছিলেন তারা কি করছিলেন জানা গেল না। তবে মঞ্চের সামনের সারির সকলের দৃষ্টি দর্শক সারির দিকে। ঘোষক মাইক্রোফোনে মুখ লাগিয়ে নিজের মুখের লালা গিলে ও গলায় জমে থাকা কফ পরিষ্কার করার জন্য গলার ভিতর থেকে ‘উহোঁ-হোঁ’ শব্দ করলেন দুই বার। তারপর মাইক ফাটিয়ে বলতে লাগলেন, প্রিয় দর্শক ও শ্রোতা মন্ডলী আপনাদের উপস্থিতিতে আজকে আমরা ধন্য। আশা করছি আপনারা শেষ পর্যন্ত সকলেই থাকবেন। দর্শক সারিতে বসা আমি ডানে বামে তাকিয়ে দেখলাম আমি একা নই আমার দুই পাশে কিছুটা দূরে দূরে আরও দুইজন বসে আছেন। ঘাড়ে আমার কিছুটা ব্যথা আছে। এই ব্যথা নিয়েই সাহস করে যতোদূর পারা যায় ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকাই। দেখলাম আমাদের মতো আরও পাঁচজন বসিয়া আছেন পিছনে দর্শক হিসেবে। মনে মনে তৃপ্তি পেলাম, যাক বিশাল হলে যেখানে প্রায় দুই শত মানুষ বসবার জায়গা আছে সেখানে এই দুই শত মানুষের জায়গা আমরা আটজনে দখল করে আছি। আমরাও কম সম্মানিত নয় বলা যায়। আর ওইদিকে মঞ্চে যেখানে মাত্র পাঁচজন বা ছয়জন বসলে সুন্দর ফুটতো সেখানে তারা অর্থাৎ ওই সম্মানিত মানুষরা ঠাসাঠাসি ও গাদাগাদি করে বসে যে শুধু মঞ্চের চেয়ারকে ধন্য করলেন তা-নয়; বরং এতো এতো সম্মানিত মানুষকে পেয়ে মঞ্চ নিজেও যেনো ধন্য হলো! এতে করে না-হয় বাজলো মঞ্চের সৌন্দর্য্যরে বারোটা - ফেসবুকে এবং পত্রিকার পাতায়তো দেখা যাবে মঞ্চে বসে থাকা তাদের ছবিটা। আহা! আহা! এটাই-বা কম কিসের। তারা এই সমাজে সম্মানিত অতিথি বলে কথা। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে ফেসবুকে ছবি ও লেখা পোস্ট হতে লাগলো। কেউ কেউ ছবির সাথে লিখলেন প্রচুর দর্শকের উপস্থিতিতে সফল এক অনুষ্ঠান স¤পন্ন হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, সকলেই মঞ্চের ছবি পোস্ট করে ধন্য হলেন। কেউ দর্শক সারির প্রচুর দর্শকের উপস্থিতির ছবি পোস্ট করলেন না। যদিও দর্শক আমিসহ মোট আটজন। এদিকে এক বেরসিক দর্শক কোনো এক সুযোগে দর্শক সারির ছবি উঠিয়ে নিয়েছিলেন কেউ বুঝতে পারেনি আমিও বুঝিনি। তিনি ওই অনুষ্ঠানের দর্শক সারিতে শেষ পর্যন্ত বসে থাকা আমি সহ মোট পাঁচজনের ছবি পোস্ট করে দিলেন। তাতে কি হলো? ফেসবুকে প্রচারিত আয়োজক ও সম্মানিত মানুষের প্রচার করা প্রচুর দর্শকের উপস্থিতি সংক্রান্ত মিথ্যা গৌরবের হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে গেল। সর্বত্র আলোচনা চলতে লাগলো, ফেসবুকে যে দেখলাম মঞ্চে যে এতো এতো সম্মানিত মানুষ মাইকে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করার স্থির চিত্র ও ভিডিও পোস্ট করে আত্মতুষ্টির ঢেঁকুর দিলেন, তাহলে তাদের এতোসব মহা মূল্যবান কথামালা শুনতে গিয়েছিলো কারা! দুই দিন পরে আমি সকালবেলা ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। শুনতে পেলাম, আমার সামনে এক ভদ্রলোক মোবাইল ফোনে বলছেন, ভাইরে ভাই শুনেন, ঠিক আছে আমি আসবো আপনাদের অনুষ্ঠানে। কিন্তু দয়া করে মঞ্চে অতিথি পাঁচজন বা ছয়জনের বেশি রাখবেন না। আর একটা কথা, দুই-তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য দুইজনের বেশি উপস্থাপক রাখবেন না। মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসার জন্য এতো তাড়াহুড়ো করবেন না। এতে অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য থাকে না এবং এসব নিয়ে লোকে হাসিঠাট্টা করে। শুনেন, এখনও-তো আমি ও আমার মতো আরও পাঁচজন বা ছয়জন দর্শক ও শ্রোতা পাচ্ছেন। এভাবে সকলেই মঞ্চে বসতে ব্যস্ত হয়ে গেলে একটা সময়ে হয়তো দেখতে পাবেন মঞ্চে কেবল আপনারাই বসে আছেন আর ওইদিকে দর্শক সারির চেয়ার খালি পড়ে আছে।
[মোহাম্মদ আব্দুল হক, কলামিস্ট কথাসাহিত্যিক]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর