স্টাফ রিপোর্টার ::
অনলাইন জুয়ার ‘হট¯পট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ছাতক উপজেলার অন্যতম ব্যবসায়িক কেন্দ্র জাউয়াবাজার। শক্তিশালী এজেন্ট সিন্ডিকেট অনলাইন জুয়ার ফাঁদ পেতে সুকৌশলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জুয়ায় আসক্তদের কাছ থেকে। ওয়ান এক্স বেট, ক্যাসিনো, শিলং তীরসহ বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার লোভনীয় ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকরা। অনলাইন জুয়ার এজেন্টদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই হারিয়েছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চাকরি, জমিজমা। দেনার দায়ে ঘরছাড়া হয়েছেন কেউ কেউ।
অনুসন্ধানে জানাযায়, অনলাইন জুয়াড়িদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে জাউয়াবাজার। এই এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। ভুক্তভোগীদের তথ্য ও অনুসন্ধানে মিলেছে স্থানীয় বাজারের অন্তত ডজনখানেক ব্যবসায়ী ও যুবকদের সম্পৃক্ততা। ভুক্তভোগীরা জানান, অনলাইন জুয়ার ‘ডন’ হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল বাছির। যিনি ‘সুপার এজেন্ট’ হিসেবে জাউয়াবাজার এলাকার অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তিনি অনলাইন ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিমাসে কয়েক কোটি টাকার ট্রানজেকশন করেন। মোবাইল ব্যাংকিংসহ স্থানীয় একাধিক ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন করেন। এই কাজের মাধ্যমে কয়েক বছরে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন আব্দুল বাছির।
এ প্রতিবেদক নিজেকে জুয়াড়ি পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন সোহাগ হাসান নামের স্থানীয় এক জুয়াড়ির সাথে। ‘ডিপি’ লাগবে এমন মেসেজের উত্তরে তিনি দেন ‘সুপার এজেন্ট’ আব্দুল বাছিরের নাম্বার। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতেই বিকাশ নাম্বার পাঠান আব্দুল বাছির। পরে পরিচয় প্রকাশ করার পর অনলাইন থেকে চলে যান তিনি। আব্দুল বাছিরের বক্তব্য নিতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মিলেনি তার কাছ থেকে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জুয়ার এজেন্ট হিসেবে ডিপোজিট বিক্রি করে রাতারাতি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন রকি নামের স্থানীয় এক যুবক। এক সময়ের বেকার রকি সম্প্রতি বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয়দের। তার আয়ের উৎস নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অবশ্য রকি জানান, তার আর্থিক পরিবর্তনে রয়েছে তার প্রবাসী স্বজনদের হাত। তিনি জুয়ার ব্যবসা করেন না বলে জানিয়েছেন। অনলাইন জুয়া এজেন্ট হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়েজ নামের দুই ভাই। জুয়ার এজেন্টের ব্যবসা করে অল্পদিনের মধ্যেই আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করেছেন তারা।
সম্প্রতি অর্ধ কোটি টাকা ব্যয় করে জাউয়াবাজারের তার গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়েছেন কামরুল। চড়েন বিলাসবহুল গাড়ি।
এ ব্যাপারে কামরুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ত নন বলে জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা।
মিনহাজ (ছদ্মনাম) নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমি অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে ফেলেছি। আব্দুল বাছির বাজারের সবচেয়ে বড় এজেন্ট। কামরুল, রকি, হাবিব, শাহীন এদের মাধ্যমে আমি লেনদেন করেছি। এই জুয়ার কারণে আমি মোটরবাইক, আইফোন ও দোকান খুইয়েছি। এখনো সাত লাখ টাকা ঋণ রয়েছে আমার। আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, জাউয়াবাজার এখন জুয়াড়িদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এই বাজারের কিছু ব্যবসায়ী ও স্থানীয় যুবক এই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। অনেকেই রাতারাতি বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছেন। তদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হযরত আলী বলেন, আমরা যদি জুয়াড়িদের নাম পাই তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
এ ব্যাপারে আমাদের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছাতক থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অনলাইন জুয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে জাউয়াবাজার ফাঁড়ির সাথে কথা বলবো।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
অনলাইন জুয়ার ‘হটস্পট’ জাউয়াবাজার
- আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৫ ০৯:০১:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৫ ০৯:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ