সুনামগঞ্জ , রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ , ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি হাওরের জন্য জলবায়ু খাতে ১,২০০ কোটি টাকা, ফিরছে টাঙ্গুয়ার সহব্যবস্থাপনা প্রকল্প শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) মাজারের আয়ের টাকা কোথায় যায়, হিসেব চাইলো জেলা প্রশাসন হাওরাঞ্চলের জন্য ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, কোন খাতে কত দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব ইউরোপগামী পথে মৃত্যু থামছে না, পাঁচ মাসেই প্রাণহানি ১৩০০ ছাড়াল কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে, উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না ন্যায়বিচারের দাবি বাদীর, হয়রানির অভিযোগ এলাকাবাসীর বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস সুবিপ্রবি’র ভিসি অপসারণ ও স্থায়ী ক্যাম্পাস সদর উপজেলায় বাস্তবায়নের দাবি নির্যাতিত ৬ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আজ হাওরে আনন্দভ্রমণে যাচ্ছেন এমপি কামরুল আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
খালগুলো ভাটির কৃষি সভ্যতাকে এগিয়ে নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের মত

প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা থেকে গায়েব জেলার বহু খাল

  • আপলোড সময় : ১৯-০৮-২০২৫ ০৮:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-০৮-২০২৫ ০৯:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা থেকে গায়েব জেলার বহু খাল
শামস শামীম ::
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চলতি বছর জেলার খালের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
​​​​​
স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে খালগুলোর তালিকা সংগ্রহ করা হলেও জেলার অর্ধেক খালই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অভিজ্ঞজনরা জানিয়েছেন মৌজা ম্যাপ থেকেই সহজে খালগুলোর তালিকা বের করার সুযোগ ছিল। এতে খালের প্রকৃত সংখ্যা জানা যেতো। কিন্তু বর্তমানে যে তালিকা করা হয়েছে তা থেকে প্রতিটি উপজেলার বহু খাল বাদ পড়েছে। সরকারি তালিকা থেকে খালগুলো বাদ পড়ায় শুধু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চিহ্নই মুছবেনা কৃষি সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে এগিয়ে নেওয়া খালগুলো চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরীবিক্ষণ ও বাস্তবায়ন শাখায় ০৫.০৪৬.৯০০০.০০৮.০৯.৯৫০.২৫.২০৪ স্মারকে ২৭৪টি খালের একটি তালিকা পাঠিয়েছে। যেই তালিকায় বলা হয়েছে ‘সুনামগঞ্জ জেলার খাল সমূহের পূর্ণাঙ্গ তালিকা’। তবে কৃষক ও স্থানীয়রা বলছেন এই তালিকাটি খন্ডিত। কারণ প্রতিষ্ঠিত খাল এমনকি এখনো চিহ্ন রয়ে গেছে এমন খালগুলো তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। জেলা প্রশাসনের তালিকায় ১১টি উপজেলায় ২৭৪টি খালের তালিকা করে এটিকে ‘সুনামগঞ্জ জেলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক, অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মৌজা ম্যাপে অস্তিত্ব থাকলেও বহুখাল এই তালিকায় আসেনি।

প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ভিতর দিয়ে ধোপাখালি খাল, বলাইখালী (ষোলঘর), কামারখাল, তেঘরিয়া খাল ও বড়পাড়া খাল প্রবাহিত ছিল। তালিকা থেকে এগুলোও বাদ পড়েছে। জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুসারে দিরাই - ৫০, শান্তিগঞ্জ - ১৩, তাহিরপুর - ১৬, বিশ্বম্ভরপুর -৭, শাল্লা - ৩৯, ছাতক - ১৪, জগন্নাথপুর ২৫, সুনামগঞ্জ সদর ২২, দোয়ারাবাজার ৪৩, ধর্মপাশা ২৫, মধ্যনগর ৩ ও জামালগঞ্জের ১৮টি খাল তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরো বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রবীণ কৃষকরা। এছাড়াও সীমান্ত থেকে বহুল খাল ভাটিতে নেমে আসলেও সেগুলোর অধিকাংশই তালিকায় আসেনি।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর অজিখাল, লঞ্চঘাট খাল, জয়নগরের পূর্বের ধরনীর বাড়ির সামনের খাল, পৈন্দা খাল, মুড়ারবন্দের খাল, রাশনগরের খাল, গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী খাল, হবতপুর, ইনাতনগরের খাল ও টুকের বাজার খাল তালিকা থেকে বাদ গেছে। এভাবে সব উপজেলারই একাধিক খাল তালিকা থেকে বাদ গেছে। এই খালগুলো সরকারি তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মানে স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুছে যাওয়া বলে মনে করেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কৃষি সভ্যতাকে যুগ যুগ ধরে এগিয়ে নিতে এই খালগুলো ভূমিকা রেখেছে। তারা প্রকৃত খালগুলোর চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার দাবিও জানিয়েছেন।

হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের প্রবীণরা জানান, হাওরের জেলায় প্রতিটি হাওরের সঙ্গে বহু ছোট বড়ো খালের সংযোগ ছিল। প্রাকৃতিকভাবে এসব খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতো। পলি পড়ে, বাঁধ দিয়ে এসব খাল ভরাট করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খাল ভরাট করে লোকালয় ও বাসা বাড়ি গড়ে ওঠেছে। তবে সরকারি কাগজে ও মৌজা ম্যাপে খালগুলোর অস্তিত্ব এখনো রয়ে গেছে। এসব খাল দিয়ে বর্ষায় নৌকা চলাচল করতো। খাল হয়ে নদীগুলোতে এসে নৌকাগুলো যাতায়াত করতো। স্থানীয় কৃষিতে সেচ সুবিধাসহ মৎস্য উৎপাদনেও ভূমিকা রাখতো এসব খাল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, একসময় হাওরের সৌন্দর্য্য ছিল খালগুলো। প্রতিটি হাওরের সঙ্গেই খালের সংযোগ ছিল। এখন অধিকাংশ খালই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসন খালের যে তালিকা প্রস্তুত করেছে এটা প্রশংসনীয় কাজ। তবে এই কাজটি চিন্তা-ভাবনা করে, এলাকাভিত্তিক অভিজ্ঞজনদের পরামর্শে মৌজা ম্যাপ ফেলে সহজেই তালিকা বের করা সম্ভব ছিল। এতে কোন খালই বাদ পড়তোনা। কিন্তু এখন যে চূড়ান্ত তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে তা কোনক্রমেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়।
হাওর উন্নয়ন সংস্থা (হাউস)-এর নির্বাহী পরিচালক সালেহিন চৌধুরী শুভ বলেন, খালগুলো তালিকা থেকে বাদ পড়াকে স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে এই খালগুলো স্থানীয় কৃষি সভ্যতাকে যুগযুগ ধরে সচল রেখেছে। এক কথায় বলা যায় এই খালগুলো কৃষিসংস্কৃতির আদিপ্রাণ। তাই অবিলম্বে যেগুলো বাদ পড়েছে সেইগুলোকে পূর্ণাঙ্গ খালের তালিকায় যুক্ত করতে হবে। সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মুরশেদ আলম বলেন, জেলার খালগুলোর তালিকা স্থানীয় অভিজ্ঞ মানুষজনের সাথে পরামর্শ করে করলে ভালো হতো। কারণ খালের প্রবহমান বিবর্তন স্থানীয় মানুষরা দেখেছেন। এই খালগুলোর ভাটির জনজীবনে কেমন প্রভাব ছিল তারা জানেন। অবশ্যই তালিকা থেকে যে খালগুলো বাদ পড়েছে সেগুলো তালিকায় নিয়ে আসতে হবে। না হলে আমাদের ভাটির ভূমি বৈশিষ্ট্যের চরিত্র অপূর্ণ থেকে যাবে। ইতিহাসের কাছে দায়ি থেকে যাবো আমরা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জ জেলার যে খালগুলোর তালিকা করেছে তাতে আমাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেলে কাজ করতে আমাদেরও সুবিধা হবে। কিছু খাল খননের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে তালিকা পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যদি তালিকা থেকে কোন খালের নাম বাদ যায়, তাহলে আমরা পরবর্তীতে সেগুলো যুক্ত করে দেব। যেগুলো বাদ পড়েছে সেগুলোর নাম আমাদেরকে দিলে আমরা নতুন পূর্ণাঙ্গ তালিকায় যুক্ত করে নেব। পাশাপাশি যারা তালিকা তৈরিতে যুক্ত ছিলেন তাদেরকে এ বিষয়টি গভীরভাবে দেখার নির্দেশনা দেব।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম

সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম