সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎জামালগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, গ্যাসের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সুনামকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর দুই প্রতিবন্ধী সন্তান পেল হুইলচেয়ার সুনামগঞ্জে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আহ্বান আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর, আমাদের ভাবিয়ে তুলছে: রিজভী বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ছাতকে বন বিটের ৩০ হাজার চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ ‘বায়োগ্যাস উৎপাদন করুন, জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করুন’-জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান সমাজের প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলায় সবাইকে কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক ‘ভুয়া আইডি খুলে ধর্মীয় উসকানির’ অভিযোগে করেছিলেন জিডি, বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশ নিল হেফাজতে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশনে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার গরমিলের অভিযোগ, প্রধান আসামি আটক ব্রিটিশ বাংলাদেশি মিডিয়াতে অবদান রাখায় ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স’ সম্মাননা পেলেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক আ স ম মাসুম ‘গ্রাম সরকার’ গঠনের উদ্যোগ ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ আহত ৫ এসিল্যান্ডের আচরণে আকস্মিক পরিবর্তন, নেপথ্যে কী? ‎‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দেওয়া সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার দুই মাসে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী, দু’জনই বদলি! ৯ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা তাহিরপুরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্সের আকৃতি দিয়ে চলছে রোগী পরিবহন

  • আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৫ ০১:৪৯:২৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৫ ০১:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ন
ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্সের আকৃতি দিয়ে চলছে রোগী পরিবহন
বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্সের আকৃতি ìদিয়ে রোগী পরিবহন করছে অনেক প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সা। চালক-মালিকরা সিন্ডিকেট করে রোগী পরিবহনের নামে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। চালকদের সিন্ডিকেট থাকায় ইচ্ছে করলেও কোনও রোগী পছন্দের সুবিধামতো অ্যাম্বুলেন্স নিতে পারছেনা। পছন্দমতো গাড়িতে সুবিধা নিতে হলে আলাদা ভাড়া দিতে হচ্ছে রোগীদের। একাধিকবার বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ অভিযান চালালেও থামানো যাচ্ছেনা অ্যাম্বুলেন্স আকৃতিধারী মাইক্রোবাসগুলোকে।
সুনামগঞ্জ বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে ব্যক্তি পর্যায়ে কোনও অ্যাম্বুলেন্স লাইসেন্স নেয়নি। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জেলায় অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ১২টি মাইক্রোবাস বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে। বর্তমানে জেলা শহরের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সামন থেকে যতগুলো অ্যাম্বুলেন্স চলছে একমাত্র আনিসা হেলথ কমপ্লেক্স বাদে অন্য কোনও বেসরকারি ক্লিনিক রেজিস্ট্রেশন নেয়নি। ১২টির মাঝে ১১টিই সরকারি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশনধারী অ্যাম্বুলেন্স।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভিতরে সারি সারি করে ‘অ্যাম্বুলেন্স’ রাখা। অনেক সময় এলোপাতাড়িভাবে এগুলো রাখায় রোগী ও সেবাপ্রার্থীরা হাসপাতালে সেবা নিতে এসে বিড়ম্বনায় পড়েন।
এছাড়াও কোনও গুরুতর রোগীদের ওইসব ‘অ্যাম্বুলেন্স’ করে সিলেট নিতে হলে চালকের সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল থেকে অন্তত ২০টি ‘অ্যাম্বুলেন্স’ রোগী পরিবহন করছে। নিয়মানুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্ট্রেচার, মনিটর, অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে ৯ ফুট দৈর্ঘ্যরে কেবিন, প্রশিক্ষিত সহকারী, ফেস্ক মাস্ক, জীবন রক্ষা সরঞ্জাম ট্রাকশন ডিভাইস, কার্ডিয়াক মনিটর থাকার কথা থাকলে এসবের অধিকাংশ সুবিধাই নেই।
কেবল বাইরে রঙ করে ‘অ্যাম্বুলেন্স’ লেখা। বিআরটিএ থেকে সাধারণ মাইক্রোবাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত গাড়িগুলোকে অ্যাম্বুলেন্সের আকৃতি দেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জ বিআরটিএ অফিস থেকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে কোনও গাড়ি রেজিস্ট্রেশন না নেওয়ায় মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলে সটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। এদিকে রোগী ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, গত তিন বছর ধরে নতুন নিয়ম করেছেন অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকরা। সিরিয়াল ছাড়া তারা রোগী পরিবহন করেনা। রোগীর স্বজনদের পছন্দের অ্যাম্বুলেন্সে যেতে হলে আলাদাভাবে ৫০০-১০০০ হাজার টাকা ভাড়া বেশি গুণতে হয়। তাছাড়া সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট যে কোনও হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও ওই হাসপাতালে সিট না পেলে পাশের হাসপাতালে যেতে চাইলে
‘টাউন ট্রিপ’ নাম করে আরো ১ হাজার টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হয়। বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের হাসপাতাল থেকে সিলেট যেতে ২২০০ থেকে ৩৫০০ টাকা ভাড়া গুণতে হচ্ছে রোগীদের।
তাহিরপুর উপজেলার মাহরাম গ্রামের আলেয়া বিবি বলেন, কিছুদিন আগে আমার পুত্রবধূকে সুনামগঞ্জ হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয়। আমরা পছন্দের অ্যাম্বুলেন্স নিতে চাইলে চালকরা বাধা দেন। তারা সিরিয়ালের নাম করে ১ হাজার টাকা বেশি নিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ভিতর নোংরা ও জীবনরক্ষার কোনও সরঞ্জামও নেই।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর গ্রামের আমির উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট গিয়ে টাউন ট্রিপের নামে চালক আরো ১ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে। তাদের কাছে জিম্মি অসহায় রোগীরা। গাড়ির ভিতরে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে যেসব জিনিষ থাকার কথা সেসব কিছুই নেই। কিন্তু আমরা নিরুপায় হয়ে ভাড়া নেই। সুনামগঞ্জের অ্যাম্বুলেন্স মালিক সাকেরিন চৌধুরী বলেন, রোগীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা না হয় সেজন্য আমরা চালকদের নির্দেশনা দিয়েছি। প্রতি মাসেই বিনা ফিতে আমরা মালিকরা কিছু রোগী পরিবহন করি। তবে চালকরা কার সঙ্গে কি আচরণ করে এটা আমাদের জানা নেই। সুনামগঞ্জে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা এখন বন্ধের পথে বলে জানান তিনি। সুনামগঞ্জ বিআরটিএ’র ভারপ্রাপ্ত মোটরযান পরিদর্শন মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জ বিআরটিএ থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে কেউ রেজিস্ট্রেশন নেয়নি। আমরা অনুসন্ধান করে জেনেছি বিআরটিএ থেকে সাধারণ মাইক্রোবাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া কিছু গাড়িকে অ্যাম্বুলেন্সের আকৃতি দিয়ে রোগী পরিবহন করছে। আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি

দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি