সুনামগঞ্জ , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি হাওরের জন্য জলবায়ু খাতে ১,২০০ কোটি টাকা, ফিরছে টাঙ্গুয়ার সহব্যবস্থাপনা প্রকল্প শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) মাজারের আয়ের টাকা কোথায় যায়, হিসেব চাইলো জেলা প্রশাসন হাওরাঞ্চলের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কোন খাতে কত দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব ইউরোপগামী পথে মৃত্যু থামছে না, পাঁচ মাসেই প্রাণহানি ১৩০০ ছাড়াল

পর্যটন বিকাশের নামে টাঙ্গুয়ার হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার

  • আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ০৯:১২:১১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ০৯:১২:১১ পূর্বাহ্ন
পর্যটন বিকাশের নামে টাঙ্গুয়ার হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার
অমূল্য সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন জীববৈচিত্র্যের ভা-ার টাঙ্গুয়ার হাওর আমাদের জলবায়ু, পরিবেশ ও অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে পর্যটন বিকাশের নামে এই হাওর ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো পর্যটক নৌকা ও হাউসবোট নিয়ে হাওরে ভ্রমণে আসছেন। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো পরিকল্পনা নেই। প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট, ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক এসব অপচনশীল বর্জ্য নিয়মিত পানিতে ফেলা হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে হাউসবোটের রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হলো- সেফটি ট্যাংক না থাকায় শত শত পর্যটকের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি হাওরের পানিতে মিশে যাচ্ছে। এতে পানির মান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, আর জলজ প্রাণীর জীবনচক্র হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেল, সাবান-শ্যা¤পু মিশ্রিত পানি এবং প্লাস্টিক একত্রে হাওরের জন্য নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে অনেক দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। একই সাথে পর্যটকদের অসচেতন আচরণের কারণে হাওরের সৌন্দর্যও ক্ষুণœ হচ্ছে। এতে পর্যটনের স্থায়িত্বশীল বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা দেখেছি, প্রশাসন নানা সময়ে অভিযান চালালেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ, প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সমন্বয়ের অভাব প্রকট। ফলে, যারা হাওর থেকে লাভবান হচ্ছেন, বিশেষ করে হাউসবোট মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ী, তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে প্রকৃতি ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় আমাদের করণীয় স্পষ্ট- ১. হাউসবোটে সেফটি ট্যাংক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা জরুরি। ২. প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে। বিকল্প পরিবেশবান্ধব প্যাকেট ও কাপ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩. সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পর্যটক ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ৪. প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত করতে হবে। ৫. স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পরিবেশকর্মীদের স¤পৃক্ত করতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল প্রাকৃতিক স¤পদ নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় ঐতিহ্য। আজ যদি আমরা অবহেলা করি, কাল হয়তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না এই জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তাই সময় এসেছে কথার ফুলঝুড়ি নয়, বরং কঠোর বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার